ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে: মির্জা ফখরুল জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেতনা হিসেবে কাজ করবে জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির আপনি কি মুসলিম, উত্তর দিতেই ভারতীয়কে ১৫ বার ছুরিকাঘাত যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর মোজাফফর আটক সৌদি আরবে মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লা প্রবাসীর মৃত্যু চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক ছাত্রকে পড়াতে শিক্ষকের দৈনিক ৫০ কিমি পাড়ি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রুক্ষ পাহাড়ের গা দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা। দুপাশে ৪০০ফুট গভীর খাদ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এসব পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ সাপের বাস। যে কোনো সময় গর্ত থেকে ফনা তোলে সাপ।

সারাবছরই এই দীর্ঘ রাস্তা মোটরসাইকেলে করে দুইবেলা পাড়ি দেন রজনীকান্ত মেন্ডে নামের এক স্কুল শিক্ষক। ভারতের পুনে শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ভোর জেলার ছান্দার গ্রামের সরকারী স্কুলের শিক্ষক তিনি।

দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যে স্কুলে যান, সে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র এক জন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আট বছরের যুবরাজ সাঙ্গালে নামের ওই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতেই রোজ এতোটা পথ পাড়ি দেন রজনীকান্ত।

ক্লাস ফাঁকা, খেলার মাঠে কেউ নেই, সঙ্গীর অভাবে স্কুলে যেতে মন চায় না যুবরাজের। কিন্তু রজনী স্যারের জন্যই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কারণ, বাড়ির পেছনে বা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকলেও তাকে খুজে বের করেন শিক্ষক রজনী।

আধুনিক সমাজের কিছুই সেখানে পৌঁছেনি এখনো। তবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেখানে একটি টিভি চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিনেছেনেএকটি ট্যাবও। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকা তার ছাত্রকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ডাউনলোড করে দেখান তিনি। এত কষ্ট করে যে তিনি একজন ছাত্রকে পড়াতে যান তা রজনীর বাড়িতেও কেউ জানে না।

ওই গ্রামে মোট ১৫টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বাস করেন মোট ৬০ জনের মতো বাসিন্দা। মানুষ এত অল্প হলেও সাপের সংখ্যা ভয়ানক সেখানে। কখনো স্কুলে জানালায় কিংবা চালে আবার কখনো রজনীর মোটরসাইকেলের ওপর উঠে বসে থাকে সাপ।

এ অবস্থায় নিজের জীবন নিয়েও সংশয়ে থাকেন রজনী। কিন্তু চাকরি তো আর ছেড়ে দিতে পারবেন না। আর এখানে দেখা মেলে না সরকারি লোকেরও।

তবে শুরুতে এমন অবস্থা ছিলো না স্কুলের। তখন ১১জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু অসহায় এসব পরিবার তাদেরকে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছে শহরে। ফলে এখন একজন ছাত্র নিয়েই চলছে রজনীর শিক্ষকতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি

এক ছাত্রকে পড়াতে শিক্ষকের দৈনিক ৫০ কিমি পাড়ি

আপডেট সময় ১১:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রুক্ষ পাহাড়ের গা দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা। দুপাশে ৪০০ফুট গভীর খাদ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এসব পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ সাপের বাস। যে কোনো সময় গর্ত থেকে ফনা তোলে সাপ।

সারাবছরই এই দীর্ঘ রাস্তা মোটরসাইকেলে করে দুইবেলা পাড়ি দেন রজনীকান্ত মেন্ডে নামের এক স্কুল শিক্ষক। ভারতের পুনে শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ভোর জেলার ছান্দার গ্রামের সরকারী স্কুলের শিক্ষক তিনি।

দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যে স্কুলে যান, সে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র এক জন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আট বছরের যুবরাজ সাঙ্গালে নামের ওই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতেই রোজ এতোটা পথ পাড়ি দেন রজনীকান্ত।

ক্লাস ফাঁকা, খেলার মাঠে কেউ নেই, সঙ্গীর অভাবে স্কুলে যেতে মন চায় না যুবরাজের। কিন্তু রজনী স্যারের জন্যই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কারণ, বাড়ির পেছনে বা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকলেও তাকে খুজে বের করেন শিক্ষক রজনী।

আধুনিক সমাজের কিছুই সেখানে পৌঁছেনি এখনো। তবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেখানে একটি টিভি চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিনেছেনেএকটি ট্যাবও। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকা তার ছাত্রকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ডাউনলোড করে দেখান তিনি। এত কষ্ট করে যে তিনি একজন ছাত্রকে পড়াতে যান তা রজনীর বাড়িতেও কেউ জানে না।

ওই গ্রামে মোট ১৫টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বাস করেন মোট ৬০ জনের মতো বাসিন্দা। মানুষ এত অল্প হলেও সাপের সংখ্যা ভয়ানক সেখানে। কখনো স্কুলে জানালায় কিংবা চালে আবার কখনো রজনীর মোটরসাইকেলের ওপর উঠে বসে থাকে সাপ।

এ অবস্থায় নিজের জীবন নিয়েও সংশয়ে থাকেন রজনী। কিন্তু চাকরি তো আর ছেড়ে দিতে পারবেন না। আর এখানে দেখা মেলে না সরকারি লোকেরও।

তবে শুরুতে এমন অবস্থা ছিলো না স্কুলের। তখন ১১জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু অসহায় এসব পরিবার তাদেরকে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছে শহরে। ফলে এখন একজন ছাত্র নিয়েই চলছে রজনীর শিক্ষকতা।