ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েলকে লেবানন ছাড়তে হবে: হিজবুল্লাহ প্রধান বনানীতে নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা ৫০ হাজার জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ড্রোন হামলা, জাতিসংঘের উদ্ধারকাজ স্থগিত গুলি করে ছোট ভাইকে হত্যা, ৮ বছর পর বোন গ্রেফতার বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সংগঠকদের দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে: এবি পার্টির চেয়ারম্যান সংস্কার ও সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সরকার: জামায়াত আমির একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা স্কুলছাত্র গুলি খাবে এরপরেও আপনি ওসি থাকবেন, এটা ঠিক না: মনিরুল হক চৌধুরী

আঁরে চিনছেন নি, আঁই তো নোয়াখাইল্যা: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে ইদানীং ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় ভাষায়। চাঁদপুরের সমাবেশেও তেমনটিই হলো।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের নোয়াখালী লাগোয়া দুই জনপদের ভাষারও মিল আছে। রবিবার বিকালে চাঁদপুরের জনসভায় সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্য দিতে এসে উপস্থিত জনতাকে সালাম দেন কাদের। কিন্তু জবাব না পেয়ে তিনি বলেন, ‘আরে জবাব দেয় না কিল্লাই (কেন)?’

পরে কাদের বলেন, ‘আঁরে চিনছেন নি? আঁই তো নোয়াখাইল্যা (আমাকে চিনেছেন? আমি তো নোয়াখাইল্যা)।’ ‘আঁর বাড়ি নোয়াখালী, আপনেরার বাড়ি চাঁদপুর। আঙ্গো কিন্তু বাষা এক। এক্কেবারে পাশের ঘর।’ ‘তবে একটা কথা আছে, ইলিশের ঘর চাঁদপুরের ইলিশ মজা, নোয়াখালীর ইলিশে মজা নাই।’

প্রখর রোদের মধ্যে জনসভায় আসা হাজারো মানুষের কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘চৈত মায়া রইদের মধ্যে আহারে কি কষ্ট! কষ্ট পাইতেছেন।’

‘নেত্রী কয়, শেষ করিয়ালাও তাড়াতাড়ি, মাইনষে বড় কষ্ট পায়। আপনেগো কষ্টের কথা মনে করে, আমিও বক্তৃতা বেশি দিমু না।’

শেখ হাসিনার সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এমনে বালা আছুইন তো? বালা আরও থাকবেন। থাকতে চান? বালা আরও থাকতে চাইলে শেখ হাসিনা দরকার। আরেকবার দরকার, শেখ হাসিনার দরকার।’

সরকারের উন্নয়নের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে কাদের বলেন, ‘আহারে চাদপুর, কী গরিব গরিব চেহারা আছিল! অহন তো বেহের দিকে তাকালে এই রইদের মইদ্যেও বেগ্গুনায় ফটফটা আছে, শান্তিতে আছে। এত রইদ, তার পরেও মনের মইদ্যে কষ্ট নাই। ঠিক আছে না?’

‘এত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ডিজিটাল সেন্টার গ্রামে গ্রামে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বাচ্চাদের কাছে বই।’

‘১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটির হাতে মোবাইল। গ্রামের কৃষকের হাতে, ঘরের কর্মীর হাতে, সবার হাতে মোবাইল।’

‘মহিলারা তো একবারে বেশি খুশি। মহিলাদের আগে মনের মধ্যেও একটা দুঃখ ছিল। আহারে সন্তান জন্ম দেই আমি, এত কষ্ট করি, পরিচয় হয় বাবার নামে।’

‘খালেদা জিয়ার আমলে এইটা ছিল না? আর শেখ হাসিনার আমলে মহিলারাও আছ বাবার পাশে, বাচ্চার নামের সাথে। এই সুবিধা কে দিল?’

বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নাই বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশ অর্জন পার্টি। আর বিএনপি হচ্ছে গর্জনের পার্টি।’

‘একটা অর্জন, আরেকটা গর্জন। আপনারা কি গর্জনের পক্ষে নাকি অর্জনের পক্ষে? কে এই অর্জন করেছে?’।

জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষুকের দেশ না, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশ।’

‘আমরা এখন আর গরিব দেশ না। যে নেত্রী বিশ্বের সেরা ১০ জন রাষ্ট্রনায়কের একজন। আমাদের নেত্রী বিশ্বের সেরা সৎ নেত্রীদের একজন, আমাদের নেত্রী বিশ্বের সেরা প্রধানমন্ত্রীদের একজন।’

শেখ হাসিনার আমলে দেশের মানুষের জীবন কীভাবে পাল্টে গেছে, সেটিও একটি উদাহরণে বুঝিয়ে দেন কাদের। বলেন, ‘এইডা তো আফনেরা আঁর চেয়ে বালা জানেন। বেগ্গুনার ঘরে টেলিভিশন আছে। গেরামেও টেলিভিশন।’

‘হাইমচরের গেরামের মইদ্যে বসেও টেলিভিশনে আপনেরা বিবিসি দেখেন। আপনারা সিএনএন দেখেন, এনডিটিভি দেখেন, হিন্দি সিরিয়াল দেখেন, ইংলিশ ছবি দেখেন। দেখেন না?’

‘এই সুযোগ কে দিয়েছে? কার জন্য এই সুযোগ পেয়েছেন? বলুন।’

‘আপনারা ভালো থাকতে চান? ওই যে নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তাকে যদি আবারও বিজয়ী করেন, তাহলে আপনারা আরও ভালো থাকবেন।’

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার আগে, আওয়ামী লীগের আগে এই দেশের উন্নয়ন, অর্জন আর কেউ দিতে পেরেছে? আপনাদেরকে এত সুখ, এত স্বস্তি দিতে পেরেছে? একমাত্র শেখ হাসিনাই আপনাদের এই স্বস্তি, এই সুখ দিয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলকে লেবানন ছাড়তে হবে: হিজবুল্লাহ প্রধান

আঁরে চিনছেন নি, আঁই তো নোয়াখাইল্যা: কাদের

আপডেট সময় ০৬:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে ইদানীং ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় ভাষায়। চাঁদপুরের সমাবেশেও তেমনটিই হলো।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের নোয়াখালী লাগোয়া দুই জনপদের ভাষারও মিল আছে। রবিবার বিকালে চাঁদপুরের জনসভায় সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্য দিতে এসে উপস্থিত জনতাকে সালাম দেন কাদের। কিন্তু জবাব না পেয়ে তিনি বলেন, ‘আরে জবাব দেয় না কিল্লাই (কেন)?’

পরে কাদের বলেন, ‘আঁরে চিনছেন নি? আঁই তো নোয়াখাইল্যা (আমাকে চিনেছেন? আমি তো নোয়াখাইল্যা)।’ ‘আঁর বাড়ি নোয়াখালী, আপনেরার বাড়ি চাঁদপুর। আঙ্গো কিন্তু বাষা এক। এক্কেবারে পাশের ঘর।’ ‘তবে একটা কথা আছে, ইলিশের ঘর চাঁদপুরের ইলিশ মজা, নোয়াখালীর ইলিশে মজা নাই।’

প্রখর রোদের মধ্যে জনসভায় আসা হাজারো মানুষের কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘চৈত মায়া রইদের মধ্যে আহারে কি কষ্ট! কষ্ট পাইতেছেন।’

‘নেত্রী কয়, শেষ করিয়ালাও তাড়াতাড়ি, মাইনষে বড় কষ্ট পায়। আপনেগো কষ্টের কথা মনে করে, আমিও বক্তৃতা বেশি দিমু না।’

শেখ হাসিনার সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এমনে বালা আছুইন তো? বালা আরও থাকবেন। থাকতে চান? বালা আরও থাকতে চাইলে শেখ হাসিনা দরকার। আরেকবার দরকার, শেখ হাসিনার দরকার।’

সরকারের উন্নয়নের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে কাদের বলেন, ‘আহারে চাদপুর, কী গরিব গরিব চেহারা আছিল! অহন তো বেহের দিকে তাকালে এই রইদের মইদ্যেও বেগ্গুনায় ফটফটা আছে, শান্তিতে আছে। এত রইদ, তার পরেও মনের মইদ্যে কষ্ট নাই। ঠিক আছে না?’

‘এত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ডিজিটাল সেন্টার গ্রামে গ্রামে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বাচ্চাদের কাছে বই।’

‘১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ কোটির হাতে মোবাইল। গ্রামের কৃষকের হাতে, ঘরের কর্মীর হাতে, সবার হাতে মোবাইল।’

‘মহিলারা তো একবারে বেশি খুশি। মহিলাদের আগে মনের মধ্যেও একটা দুঃখ ছিল। আহারে সন্তান জন্ম দেই আমি, এত কষ্ট করি, পরিচয় হয় বাবার নামে।’

‘খালেদা জিয়ার আমলে এইটা ছিল না? আর শেখ হাসিনার আমলে মহিলারাও আছ বাবার পাশে, বাচ্চার নামের সাথে। এই সুবিধা কে দিল?’

বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নাই বলেও মনে করেন কাদের। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশ অর্জন পার্টি। আর বিএনপি হচ্ছে গর্জনের পার্টি।’

‘একটা অর্জন, আরেকটা গর্জন। আপনারা কি গর্জনের পক্ষে নাকি অর্জনের পক্ষে? কে এই অর্জন করেছে?’।

জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষুকের দেশ না, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশ।’

‘আমরা এখন আর গরিব দেশ না। যে নেত্রী বিশ্বের সেরা ১০ জন রাষ্ট্রনায়কের একজন। আমাদের নেত্রী বিশ্বের সেরা সৎ নেত্রীদের একজন, আমাদের নেত্রী বিশ্বের সেরা প্রধানমন্ত্রীদের একজন।’

শেখ হাসিনার আমলে দেশের মানুষের জীবন কীভাবে পাল্টে গেছে, সেটিও একটি উদাহরণে বুঝিয়ে দেন কাদের। বলেন, ‘এইডা তো আফনেরা আঁর চেয়ে বালা জানেন। বেগ্গুনার ঘরে টেলিভিশন আছে। গেরামেও টেলিভিশন।’

‘হাইমচরের গেরামের মইদ্যে বসেও টেলিভিশনে আপনেরা বিবিসি দেখেন। আপনারা সিএনএন দেখেন, এনডিটিভি দেখেন, হিন্দি সিরিয়াল দেখেন, ইংলিশ ছবি দেখেন। দেখেন না?’

‘এই সুযোগ কে দিয়েছে? কার জন্য এই সুযোগ পেয়েছেন? বলুন।’

‘আপনারা ভালো থাকতে চান? ওই যে নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তাকে যদি আবারও বিজয়ী করেন, তাহলে আপনারা আরও ভালো থাকবেন।’

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার আগে, আওয়ামী লীগের আগে এই দেশের উন্নয়ন, অর্জন আর কেউ দিতে পেরেছে? আপনাদেরকে এত সুখ, এত স্বস্তি দিতে পেরেছে? একমাত্র শেখ হাসিনাই আপনাদের এই স্বস্তি, এই সুখ দিয়েছে।’