ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করছে সরকার: জামায়াত আমির ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে তাকে সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে গেছে নাহিদ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী জুলাইয়ের দিনগুলোই জ্বলন্ত সাক্ষী, ইসলামী আন্দোলন মানবতার পক্ষের শক্তি: চরমোনাই পীর ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খুলনায় প্রার্থী হতে আগ্রহী নন তালুকদার খালেক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা তালুকদার আবদুল খালেদ আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। তবে আওয়ামী লীগে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত তার বিকল্প হিসেবে কেউ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। তাহলে এবার নির্বাচনে কাকে নৌকা প্রতীক দেবে ক্ষমতাসীন দল- এ নিয়ে নগরে আছে প্রশ্ন। ৩১ মার্চ এই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি বিএনপিও জানতে চাইছে সরকারের চিন্তা কী। কারণ, সেভাবেই তাদের কৌশল সাজাতে হবে।

২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে খুলনায় বেশ বড় ব্যবধানে জিতে মেয়র হন তালুকদার আবদুল খালেক। পাঁচ বছরে তিনি চোখে পড়ার মতো উন্নয়নও করেন। এ নিয়ে নগরবাসী খুব একটা অসন্তুষ্ট ছিল, এমনটাও নয়।

তারপরেও নানা কারণে ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে বেশ বড় ব্যবধানে হেরে যান তালুকদার খালেক। ওই নির্বাচনের ভোটের পর সাবেক মেয়রের দুর্ব্যবহারসহ দলের ভেতরে নানা কোন্দল সামনে এসেছিল।

আর হেরে গেছেন বলে এবার আর তিনি ভোটে দাঁড়াতে আগ্রহী নন বলে দৈনিক আকাশকে জানিয়েছেন তালুকদার আবদুল খালেক।

খুলনা সিটি নির্বাচনে হারলেও বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন থেকে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জিতে সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। কিন্তু অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তার সংসদীয় আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও মংলা বন্দর, ইপিজেড ও নানা শিল্প গড়ে উঠায়।

খালেক জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে তাকে আবার প্রার্থী করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে দলের কেন্দ্র থেকে।

এই বাস্তবতায় খুলনা মহানগরীতে মেয়র হতে আর আগ্রহ নেই তালুকদার আবদুল খালেকের। দৈনিক আকাশকে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমি সিটিতে আর কোন নির্বাচন করব না। যেখান থেকে আমি হেরে গেছি, সেখানে আর যেতে চাই না’

এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ জানতে চাইলে কিছুটা অভিমানও ঝরে পড়ে তালুকদার খালেকের কণ্ঠে। বলেন, ‘এতো উন্নয়ন করার পরও যেখানে আমি জয় লাভ করতে পারিনি, সেখানে আর নির্বাচন করব না।’

‘আমার জীবনের প্রথম হার হচ্ছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। পক্ষান্তরে রামপাল, মংলার লোক আমাকে গ্রহণ করেছে। আমি জীবনের বাকি সময়টুকু রামপাল মংলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।’

তবে খুলনা সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ যাকে প্রার্থী করবে, তাকে জেতাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার নিশ্চয়তাও দিচ্ছেন তালুকদার খালেক।

অবশ্য সংসদ সদস্য হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারে নামতে আইনি বাধা আছে খালেকের। তবে তার সমর্থকদের সে বাধা নেই, সেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এই নেতা। এর বাইরেও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে দূর থেকে নানা পরামর্শ দিতে দিতেই পারবেন।

২০১৩ সালে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতেন বিএনপি সমর্থিত মনিরুজ্জামান মনি। তিনি ভোট পান এক লাখ ৮০ হাজার ৯৩। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত তালুকদার আব্দুল খালেক পান এক লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট। ওই নির্বাচনে জয় পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৬০ হাজার ৬৭১ ভোট।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও ওই নির্বাচনে হারের পর থেকে তালুকদার আবদুল খালেন মহানগরী থেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করছে সরকার: জামায়াত আমির

খুলনায় প্রার্থী হতে আগ্রহী নন তালুকদার খালেক

আপডেট সময় ০২:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা তালুকদার আবদুল খালেদ আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। তবে আওয়ামী লীগে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত তার বিকল্প হিসেবে কেউ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। তাহলে এবার নির্বাচনে কাকে নৌকা প্রতীক দেবে ক্ষমতাসীন দল- এ নিয়ে নগরে আছে প্রশ্ন। ৩১ মার্চ এই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি বিএনপিও জানতে চাইছে সরকারের চিন্তা কী। কারণ, সেভাবেই তাদের কৌশল সাজাতে হবে।

২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে খুলনায় বেশ বড় ব্যবধানে জিতে মেয়র হন তালুকদার আবদুল খালেক। পাঁচ বছরে তিনি চোখে পড়ার মতো উন্নয়নও করেন। এ নিয়ে নগরবাসী খুব একটা অসন্তুষ্ট ছিল, এমনটাও নয়।

তারপরেও নানা কারণে ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে বেশ বড় ব্যবধানে হেরে যান তালুকদার খালেক। ওই নির্বাচনের ভোটের পর সাবেক মেয়রের দুর্ব্যবহারসহ দলের ভেতরে নানা কোন্দল সামনে এসেছিল।

আর হেরে গেছেন বলে এবার আর তিনি ভোটে দাঁড়াতে আগ্রহী নন বলে দৈনিক আকাশকে জানিয়েছেন তালুকদার আবদুল খালেক।

খুলনা সিটি নির্বাচনে হারলেও বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন থেকে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে জিতে সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। কিন্তু অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তার সংসদীয় আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও মংলা বন্দর, ইপিজেড ও নানা শিল্প গড়ে উঠায়।

খালেক জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে তাকে আবার প্রার্থী করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে দলের কেন্দ্র থেকে।

এই বাস্তবতায় খুলনা মহানগরীতে মেয়র হতে আর আগ্রহ নেই তালুকদার আবদুল খালেকের। দৈনিক আকাশকে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমি সিটিতে আর কোন নির্বাচন করব না। যেখান থেকে আমি হেরে গেছি, সেখানে আর যেতে চাই না’

এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ জানতে চাইলে কিছুটা অভিমানও ঝরে পড়ে তালুকদার খালেকের কণ্ঠে। বলেন, ‘এতো উন্নয়ন করার পরও যেখানে আমি জয় লাভ করতে পারিনি, সেখানে আর নির্বাচন করব না।’

‘আমার জীবনের প্রথম হার হচ্ছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। পক্ষান্তরে রামপাল, মংলার লোক আমাকে গ্রহণ করেছে। আমি জীবনের বাকি সময়টুকু রামপাল মংলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।’

তবে খুলনা সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ যাকে প্রার্থী করবে, তাকে জেতাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার নিশ্চয়তাও দিচ্ছেন তালুকদার খালেক।

অবশ্য সংসদ সদস্য হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারে নামতে আইনি বাধা আছে খালেকের। তবে তার সমর্থকদের সে বাধা নেই, সেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এই নেতা। এর বাইরেও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে দূর থেকে নানা পরামর্শ দিতে দিতেই পারবেন।

২০১৩ সালে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতেন বিএনপি সমর্থিত মনিরুজ্জামান মনি। তিনি ভোট পান এক লাখ ৮০ হাজার ৯৩। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত তালুকদার আব্দুল খালেক পান এক লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট। ওই নির্বাচনে জয় পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৬০ হাজার ৬৭১ ভোট।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও ওই নির্বাচনে হারের পর থেকে তালুকদার আবদুল খালেন মহানগরী থেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন।