ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গোয়েন্দা যখন নিজের মোবাইল!

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

যখন আমরা বিনামূল্যের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করি আর সেটিতে নানা শর্তে সম্মতি দেই, তখন কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি যে, এসব অ্যাপ আমাদের সম্পর্কে কতটা তথ্য জানতে পারছে?

কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অনেকগুলো শর্ত আসে বা সম্মতি চাওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো না পড়েই সবাই ‘ওকে’ করে দেন অনেকে। তার মানে সেই অ্যাপটিকে ফোনের অনেক তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়া হলো।

এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আমরা কি কথা বলি বা কি বার্তা পাঠাই, পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর, মোবাইলের ছবি বা ভিডিও এমনকি আমাদের আর্থিক তথ্যও।

কারা ব্যবহার করে এসব তথ্য :

মূলত বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি এসব তথ্য ব্যবহার করে থাকে। হয়তো কোনো সাম্প্রতিক মেডিকেল টেস্টের তথ্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে বিক্রি করা হয়, যা দেখে তারা এসব গ্রাহকের কাছে তাদের ওষুধের তথ্য পাঠাবে। অথবা সাম্প্রতিক কোনো বিদেশ ভ্রমণের তথ্য চলে যাবে বিমান কোম্পানি বা ট্রাভেল কোম্পানির কাছে।

তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ভারতীয় আইনজীবী ভাকুল শর্মা বলেন, ‘এখনকার বিশ্বে কোন কিছুই ফ্রি নেই। বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে আসলে আপনি আপনার নিজের, পরিবারের বা বন্ধুদের তথ্য বিনিময় করলেন।’

এসব তথ্য কি কাজে লাগে :

ভারতীয় আইনজীবী ভাকুল শর্মা বলেন, ‘ফোনের এসব তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ একেকজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করছে। যার ফলে তার পছন্দ অপছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য প্রস্তাব করা যায়।’

বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাপ নির্মাতা কোম্পানি থেকে তথ্য কেনে। তারপর গ্রাহক অনুযায়ী, তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য অফার করা হয়।

ধরা যাক আপনি হয়তো ইলেকট্রনিক পণ্য পছন্দ করেন, তখন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনার কাছে অফার আসবে। অথবা আপনি বেড়াতে ভালোবাসেন, তখন বিভিন্ন ট্রাভেল কোম্পানি বা এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে নানা আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেতে থাকবেন।

এই আইনজীবী জানান, ‘যখন আমরা মোবাইলে একা কাজ করি, ফেসবুক বা টুইটারে লিখি, তখন আসলে আমরা নিজেদের মতো করেই সেখানে কাজ করি। ফলে সেখানে প্রত্যেকের একেবারে নিজস্ব চরিত্রের ছাপ থেকে যায়। আর এর ফলে আমাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়ে যায় এসব অ্যাপস।’

আর ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এলগরিদম ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ-ভারতের মত বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখনো এসব ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষার জন্য আইন তৈরি হয়নি। কেউ জানেনও না এসব তথ্য কোথায়, কার কাছে, কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কি করা উচিত?

এ ধরণের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইন করতে হবে। অনেকে বলছেন, যেহেতু এসব কোম্পানি সাধারণ নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে, এসব টাকার ভাগ এই নাগরিকদেরও পাওয়া উচিত।

তবে এর সবচেয়ে বড় সমাধান হলো, যখনি কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা হবে, তখনি খুব ভালো করে দেখে নেয়া যে, সেটি ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কতটা নাক গলাতে চায়।

আপনি এসব অ্যাপকে আপনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে কতটা অনুমতি দিতে চান, সেটাও আপনার ওপরই নির্ভর করছে। ভারতের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রীতরাজ সিং বলেন, ‘মোবাইল, অ্যাপ বা ইন্টারনেটে আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে যত কম তথ্য দেবেন, তত নিরাপদ থাকবেন। কারণ আমাদের কারো জানা নেই, আজ থেকে ১০/২০ বছর পরে এসব তথ্যের কি হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গোয়েন্দা যখন নিজের মোবাইল!

আপডেট সময় ১০:২৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মার্চ ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

যখন আমরা বিনামূল্যের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করি আর সেটিতে নানা শর্তে সম্মতি দেই, তখন কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি যে, এসব অ্যাপ আমাদের সম্পর্কে কতটা তথ্য জানতে পারছে?

কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অনেকগুলো শর্ত আসে বা সম্মতি চাওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো না পড়েই সবাই ‘ওকে’ করে দেন অনেকে। তার মানে সেই অ্যাপটিকে ফোনের অনেক তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়া হলো।

এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আমরা কি কথা বলি বা কি বার্তা পাঠাই, পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর, মোবাইলের ছবি বা ভিডিও এমনকি আমাদের আর্থিক তথ্যও।

কারা ব্যবহার করে এসব তথ্য :

মূলত বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি এসব তথ্য ব্যবহার করে থাকে। হয়তো কোনো সাম্প্রতিক মেডিকেল টেস্টের তথ্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে বিক্রি করা হয়, যা দেখে তারা এসব গ্রাহকের কাছে তাদের ওষুধের তথ্য পাঠাবে। অথবা সাম্প্রতিক কোনো বিদেশ ভ্রমণের তথ্য চলে যাবে বিমান কোম্পানি বা ট্রাভেল কোম্পানির কাছে।

তথ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ভারতীয় আইনজীবী ভাকুল শর্মা বলেন, ‘এখনকার বিশ্বে কোন কিছুই ফ্রি নেই। বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে আসলে আপনি আপনার নিজের, পরিবারের বা বন্ধুদের তথ্য বিনিময় করলেন।’

এসব তথ্য কি কাজে লাগে :

ভারতীয় আইনজীবী ভাকুল শর্মা বলেন, ‘ফোনের এসব তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ একেকজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করছে। যার ফলে তার পছন্দ অপছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য প্রস্তাব করা যায়।’

বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাপ নির্মাতা কোম্পানি থেকে তথ্য কেনে। তারপর গ্রাহক অনুযায়ী, তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য অফার করা হয়।

ধরা যাক আপনি হয়তো ইলেকট্রনিক পণ্য পছন্দ করেন, তখন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনার কাছে অফার আসবে। অথবা আপনি বেড়াতে ভালোবাসেন, তখন বিভিন্ন ট্রাভেল কোম্পানি বা এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে নানা আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেতে থাকবেন।

এই আইনজীবী জানান, ‘যখন আমরা মোবাইলে একা কাজ করি, ফেসবুক বা টুইটারে লিখি, তখন আসলে আমরা নিজেদের মতো করেই সেখানে কাজ করি। ফলে সেখানে প্রত্যেকের একেবারে নিজস্ব চরিত্রের ছাপ থেকে যায়। আর এর ফলে আমাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়ে যায় এসব অ্যাপস।’

আর ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এলগরিদম ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ-ভারতের মত বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখনো এসব ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষার জন্য আইন তৈরি হয়নি। কেউ জানেনও না এসব তথ্য কোথায়, কার কাছে, কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কি করা উচিত?

এ ধরণের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইন করতে হবে। অনেকে বলছেন, যেহেতু এসব কোম্পানি সাধারণ নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করে, এসব টাকার ভাগ এই নাগরিকদেরও পাওয়া উচিত।

তবে এর সবচেয়ে বড় সমাধান হলো, যখনি কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা হবে, তখনি খুব ভালো করে দেখে নেয়া যে, সেটি ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কতটা নাক গলাতে চায়।

আপনি এসব অ্যাপকে আপনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে কতটা অনুমতি দিতে চান, সেটাও আপনার ওপরই নির্ভর করছে। ভারতের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রীতরাজ সিং বলেন, ‘মোবাইল, অ্যাপ বা ইন্টারনেটে আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে যত কম তথ্য দেবেন, তত নিরাপদ থাকবেন। কারণ আমাদের কারো জানা নেই, আজ থেকে ১০/২০ বছর পরে এসব তথ্যের কি হবে।’