ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ভোররাতের আগুনে পুড়েছে দিল্লির একমাত্র রোহিঙ্গা শিবির

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে কেউ একজন এসে মোহাম্মদ জাফরের ঘরের দরজায় আঘাত করেন। ৩৫ বছর বয়সী এ রিকশাচালক তার বস্তিঘরের দরজা খুলে দেখেন তার দুই প্রতিবেশী শাকির ও আব্দুল্লাহ দাঁড়িয়ে আছেন, ভয়ে তাদের মুখ ফ্যাকাসে, তাদের পেছনে আগুনের লেলিহান শিখা।

জাফর তার তিন সন্তান ও স্ত্রীকে ডাকাডাকি করতে গেল শাকিরও দৌড়ে অন্যদের ঘরের দরজায় গিয়ে সবাইকে বেরিয়ে আসার জন্য চিৎকার করতে থাকেন। তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন নয়া দিল্লি।

আগুনের বিবরণ দিতে গিয়ে জাফর বলেন, পরনের লুঙ্গিতে আগুন লাগা অবস্থায় উলঙ্গ লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছিলেন।

অধিবাসীরা জানান, রোববার ২০ মিনিটের মধ্যে দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় কালিন্দি কুঞ্জ লোকাইতে অবস্থিত এই রোহিঙ্গা শিরিবটি পুড়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এখানে বস্তিঘর ছিল ৪৬টি। মাত্র দুজন সামান্য আহত হলেও বেশিরভাগ পরিবার তাদের প্রায় সব কিছু হারিয়েছে। এমনকি তাদের কাগজপত্রও আগুনে পুড়ে গেছে। খবর সাউথ এশিয়ান মনিটরের।

জাফর বলেন, ‘কিছুই বাঁচানো যায়নি- টাকা, কাপড়, জরুরি জিনিসপত্র, এমনকি পরিচয়পত্রগুলোও।’

আগুন লাগার ৩০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। আগুন পুরোপুরি নেভাতে দুই ঘণ্টা লেগে যায়। কিন্তু বিকালের দিকেও পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কেউ এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয় করতে পারেনি।

২০১২ সালে এই রোহিঙ্গা শিবিরটি গড়ে ওঠে। একটি এনজিও তার নিজস্ব জায়গায় এটি প্রতিষ্ঠা করে। এর অধিবাসী সংখ্যা ২২৬ জন, যাদের মধ্যে ১০০ নারী ও ৫০টি শিশু রয়েছে।

দিল্লিতে আরও শত শত রোহিঙ্গা বাস করলেও কালিন্দি কুঞ্জ হল রহিঙ্গাদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত একমাত্র শিবির। রোহিঙ্গাদের অনেকে কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি ভাড়া বাসায় থাকে।

ক্যাম্পের বাইরে থাকা বেশিরভাগ উদ্বাস্তু দিনমজুর। তবে কালিন্দি কুঞ্জ শিবিরের বেশিরভাগ অধিবাসী বয়স্ক ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের স্থিতিশীল কর্মসংস্থান রয়েছে। কেউ কেউ শিবিরের কাছাকাছি ছোটখাটো দোকান চালায়। জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলোর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিল্লিতে চলে এসেছে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার। বাংলাদেশ থেকেও এসেছে কেউ কেউ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আসল অবস্থা সম্পর্কে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বেখবর, তারা এদের বাংলাদেশি উদ্বাস্তু বলে মনে করে।

শিবিরের একেবারে উত্তর কোনা থেকে রোববারের আগুনের সূত্রপাত। সেখানে বস্তিবাসীর গোসলের জায়গা। পাশে মাদ্রাসার ছোট্ট একটি টিনের ঘর। রোববার বিকাল পর্যন্ত এলাকার কেউ বলতে পারেনি কেন আগুন লেগেছে।

গত ছয় বছরে এ শিবিরে এ নিয়ে চারবার আগুন লেগেছে বলে অধিবাসীরা জানান। প্রথম আগুন লেগেছিল ২০১২ সালে, একটি ঘরের হিটার থেকে। দ্বিতীয়বার আগুন লাগে ২০১৬ সালে, আধপোড়া বিড়ি থেকে এই আগুন লাগে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৭ সালে আগুন লাগে এক রাজনৈতিক কর্মী জোহরের ঘর থেকে। যদিও সেখানে আগুন লাগার মতো কোনো কারণ ছিল না। এবারের কারণটি একেবারেই অজানা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

ভোররাতের আগুনে পুড়েছে দিল্লির একমাত্র রোহিঙ্গা শিবির

আপডেট সময় ০২:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে কেউ একজন এসে মোহাম্মদ জাফরের ঘরের দরজায় আঘাত করেন। ৩৫ বছর বয়সী এ রিকশাচালক তার বস্তিঘরের দরজা খুলে দেখেন তার দুই প্রতিবেশী শাকির ও আব্দুল্লাহ দাঁড়িয়ে আছেন, ভয়ে তাদের মুখ ফ্যাকাসে, তাদের পেছনে আগুনের লেলিহান শিখা।

জাফর তার তিন সন্তান ও স্ত্রীকে ডাকাডাকি করতে গেল শাকিরও দৌড়ে অন্যদের ঘরের দরজায় গিয়ে সবাইকে বেরিয়ে আসার জন্য চিৎকার করতে থাকেন। তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন নয়া দিল্লি।

আগুনের বিবরণ দিতে গিয়ে জাফর বলেন, পরনের লুঙ্গিতে আগুন লাগা অবস্থায় উলঙ্গ লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছিলেন।

অধিবাসীরা জানান, রোববার ২০ মিনিটের মধ্যে দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় কালিন্দি কুঞ্জ লোকাইতে অবস্থিত এই রোহিঙ্গা শিরিবটি পুড়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এখানে বস্তিঘর ছিল ৪৬টি। মাত্র দুজন সামান্য আহত হলেও বেশিরভাগ পরিবার তাদের প্রায় সব কিছু হারিয়েছে। এমনকি তাদের কাগজপত্রও আগুনে পুড়ে গেছে। খবর সাউথ এশিয়ান মনিটরের।

জাফর বলেন, ‘কিছুই বাঁচানো যায়নি- টাকা, কাপড়, জরুরি জিনিসপত্র, এমনকি পরিচয়পত্রগুলোও।’

আগুন লাগার ৩০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। আগুন পুরোপুরি নেভাতে দুই ঘণ্টা লেগে যায়। কিন্তু বিকালের দিকেও পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কেউ এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয় করতে পারেনি।

২০১২ সালে এই রোহিঙ্গা শিবিরটি গড়ে ওঠে। একটি এনজিও তার নিজস্ব জায়গায় এটি প্রতিষ্ঠা করে। এর অধিবাসী সংখ্যা ২২৬ জন, যাদের মধ্যে ১০০ নারী ও ৫০টি শিশু রয়েছে।

দিল্লিতে আরও শত শত রোহিঙ্গা বাস করলেও কালিন্দি কুঞ্জ হল রহিঙ্গাদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত একমাত্র শিবির। রোহিঙ্গাদের অনেকে কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি ভাড়া বাসায় থাকে।

ক্যাম্পের বাইরে থাকা বেশিরভাগ উদ্বাস্তু দিনমজুর। তবে কালিন্দি কুঞ্জ শিবিরের বেশিরভাগ অধিবাসী বয়স্ক ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের স্থিতিশীল কর্মসংস্থান রয়েছে। কেউ কেউ শিবিরের কাছাকাছি ছোটখাটো দোকান চালায়। জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলোর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিল্লিতে চলে এসেছে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার। বাংলাদেশ থেকেও এসেছে কেউ কেউ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের আসল অবস্থা সম্পর্কে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বেখবর, তারা এদের বাংলাদেশি উদ্বাস্তু বলে মনে করে।

শিবিরের একেবারে উত্তর কোনা থেকে রোববারের আগুনের সূত্রপাত। সেখানে বস্তিবাসীর গোসলের জায়গা। পাশে মাদ্রাসার ছোট্ট একটি টিনের ঘর। রোববার বিকাল পর্যন্ত এলাকার কেউ বলতে পারেনি কেন আগুন লেগেছে।

গত ছয় বছরে এ শিবিরে এ নিয়ে চারবার আগুন লেগেছে বলে অধিবাসীরা জানান। প্রথম আগুন লেগেছিল ২০১২ সালে, একটি ঘরের হিটার থেকে। দ্বিতীয়বার আগুন লাগে ২০১৬ সালে, আধপোড়া বিড়ি থেকে এই আগুন লাগে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৭ সালে আগুন লাগে এক রাজনৈতিক কর্মী জোহরের ঘর থেকে। যদিও সেখানে আগুন লাগার মতো কোনো কারণ ছিল না। এবারের কারণটি একেবারেই অজানা।