ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

যারা জনগণের সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাদের ছাড় নয়: ইকবাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতি দুর্নীতিই। অপজিশনের কেউ করুক আর পজিশনের কেউ করুক। যারা জনগণের সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে দুদক তাদের ছাড় দেবেন না।

তিনি বলেন, যারা দেশের বাইরে দেশের সম্পদ পাচার করে তারা দেশের শত্রু। দুদক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিংয়ে যারা জড়িত যে কোনও মূল্যে তাদের ধরা হবে। দেশের বাইরে অর্থ পাচারকারীদের ধরতে আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলেও ঘুরিয়ে হলেও পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতির প্রশ্নে কারও সঙ্গে আপস নয়।

বুধবার দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, অ্যাওয়ার্ড প্রদানে গঠিত জুরিবোর্ডের সদস্য একুশে টিভির প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, দুদকের সচিব ড. শামসুল আরেফিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দুর্নীতি কেবল আর্থিকভাবেই হয় তা নয়, প্রতিষ্ঠানিকভাবেও দুর্নীতি হচ্ছে। আমি না চাইলেও অনেক জিনিস হাওয়ায় চলে আসে। না চাইতেই গাড়ি এসে হাজির হয়। কাজ করতে গিয়ে আমি ক্যাশ পাইনি বটে তবে উষ্ণতা ভোগ করেছি।

দুদকের সব কাজে সরকার গৌরববোধ করছে উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, দুদক সক্রিয় থাকায় অনেকেই মধ্যেই ভীতি কাজ করছে। দুদককে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক খাতের কেলেংকারি আছে উল্লেখ করে বলেন, তারপরও এসব ছাপিয়ে প্রবৃদ্ধির হার ৭ এর উপর নিয়ে এসেছি।

সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শতকরা ৮০ ভাগ অনুসন্ধান ও তদন্ত নিয়ে থাকি মিডিয়ার রিপোর্ট থেকে। অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে যদি দেখতে পাই এর সঙ্গে প্রভাবশালী কেউ জড়িত আমরা আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রাখি। অভিযোগ তদন্তকালে কোন ব্যক্তি চলে আসলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তিনি বলেন, দেশ থেকে অর্থপাচার হয়ে যাচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং বেশি হচ্ছে। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারছি না। আইনে আমাদের হাত পা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আইনটা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দুদক কেবলমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থ পাচার দেখবে। আমরা এ সংক্রান্ত একটি রুলস তৈরি করেছি। কিন্তু সেটি আও আলোর মুখ দেখেনি। রুলস না থাকায় কোন অপরাধের তদন্ত কে করবে বা মামলা ও চার্জশিটের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে সেটা নিশ্চিত হচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত ২ বছরে কত ওভার ভয়েজ হয়েছে আমরা ব্যাংকিং চ্যানেলে সেই তথ্য চেয়েছি। দেশের গুটি কয়েক ব্যবসায়ীর কারণে ট্রেড বেইজড মানি লন্ডরিং হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুদকের হাত কিন্তু এত ছোট না। দুদক চাইলে হাত ঘুরিয়ে হলেও তদন্ত করবে। আমরা এভাবে দেশের সম্পদ পাচার হতে দিতে পারি না। দুর্নীতির লাগাম এখনই টানতে হবে।

তিনি বলেন, অনুপার্জিত আয় কেউ ভোগ করতে পারবেন না। আজ হোক কাল হোক বা ১০ বছর পর হোক এর হিসাব দিতেই হবে। এর আগে এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুদক আয়োজিত মানববন্ধনে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কতিপয় দুর্নীতিবাজ এদেশের জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করছে। এ বছর অর্থ পাচার রোধ করতে দুদক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। কমিশন বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পাচ্ছে যে, কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী, গুটিকয়েক সরকারি কর্মকর্তা এবং কতিপয় ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানির নামে দেশ থেকে জনগণের অর্থ পাচার করছে। জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার রুখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন দুদক চেয়ারম্যান।

সাংবাদিকগণের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় দুর্নীতিবাজ হিসেবে জনশ্রুতি আছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংগ্রহ করছে দুদক।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে সরকার ইতিবাচক বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশন সার্বিক বিষয়ের ওপর নজর রাখছে। অসাধু ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা কিংবা কথিত কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ- এই ঘৃণ্য এবং অমার্জনীয় অপরাধে কেউই জড়াবেন না। এই অপরাধীদের কোনো ক্ষমা নেই, কোনো ছাড় নেই।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল, মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মো. মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মো. জয়নুল বারী, মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী প্রমুখ।

দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

২০১৩ সাল থেকে দুদক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে আসছে। এ বছর প্রিন্ট মিডিয়ায় তিনজন এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ায় তিনজনসহ ছয়জন সাংবাদিক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রিন্ট মিডিয়ায় ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির’ জন্য প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার আবু সালেহ রনি, ‘হাওর অঞ্চলে তিন প্রকৌশলীর দুর্নীতিতে কৃষকের সর্বনাশ’ অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার নেসারুল হক খোকন দ্বিতীয় পুরস্কার ও ‘ভূমি অফিসে ৫ স্তরে দুর্নীতি’ শীর্ষক অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন দৈনকি জনকণ্ঠের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার বিভাষ বাড়ৈ।

অন্যদিকে, ‘এমপিদের সন্তানদের নামে ভুয়া লোকজন ভিসা জালিয়াতি করে দেশের বাইরে যাচ্ছে’- এই শিরোনামে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করে ইলেকট্রনিক ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার মাহবুব কবির চপল, ‘হাওরে বিপর্যয়: দায়ী কারা’- শিরোনামে রিপোর্টের জন্য মাছরাঙা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বদরুদ্দোজা বাবু দ্বিতীয় পুরস্কার ও অবৈধ বিদেশিদের অর্থ পাচার নিয়ে করা রিপোর্টের জন্য এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

যারা জনগণের সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাদের ছাড় নয়: ইকবাল

আপডেট সময় ১১:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতি দুর্নীতিই। অপজিশনের কেউ করুক আর পজিশনের কেউ করুক। যারা জনগণের সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে দুদক তাদের ছাড় দেবেন না।

তিনি বলেন, যারা দেশের বাইরে দেশের সম্পদ পাচার করে তারা দেশের শত্রু। দুদক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিংয়ে যারা জড়িত যে কোনও মূল্যে তাদের ধরা হবে। দেশের বাইরে অর্থ পাচারকারীদের ধরতে আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলেও ঘুরিয়ে হলেও পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতির প্রশ্নে কারও সঙ্গে আপস নয়।

বুধবার দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, অ্যাওয়ার্ড প্রদানে গঠিত জুরিবোর্ডের সদস্য একুশে টিভির প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, দুদকের সচিব ড. শামসুল আরেফিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দুর্নীতি কেবল আর্থিকভাবেই হয় তা নয়, প্রতিষ্ঠানিকভাবেও দুর্নীতি হচ্ছে। আমি না চাইলেও অনেক জিনিস হাওয়ায় চলে আসে। না চাইতেই গাড়ি এসে হাজির হয়। কাজ করতে গিয়ে আমি ক্যাশ পাইনি বটে তবে উষ্ণতা ভোগ করেছি।

দুদকের সব কাজে সরকার গৌরববোধ করছে উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, দুদক সক্রিয় থাকায় অনেকেই মধ্যেই ভীতি কাজ করছে। দুদককে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক খাতের কেলেংকারি আছে উল্লেখ করে বলেন, তারপরও এসব ছাপিয়ে প্রবৃদ্ধির হার ৭ এর উপর নিয়ে এসেছি।

সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শতকরা ৮০ ভাগ অনুসন্ধান ও তদন্ত নিয়ে থাকি মিডিয়ার রিপোর্ট থেকে। অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে যদি দেখতে পাই এর সঙ্গে প্রভাবশালী কেউ জড়িত আমরা আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রাখি। অভিযোগ তদন্তকালে কোন ব্যক্তি চলে আসলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তিনি বলেন, দেশ থেকে অর্থপাচার হয়ে যাচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং বেশি হচ্ছে। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারছি না। আইনে আমাদের হাত পা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আইনটা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দুদক কেবলমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থ পাচার দেখবে। আমরা এ সংক্রান্ত একটি রুলস তৈরি করেছি। কিন্তু সেটি আও আলোর মুখ দেখেনি। রুলস না থাকায় কোন অপরাধের তদন্ত কে করবে বা মামলা ও চার্জশিটের অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে সেটা নিশ্চিত হচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত ২ বছরে কত ওভার ভয়েজ হয়েছে আমরা ব্যাংকিং চ্যানেলে সেই তথ্য চেয়েছি। দেশের গুটি কয়েক ব্যবসায়ীর কারণে ট্রেড বেইজড মানি লন্ডরিং হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুদকের হাত কিন্তু এত ছোট না। দুদক চাইলে হাত ঘুরিয়ে হলেও তদন্ত করবে। আমরা এভাবে দেশের সম্পদ পাচার হতে দিতে পারি না। দুর্নীতির লাগাম এখনই টানতে হবে।

তিনি বলেন, অনুপার্জিত আয় কেউ ভোগ করতে পারবেন না। আজ হোক কাল হোক বা ১০ বছর পর হোক এর হিসাব দিতেই হবে। এর আগে এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুদক আয়োজিত মানববন্ধনে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কতিপয় দুর্নীতিবাজ এদেশের জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করছে। এ বছর অর্থ পাচার রোধ করতে দুদক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। কমিশন বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পাচ্ছে যে, কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী, গুটিকয়েক সরকারি কর্মকর্তা এবং কতিপয় ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানির নামে দেশ থেকে জনগণের অর্থ পাচার করছে। জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার রুখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন দুদক চেয়ারম্যান।

সাংবাদিকগণের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় দুর্নীতিবাজ হিসেবে জনশ্রুতি আছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংগ্রহ করছে দুদক।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে সরকার ইতিবাচক বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশন সার্বিক বিষয়ের ওপর নজর রাখছে। অসাধু ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা কিংবা কথিত কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ- এই ঘৃণ্য এবং অমার্জনীয় অপরাধে কেউই জড়াবেন না। এই অপরাধীদের কোনো ক্ষমা নেই, কোনো ছাড় নেই।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল, মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মো. মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মো. জয়নুল বারী, মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী প্রমুখ।

দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

২০১৩ সাল থেকে দুদক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে আসছে। এ বছর প্রিন্ট মিডিয়ায় তিনজন এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ায় তিনজনসহ ছয়জন সাংবাদিক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রিন্ট মিডিয়ায় ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির’ জন্য প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার আবু সালেহ রনি, ‘হাওর অঞ্চলে তিন প্রকৌশলীর দুর্নীতিতে কৃষকের সর্বনাশ’ অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার নেসারুল হক খোকন দ্বিতীয় পুরস্কার ও ‘ভূমি অফিসে ৫ স্তরে দুর্নীতি’ শীর্ষক অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন দৈনকি জনকণ্ঠের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার বিভাষ বাড়ৈ।

অন্যদিকে, ‘এমপিদের সন্তানদের নামে ভুয়া লোকজন ভিসা জালিয়াতি করে দেশের বাইরে যাচ্ছে’- এই শিরোনামে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করে ইলেকট্রনিক ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার মাহবুব কবির চপল, ‘হাওরে বিপর্যয়: দায়ী কারা’- শিরোনামে রিপোর্টের জন্য মাছরাঙা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বদরুদ্দোজা বাবু দ্বিতীয় পুরস্কার ও অবৈধ বিদেশিদের অর্থ পাচার নিয়ে করা রিপোর্টের জন্য এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।