ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং ইলিয়াস মোল্লাহর জমি–গাড়ি–মার্কেট–ফ্ল্যাট জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ড নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ময়মনসিংহে জনসভায় যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে দুই কিশোর আহত আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ‘চরম অপমান’: শফিকুর রহমান বাংলাদেশি‌দের জন্য ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের শ্রমমন্ত্রীর ‘আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর’ ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা সেই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

রাবির নামে নতুন ধান, কম সময়ে অধিক ফলন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নামে এবার উদ্ভাবন হলো নতুন জাতের ধান। সহজে ঝরবে না, রোগপ্রতিরোধ এবং কম সময়ে প্রচলিত ধানের তুলনায় হেক্টরপ্রতি এক থেকে দেড় টন বেশি উৎপাদন হবে এ ধান।

এমন আরও বেশকিছু নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে দেশে নতুন জাতের এ ধান উদ্ভাবন হয়েছে। রাবির এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল হক এ ধানের উদ্ভাবক। তিনিই এ নতুন জাতের নাম দেন ‘রা. বি. ধান ১’।

১৮ এপ্রিল ঢাকা বিএআরসি সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রদর্শন করা হয় ধানটি।

গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে চারটি নমুনা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ বছর আবারো সেই নমুনাগুলোর কাজ করতে হবে। আগামী নভেম্বরে নমুনা শেষে ডিসেম্বরে ধানের নতুন এ জাতের অনুমোদন দেবে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সিড বোর্ড ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিচার্স কাউন্সিল (বিএআরসি)।

ধানটির উদ্ভাবক অধ্যাপক আমিনুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালে এই ধানের অরিজিন ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়। তখন থেকেই তিনি গবেষণা চালিয়ে অনেক পরিশ্রমের ফলে ধানটি উদ্ভাবন করেছেন।

আমন ধানের জাত ‘ব্রি৩৯ ধান’ এর কাছাকাছি জাত ‘রা. বি. ধান-১’। এই ধান থেকে সরু মিনিকেট চাল উৎপন্ন হবে। যার বাজারমূল্য উন্নত মিনিকেট চালের সমান। তবে ব্রি৩৯ এর থেকে ১৫ দিন আগেই ‘রা. বি. ধান ১’ জমি থেকে উঠবে। ব্রি-৩৯ এর আবাদ উঠতে যেখানে ১৪৫ দিন সময় লাগে সেখানে ‘রা. বি. ধান ১’ এর আবাদ উঠতে সময় লাগবে ১২৬ থেকে ১৩০ দিন।

ব্রি ৩৯ এর চেয়ে এ নতুন জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি এক থেকে দেড় টন বেশি। বিঘাপ্রতি ধানটির ফলন হবে ২৪/২৫ মণ। ধানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না এবং ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। নতুন এ ধানে ব্লাস্ট ও ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইটরোধক জিন থাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন ধান আবিষ্কারের ইতিহাস এটাই প্রথম। তাই এ ধানের নাম ‘রা. বি. ধান ১’ রাখা হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই ভালোবাসার জায়গা থেকে এমন নাম রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে তা লাগিয়ে দেখা হয়। এবং ধানটির ৪০টি বৈশিষ্ট্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন ন্যাশনাল সিড বোর্ড ও বিএআরসির সদস্যরা। ফলাফল ও গুণ ঠিক থাকলে তবেই স্বীকৃতি মেলে।

সেই হিসাবে ২০১৪ সালের আমন মৌসুমে প্রথমবারের মতো ‘রাবি ধান ১’ দেশের দুটি স্থানে, ’১৫ সালে তিনটি স্থানে ও ’১৬ সালে চারটি স্থানে এবং ’১৭ সালে সাতটি স্থানে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়। প্রতিবারই ব্রি ৩৯ এর থেকে বেশি ফলন দিয়েছে। একই সঙ্গে চাষাবাদে বেশি উপযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়।

কিন্তু গতবছর তিনটি স্থানের নমুনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য এ বছর আবারো সেই নমুনাগুলো করা লাগবে। তবে ন্যাশনাল সিড বোর্ড ও বিএআরসি থেকে আমাকে বলা হয়েছে নভেম্বরে বাকি নমুনাগুলো শেষে ডিসেম্বরে ‘রা. বি. ধান ১’ স্বীকৃতি পাবে। এ বছর গাজীপুর, গোদাগাড়ী ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৫টি থেকে ৬টি নমুনা ধান চাষ করা হবে।

নতুন এ ধান চাষে চাষিদের সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করে ড. আমিনুল হক বলেন, ‘রা. বি. ১’ জাতের ধান চাষ করে বেশকিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন চাষিরা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের আলু চাষিরা আমন মৌসুমে এই ধান ঘরে তুলে আলুর আবাদ শুরু করার সময় পাবেন। এই ধানের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের থেকে অনেক কম হবে। ফলে চাষিদের কীটনাশক খরচ সাশ্রয় হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

রাবির নামে নতুন ধান, কম সময়ে অধিক ফলন

আপডেট সময় ১২:৩৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নামে এবার উদ্ভাবন হলো নতুন জাতের ধান। সহজে ঝরবে না, রোগপ্রতিরোধ এবং কম সময়ে প্রচলিত ধানের তুলনায় হেক্টরপ্রতি এক থেকে দেড় টন বেশি উৎপাদন হবে এ ধান।

এমন আরও বেশকিছু নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে দেশে নতুন জাতের এ ধান উদ্ভাবন হয়েছে। রাবির এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল হক এ ধানের উদ্ভাবক। তিনিই এ নতুন জাতের নাম দেন ‘রা. বি. ধান ১’।

১৮ এপ্রিল ঢাকা বিএআরসি সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রদর্শন করা হয় ধানটি।

গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে চারটি নমুনা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ বছর আবারো সেই নমুনাগুলোর কাজ করতে হবে। আগামী নভেম্বরে নমুনা শেষে ডিসেম্বরে ধানের নতুন এ জাতের অনুমোদন দেবে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সিড বোর্ড ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিচার্স কাউন্সিল (বিএআরসি)।

ধানটির উদ্ভাবক অধ্যাপক আমিনুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালে এই ধানের অরিজিন ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়। তখন থেকেই তিনি গবেষণা চালিয়ে অনেক পরিশ্রমের ফলে ধানটি উদ্ভাবন করেছেন।

আমন ধানের জাত ‘ব্রি৩৯ ধান’ এর কাছাকাছি জাত ‘রা. বি. ধান-১’। এই ধান থেকে সরু মিনিকেট চাল উৎপন্ন হবে। যার বাজারমূল্য উন্নত মিনিকেট চালের সমান। তবে ব্রি৩৯ এর থেকে ১৫ দিন আগেই ‘রা. বি. ধান ১’ জমি থেকে উঠবে। ব্রি-৩৯ এর আবাদ উঠতে যেখানে ১৪৫ দিন সময় লাগে সেখানে ‘রা. বি. ধান ১’ এর আবাদ উঠতে সময় লাগবে ১২৬ থেকে ১৩০ দিন।

ব্রি ৩৯ এর চেয়ে এ নতুন জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি এক থেকে দেড় টন বেশি। বিঘাপ্রতি ধানটির ফলন হবে ২৪/২৫ মণ। ধানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না এবং ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। নতুন এ ধানে ব্লাস্ট ও ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইটরোধক জিন থাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন ধান আবিষ্কারের ইতিহাস এটাই প্রথম। তাই এ ধানের নাম ‘রা. বি. ধান ১’ রাখা হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই ভালোবাসার জায়গা থেকে এমন নাম রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে তা লাগিয়ে দেখা হয়। এবং ধানটির ৪০টি বৈশিষ্ট্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন ন্যাশনাল সিড বোর্ড ও বিএআরসির সদস্যরা। ফলাফল ও গুণ ঠিক থাকলে তবেই স্বীকৃতি মেলে।

সেই হিসাবে ২০১৪ সালের আমন মৌসুমে প্রথমবারের মতো ‘রাবি ধান ১’ দেশের দুটি স্থানে, ’১৫ সালে তিনটি স্থানে ও ’১৬ সালে চারটি স্থানে এবং ’১৭ সালে সাতটি স্থানে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়। প্রতিবারই ব্রি ৩৯ এর থেকে বেশি ফলন দিয়েছে। একই সঙ্গে চাষাবাদে বেশি উপযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়।

কিন্তু গতবছর তিনটি স্থানের নমুনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য এ বছর আবারো সেই নমুনাগুলো করা লাগবে। তবে ন্যাশনাল সিড বোর্ড ও বিএআরসি থেকে আমাকে বলা হয়েছে নভেম্বরে বাকি নমুনাগুলো শেষে ডিসেম্বরে ‘রা. বি. ধান ১’ স্বীকৃতি পাবে। এ বছর গাজীপুর, গোদাগাড়ী ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৫টি থেকে ৬টি নমুনা ধান চাষ করা হবে।

নতুন এ ধান চাষে চাষিদের সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করে ড. আমিনুল হক বলেন, ‘রা. বি. ১’ জাতের ধান চাষ করে বেশকিছু বাড়তি সুবিধা পাবেন চাষিরা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের আলু চাষিরা আমন মৌসুমে এই ধান ঘরে তুলে আলুর আবাদ শুরু করার সময় পাবেন। এই ধানের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের থেকে অনেক কম হবে। ফলে চাষিদের কীটনাশক খরচ সাশ্রয় হবে।