ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে : ড্যান মজিনা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন ‘অনিবার্য কারণে’ জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বিএনপির মন খারাপের কিছু নেই: শামসুল হুদা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা করে ভোট চাওয়া নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন বলে বিএনপির অভিযোগের মধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, এতে নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন হয় না। সব সময় প্রধানমন্ত্রীরা এটা করে এসেছেন। এটি ক্ষমতায় থাকার সুবিধা। এতে মন খারাপ করার কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-পিআইবি আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন পরিচালনাকারী নির্বাচন কমিশনের প্রধান এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য তিন দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করা হয় নির্বাচন বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির প্রশিক্ষণ দিতে।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটে জনসভা করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ৪ মার্চ খুলনা, ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম, এবং ১ এপ্রিল চাঁদপুরে জনসভা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা যেমন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন, তেমনি তিনি আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। আর বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে ভোট চাওয়ার অধিকার তার আছে।

বিএনপি সিলেটের জনসভার পর নির্বাচন কমিশনকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘থামাতে’ চিঠিও দিয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা কি আসলেই নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন?- জানতে চাইলে সাবেক সিইসি শামসুল হুদা বলেন, ‘এইটা তো মুশকিল। জনগণের কাজ আর দলের কাজ বিচ্ছিন্ন করে দেখা মুশকিল। এটা দেখা যায় না। এটা আমি এইভাবে দেখছি যে, এইটা ক্ষমতায় থাকার একটা সুবিধা। যে দল যখন ক্ষমতায় যাবে, তারা এই সুবিধা নেবে। এইটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একইভাবে বিএনপির জনসভায় অংশ নিয়ে নির্বাচনী বছরে তফসিল ঘোষণার আগেই ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন।

তবে বিএনপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধা ব্যবহার করে দলের হয়ে ভোট চাইতে পারনে না।

তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে না বলে নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের বক্তব্যে সায় দিয়েছেন সাবেক সিইসিও। তিনি বলেন, ‘সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন এসব বিষয়ে তদারকি করতে পারে। তার আগে এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ কমিশনের নেই।’

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে-এমন প্রশ্নে শামসুল হুদা বলেন, ‘এটি কিন্তু নির্ভর কন্ডিশনের উপর। সব দলকে অবশ্যই নির্বাচনে আসতে হবে। এটি না হলে বিকৃত একটি নির্বাচন হয়। যেটা কারো কাম্য নয়।’

‘এখানে প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। সরকারের এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত বা এমন কোনো কাজ করা উচিত হবে না, যা অন্য দলকে প্রভাবিত করে। এছাড়া নির্বাচন বয়কট করাও বন্ধ হওয়া উচিত।’

অন্য এক প্রশ্নে সাবেক সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঠিক থাকলেই নির্বাচন ঠিক থাকবে এটা ঠিক নয়। এখানে অনেক স্টেকহোল্ডার আছে। তাদেরও দায়িত্ব আছে। এখানে ভোটারদের দায়িত্ব আছে, সরকার আছে, বিচার বিভাগ আছে, মিডিয়া আছে, পর্যবেক্ষকসহ আন্তর্জাতিক মাধ্যম আছে। সবাই ভালোভাবে কাজ করলে সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব।’

‘ভালো নির্বাচন হতে হলে জনগণকে ভোট দিতে আসতে হবে। যে নির্বাচনে ৩০ শতাংশের কম ভোট দিতে আসে সেখানেই সমস্যা। তাই যারা নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করতে চায় তারা ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়। তারা চায় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে না আসতে পারে।’

সরকারি দল জনসভা করলেও বিএনপি রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নে সাবেক সিইসি বলেন, ‘এটা খারাপ। কাউকে কাউকে অনুমতি দিলেন আর কাউকে কাউকে দিলেন না। তাহলে তো লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকল না।’

তবে রাস্তায় কোনো ধরনের সভা সমাবেশ পছন্দ করেন না শামসুল হুদা। বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বলছি, রাস্তার উপরে মিছিল, মিটিং, শোক সভা, আনন্দ মিছিল ইত্যাদি করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে অনেক অসুবিধা হয়। এখন এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত।’

‘দেশের অর্থনীতির চাকাকে বন্ধ করে দিয়ে রাস্তায় এসব না করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের এখন থেকেই ভেবে দেখা দরকার।’

প্রশিক্ষণের প্রথম দিন সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বিএনপির মন খারাপের কিছু নেই: শামসুল হুদা

আপডেট সময় ১০:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা করে ভোট চাওয়া নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন বলে বিএনপির অভিযোগের মধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, এতে নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন হয় না। সব সময় প্রধানমন্ত্রীরা এটা করে এসেছেন। এটি ক্ষমতায় থাকার সুবিধা। এতে মন খারাপ করার কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-পিআইবি আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন পরিচালনাকারী নির্বাচন কমিশনের প্রধান এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য তিন দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করা হয় নির্বাচন বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির প্রশিক্ষণ দিতে।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটে জনসভা করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ৪ মার্চ খুলনা, ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম, এবং ১ এপ্রিল চাঁদপুরে জনসভা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা যেমন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন, তেমনি তিনি আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। আর বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে ভোট চাওয়ার অধিকার তার আছে।

বিএনপি সিলেটের জনসভার পর নির্বাচন কমিশনকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘থামাতে’ চিঠিও দিয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা কি আসলেই নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন?- জানতে চাইলে সাবেক সিইসি শামসুল হুদা বলেন, ‘এইটা তো মুশকিল। জনগণের কাজ আর দলের কাজ বিচ্ছিন্ন করে দেখা মুশকিল। এটা দেখা যায় না। এটা আমি এইভাবে দেখছি যে, এইটা ক্ষমতায় থাকার একটা সুবিধা। যে দল যখন ক্ষমতায় যাবে, তারা এই সুবিধা নেবে। এইটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একইভাবে বিএনপির জনসভায় অংশ নিয়ে নির্বাচনী বছরে তফসিল ঘোষণার আগেই ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন।

তবে বিএনপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধা ব্যবহার করে দলের হয়ে ভোট চাইতে পারনে না।

তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে না বলে নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের বক্তব্যে সায় দিয়েছেন সাবেক সিইসিও। তিনি বলেন, ‘সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন এসব বিষয়ে তদারকি করতে পারে। তার আগে এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ কমিশনের নেই।’

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে-এমন প্রশ্নে শামসুল হুদা বলেন, ‘এটি কিন্তু নির্ভর কন্ডিশনের উপর। সব দলকে অবশ্যই নির্বাচনে আসতে হবে। এটি না হলে বিকৃত একটি নির্বাচন হয়। যেটা কারো কাম্য নয়।’

‘এখানে প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। সরকারের এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত বা এমন কোনো কাজ করা উচিত হবে না, যা অন্য দলকে প্রভাবিত করে। এছাড়া নির্বাচন বয়কট করাও বন্ধ হওয়া উচিত।’

অন্য এক প্রশ্নে সাবেক সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঠিক থাকলেই নির্বাচন ঠিক থাকবে এটা ঠিক নয়। এখানে অনেক স্টেকহোল্ডার আছে। তাদেরও দায়িত্ব আছে। এখানে ভোটারদের দায়িত্ব আছে, সরকার আছে, বিচার বিভাগ আছে, মিডিয়া আছে, পর্যবেক্ষকসহ আন্তর্জাতিক মাধ্যম আছে। সবাই ভালোভাবে কাজ করলে সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব।’

‘ভালো নির্বাচন হতে হলে জনগণকে ভোট দিতে আসতে হবে। যে নির্বাচনে ৩০ শতাংশের কম ভোট দিতে আসে সেখানেই সমস্যা। তাই যারা নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি করতে চায় তারা ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়। তারা চায় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে না আসতে পারে।’

সরকারি দল জনসভা করলেও বিএনপি রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব কি না- এমন প্রশ্নে সাবেক সিইসি বলেন, ‘এটা খারাপ। কাউকে কাউকে অনুমতি দিলেন আর কাউকে কাউকে দিলেন না। তাহলে তো লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকল না।’

তবে রাস্তায় কোনো ধরনের সভা সমাবেশ পছন্দ করেন না শামসুল হুদা। বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বলছি, রাস্তার উপরে মিছিল, মিটিং, শোক সভা, আনন্দ মিছিল ইত্যাদি করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে অনেক অসুবিধা হয়। এখন এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত।’

‘দেশের অর্থনীতির চাকাকে বন্ধ করে দিয়ে রাস্তায় এসব না করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের এখন থেকেই ভেবে দেখা দরকার।’

প্রশিক্ষণের প্রথম দিন সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর।