ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

রাজনীতিবিদরা আর শ্রমিকদের কথা বলে না: আফসান চৌধুরী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজনীতিবিদরা আর শ্রমিকদের কথা বলে না বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক, গবেষক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যে শ্রমিক সংগঠনগুলো আগে শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলতো, এখন তারা এতই দুর্বল যে শ্রমিকদের নিয়ে আর কথা বলে না।’

সোমবার রাত ১২টায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মীর মাসরুর জামান।

আফসান চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিতে এখন যে প্রক্রিয়া চলছে বা যে অবস্থায় রাজনীতি হচ্ছে তাতে শ্রমিকরা বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তি না। যদি না তাদের দেশ অচল করে দেয়ার শক্তি থাকে বা সরকার বা বিরোধীদল এই শ্রমিক গোষ্ঠীর উপরে নির্ভরশীল হয়।’

বিশিষ্ট এই গবেষক বলেন, ‘শ্রমিককে আলাদাভাবে না দেখে শ্রমিককে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেখতে হবে। দেখতে হবে নিম্নবিত্তদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না। অতি দারিদ্রের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাদের সংখ্যাটা কমে গেছে। কিন্তু শ্রমিকরা যে শ্রেণির মধ্যে পড়ে সেটার উন্নতি কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। আমাদের দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যদি আপনি দেখেন তবে দেখবেন যে আগে যে বেতন পেত সেটি বেড়েছে। তবে সেটা পর্যাপ্ত বেতন কি না সেটাও ভাবার বিষয়। তারা ন্যায্য বেতন পাচ্ছেন কি না সেটাও জানবার বিষয়।’

‘প্রশ্ন জাগে কোন শ্রমিক গোষ্ঠী আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে ভালো আছে? আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে ভালো আছে সড়ক শ্রমিকরা। তাদেরকে হাত দেয়ার কারো সাহস হয় না। রাজনীতিতে যেহেতু তাদের বড় ভূমিকা আছে তাই তারা উন্নতিতে থাকবে। তাই বলে সকল শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে সেটা আমরা বলতে পারি না। বিশেষ নারী নারী শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি।’

সরকারি খাতের শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে ভালো আছে উল্লেখ করে আফসান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি শ্রমিকরা অন্যান্য শ্রমিকদের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। তারা অন্যদের তুলনায় ভালোও আছে। তবে বেসরকারি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকরা কতটা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেটাও দেখতে হবে।’

‘যেহেতু নিম্নমধ্যবিত্ত ও শ্রমিকদের একটা কাঠামোর মধ্যে এখনও আনা যায়নি তাই বলবো শ্রমিকদের ন্যায্য মুজুরি দেয়া বা তাদের পারিশ্রমিক দেয়ার ক্ষেত্রে একটা সংকট রয়েই গেছে। সংকট নিরসনে সংগ্রাম নিশ্চয়ই চলবে।’

দেশে শ্রমিকদের কিছু ট্রাজেডির কথা আমরা সকলেই জানি। এসব ট্রাজেডির কারণে আন্তর্জাতিক মহল আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এজন্য শ্রমিকদের উন্নত কর্মপরিবেশ এবং তাদেরকে একটা কাঠামোতে আনার জন্য চিন্তাভাবনা চলছে। এ নিয়ে আফসান চৌধুরীর কাছে মন্তব্য জানতে চান সঞ্চালক।

জবাবে আফসান চৌধুরী বলেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যেটা হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলেছে তারা আমাদের দেশের তৈরি পোশাক কিনবেন না। কারণে তারা বলছেন আমরা শ্রমিকের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারিনি। তাদের লোক এসেছে এই দুর্ঘটনা দেখতে। তারা এ নিয়ে সরকারের প্রতি চাপও সৃষ্টি করেছে। এতে করে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। কিন্তু তাদের যতটা ন্যায্য পরিশ্রমিক ও সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন সেটা তারা পাননি। এজন্য একটা বৈষম্য তৈরি হয়েছে।’

বিশিষ্ট এই গবেষক বলেন, ‘নগরের বড়লোকদের যে রুজি আর শ্রমিকদের যে রুচি তার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সমাজের উপরের স্তরের মানুষদের মধ্যে পাঁচভাগের বেতন মাসে দুই লাখ টাকার বেশি। সেখানে ৩০ ভাগ মানুষের বেশি আছেন তাদের বেতন আট হাজার টাকার কম। এই বৈষম্য যেই সমাজে থাকতে পারে সেখানে শ্রমিকদের অবস্থা ভালো থাকবে এটা বলা যাচ্ছে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

রাজনীতিবিদরা আর শ্রমিকদের কথা বলে না: আফসান চৌধুরী

আপডেট সময় ১২:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজনীতিবিদরা আর শ্রমিকদের কথা বলে না বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক, গবেষক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যে শ্রমিক সংগঠনগুলো আগে শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলতো, এখন তারা এতই দুর্বল যে শ্রমিকদের নিয়ে আর কথা বলে না।’

সোমবার রাত ১২টায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মীর মাসরুর জামান।

আফসান চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিতে এখন যে প্রক্রিয়া চলছে বা যে অবস্থায় রাজনীতি হচ্ছে তাতে শ্রমিকরা বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তি না। যদি না তাদের দেশ অচল করে দেয়ার শক্তি থাকে বা সরকার বা বিরোধীদল এই শ্রমিক গোষ্ঠীর উপরে নির্ভরশীল হয়।’

বিশিষ্ট এই গবেষক বলেন, ‘শ্রমিককে আলাদাভাবে না দেখে শ্রমিককে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেখতে হবে। দেখতে হবে নিম্নবিত্তদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না। অতি দারিদ্রের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাদের সংখ্যাটা কমে গেছে। কিন্তু শ্রমিকরা যে শ্রেণির মধ্যে পড়ে সেটার উন্নতি কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। আমাদের দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের যদি আপনি দেখেন তবে দেখবেন যে আগে যে বেতন পেত সেটি বেড়েছে। তবে সেটা পর্যাপ্ত বেতন কি না সেটাও ভাবার বিষয়। তারা ন্যায্য বেতন পাচ্ছেন কি না সেটাও জানবার বিষয়।’

‘প্রশ্ন জাগে কোন শ্রমিক গোষ্ঠী আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে ভালো আছে? আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে ভালো আছে সড়ক শ্রমিকরা। তাদেরকে হাত দেয়ার কারো সাহস হয় না। রাজনীতিতে যেহেতু তাদের বড় ভূমিকা আছে তাই তারা উন্নতিতে থাকবে। তাই বলে সকল শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে সেটা আমরা বলতে পারি না। বিশেষ নারী নারী শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি।’

সরকারি খাতের শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে ভালো আছে উল্লেখ করে আফসান চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি শ্রমিকরা অন্যান্য শ্রমিকদের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। তারা অন্যদের তুলনায় ভালোও আছে। তবে বেসরকারি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকরা কতটা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেটাও দেখতে হবে।’

‘যেহেতু নিম্নমধ্যবিত্ত ও শ্রমিকদের একটা কাঠামোর মধ্যে এখনও আনা যায়নি তাই বলবো শ্রমিকদের ন্যায্য মুজুরি দেয়া বা তাদের পারিশ্রমিক দেয়ার ক্ষেত্রে একটা সংকট রয়েই গেছে। সংকট নিরসনে সংগ্রাম নিশ্চয়ই চলবে।’

দেশে শ্রমিকদের কিছু ট্রাজেডির কথা আমরা সকলেই জানি। এসব ট্রাজেডির কারণে আন্তর্জাতিক মহল আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এজন্য শ্রমিকদের উন্নত কর্মপরিবেশ এবং তাদেরকে একটা কাঠামোতে আনার জন্য চিন্তাভাবনা চলছে। এ নিয়ে আফসান চৌধুরীর কাছে মন্তব্য জানতে চান সঞ্চালক।

জবাবে আফসান চৌধুরী বলেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যেটা হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলেছে তারা আমাদের দেশের তৈরি পোশাক কিনবেন না। কারণে তারা বলছেন আমরা শ্রমিকের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারিনি। তাদের লোক এসেছে এই দুর্ঘটনা দেখতে। তারা এ নিয়ে সরকারের প্রতি চাপও সৃষ্টি করেছে। এতে করে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। কিন্তু তাদের যতটা ন্যায্য পরিশ্রমিক ও সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন সেটা তারা পাননি। এজন্য একটা বৈষম্য তৈরি হয়েছে।’

বিশিষ্ট এই গবেষক বলেন, ‘নগরের বড়লোকদের যে রুজি আর শ্রমিকদের যে রুচি তার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সমাজের উপরের স্তরের মানুষদের মধ্যে পাঁচভাগের বেতন মাসে দুই লাখ টাকার বেশি। সেখানে ৩০ ভাগ মানুষের বেশি আছেন তাদের বেতন আট হাজার টাকার কম। এই বৈষম্য যেই সমাজে থাকতে পারে সেখানে শ্রমিকদের অবস্থা ভালো থাকবে এটা বলা যাচ্ছে না।’