ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে: মাহদী আমিন মাদকের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পদত্যাগ করব: এমপি মনিরুল হক দেশের রিজার্ভে ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল ইসরায়েলকে লেবানন ছাড়তে হবে: হিজবুল্লাহ প্রধান বনানীতে নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা ৫০ হাজার জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলা, জাতিসংঘের উদ্ধারকাজ স্থগিত গুলি করে ছোট ভাইকে হত্যা, ৮ বছর পর বোন গ্রেফতার বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

অনুসন্ধান করেন, কিন্তু পত্রিকায় দেন কেন: মওদুদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহভাজন লেনদেনের তথ্য তদন্তের আগে কীভাবে তা পত্রিকায় প্রকাশ হলো তা জানতে চেয়েছেন মওদুদ আহমদ।

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, সেটি কখনও আদালতে প্রমাণ হবে না দাবি করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এও বলেন, এসব অভিযোগ তোলার মূল উদ্দেশ্য বদনাম করা।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন মওদুদ আহমদ।

বিএনপির আট শীর্ষ নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু এবং বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের হিসাবের তথ্য জানতে চিঠি দেয়ার বিষয়ে এ কথা বলেন সাবেক আইনমন্ত্রী।

একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিএনপির আট নেতা গত ৩০ দিনে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। ওই খবর অনুযায়ী এই অর্থ নাশকতায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এই অভিযোগ এসেছে ‍দুদকেও আর গত ২ এপ্রিল বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিণ্টু, তার ছেলে তাবিথ আউয়াল, মোর্শেদ খান এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

মওদুদ বলেন, ‘আপনারা অনুসন্ধান করতে চান, করেন। তা না করে পত্র-পত্রিকায় দেন কেনো? তার মানে আপনাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাই আপনারা পত্র-পত্রিকায় ছাপিয়ে রায় দিতে পারেন।’

‘আপনাদের উদ্দেশ্য হলো চরিত্র হনন করা ও রাজনৈতিক নেতাদের শেষ করে দেওয়া। যত চেষ্টাই হোক এগুলো আইন আদালতের বারান্দায় যাবে না। কারণ, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

বিএনপি ও বিরোধী মতকে দমন করার জন্য সরকার দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ মওদুদের। বলেন, ‘এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোনো ক্ষতি করে থাকলে তা হলো: বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

‘দুদক গঠন করা হয়েছিল সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য। আজকে দুদক হয়ে গেছে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান।’

‘নিম্ন আদালত তো চলে সরকারের ম্যাজিস্ট্রেসি আইনে। শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর ভরসা করতাম। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। তাহলে কীভাবে ভরসা করব যে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করবে?’

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু আইনি লড়াইয়ে মুক্ত করা যাবে না বলেও মনে করেন মওদুদ। এ জন্য রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চিত করবে রাজপথে, আদালতে যদি না পারি।’

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না জানিয়ে মওদুদ বলেন, ‘খালেদার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রশ্ন না করাই ভালো। আগে তার মুক্তি নিশ্চিত করব, তারপর নির্বাচনে অংশ নেব।’

খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাননি অভিযোগ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের আমলে বিচারের আগে রায় হয়ে যায়। মামলা চলমান অবস্থায় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খালেদা জিয়া চোর। আমরা একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করি নাই।’

অপরাজেয় বাংলাদেশের সভাপতি ফরিদা মনি শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, সাবেক সংসদ সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

অনুসন্ধান করেন, কিন্তু পত্রিকায় দেন কেন: মওদুদ

আপডেট সময় ০৯:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহভাজন লেনদেনের তথ্য তদন্তের আগে কীভাবে তা পত্রিকায় প্রকাশ হলো তা জানতে চেয়েছেন মওদুদ আহমদ।

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে, সেটি কখনও আদালতে প্রমাণ হবে না দাবি করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এও বলেন, এসব অভিযোগ তোলার মূল উদ্দেশ্য বদনাম করা।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন মওদুদ আহমদ।

বিএনপির আট শীর্ষ নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু এবং বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের হিসাবের তথ্য জানতে চিঠি দেয়ার বিষয়ে এ কথা বলেন সাবেক আইনমন্ত্রী।

একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিএনপির আট নেতা গত ৩০ দিনে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। ওই খবর অনুযায়ী এই অর্থ নাশকতায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এই অভিযোগ এসেছে ‍দুদকেও আর গত ২ এপ্রিল বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিণ্টু, তার ছেলে তাবিথ আউয়াল, মোর্শেদ খান এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

মওদুদ বলেন, ‘আপনারা অনুসন্ধান করতে চান, করেন। তা না করে পত্র-পত্রিকায় দেন কেনো? তার মানে আপনাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাই আপনারা পত্র-পত্রিকায় ছাপিয়ে রায় দিতে পারেন।’

‘আপনাদের উদ্দেশ্য হলো চরিত্র হনন করা ও রাজনৈতিক নেতাদের শেষ করে দেওয়া। যত চেষ্টাই হোক এগুলো আইন আদালতের বারান্দায় যাবে না। কারণ, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

বিএনপি ও বিরোধী মতকে দমন করার জন্য সরকার দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ মওদুদের। বলেন, ‘এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোনো ক্ষতি করে থাকলে তা হলো: বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

‘দুদক গঠন করা হয়েছিল সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য। আজকে দুদক হয়ে গেছে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান।’

‘নিম্ন আদালত তো চলে সরকারের ম্যাজিস্ট্রেসি আইনে। শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর ভরসা করতাম। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। তাহলে কীভাবে ভরসা করব যে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করবে?’

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শুধু আইনি লড়াইয়ে মুক্ত করা যাবে না বলেও মনে করেন মওদুদ। এ জন্য রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চিত করবে রাজপথে, আদালতে যদি না পারি।’

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না জানিয়ে মওদুদ বলেন, ‘খালেদার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রশ্ন না করাই ভালো। আগে তার মুক্তি নিশ্চিত করব, তারপর নির্বাচনে অংশ নেব।’

খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাননি অভিযোগ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের আমলে বিচারের আগে রায় হয়ে যায়। মামলা চলমান অবস্থায় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খালেদা জিয়া চোর। আমরা একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করি নাই।’

অপরাজেয় বাংলাদেশের সভাপতি ফরিদা মনি শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, সাবেক সংসদ সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।