ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্মকে পুঁজি করে চালানো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: আমিনুল হক কেউ কেউ বসন্তকালে আইসা কুহু কুহু ডাক শুরু করে: জামায়াতের আমির ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর এই নির্বাচন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে: প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে আইসিসিকে ফের চিঠি বিসিবির

উচ্চ আদালত গ্রাসের পথে: খালেদার আইনজীবী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগের আদেশকে নজিরবিহীন বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। নিম্ন আদালতকে সরকার গ্রাস করে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেছেন, উচ্চ আদালতও গ্রাস করার পথে।

খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আগামী ৮ মে পর্যন্ত খালেদার জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

র‌বিবার খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিলের শুনা‌নি অনু‌ষ্ঠিত হয়। এরপর আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে আপিল বিভাগ।

আদালত থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের কাছে এই আদেশে হতাশা প্রকাশ করেন।

‘দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমরা মর্মাহত। আমরা ব্যথিত।’

‘আজকে জাতির উদ্দেশ্যে বলতে চাই, একটা অনভিপ্রেত আদেশ আজকে হলো। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আজকে যে আদেশটি দিলেন, এতে আমরা খুব মর্মাহত হয়েছি।’

‘আমরা নজিরবিহীন বলতে বাধ্য হচ্ছি এই কারণে যে, অতীতে এই ধরনের আদেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালত দেয়নি।’

এই আদেশে সরকারের প্রভাব রয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে জয়নুল আবেদীন বলে, ‘আপনরা লক্ষ্য করেছেন, নিম্ন আদালতগুলো এই সরকার গ্রাস করে ফেলেছে। উচ্চ আদালতকেও মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে … গ্রাস করার চেষ্টা করছে।’

‘আদালতকে এই জন্য আমি বলেছি, মাননীয় আদালত দেশের মানুষ আপনাদের কাছে বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে আসে কিন্তু তারা আশাহত হলে এই বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা থাকবে না।’

হাইকোর্টের জামিন আদেশে আপিল বিভাগ অতীতে কখনও হস্তক্ষেপ করেনি বলেও আদালতকে জানিয়েছেন বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

জয়নুল বলেন, ‘আমাদের সম্পাদক সাহেব (মাহবুব উদ্দিন খোকন) সেখানে (আদালতে) বলেন, ‘দুদক ও সরকার এখানে এক হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের বাইরে (খালেদা জিয়াকে) রাখার জন্য এই ব্যবস্থা (জামিনের বিরুদ্ধে আপিল) গ্রহণ করেছে।’

‘কী আদেশ দিলেন?’

আদেশকে নজিরবিহীন দাবি করে জয়নুল বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারলাম না, কী আদেশ দিলেন। এরপরই চলে গেলেন অন্য আইটেমে।’

‘পরবর্তীতে মাননীয় আদালতকে বললাম যে, মাননীয় আদালত হায়েস্ট কোর্ট অব দি কান্ট্রি, লোকজন আসে আপনাদের কাছে বিচার পাওয়ার জন্য, বিচারপ্রার্থী মানুষরা জানতে চান, কী আদেশ দিলেন?’

‘কোন পরিপ্রেক্ষিতে লিভ গ্রহণ করলেন? সেটা তো কেউ জানল না। আমি বারের পক্ষে এটা জানার অধিকার আছে, বারের মেম্বারদেরকে জানাবার অধিকার আছে। তখন আদালত বললেন, লিভের গ্রাউন্ড কী? আমরা এই সমস্ত কনভিকশন ইত্যাদি ইত্যাদি কনসিডার করে আমরা দিলাম।’

‘কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বললেন না। আমি তখন বললাম, আমরা তো মেরিটে কোন আরগুমেন্ট এখানে করি নাই। তার কোনো সদুত্তর মাননীয় আদালত আমাদেরকে দেননি।’

জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘অতীতে পাঁচ বছরের সাজায় যে আপনারা যে জামিন দিলেন সেগুলোর এখন কী হবে? তার কোনো উত্তর আদালত দেননি।’

‘আমি বলেছি, এটা হাইয়েস্ট কোর্ট অব দি কান্ট্রি, এখানে জাস্টিস পাওয়ার উচিত ছিল। আদালত যখন কিছু বলছিলেন না।’

‘তখন আমি বললাম যে মাননীয় আদালত আপনারা যে আদেশ দেন সে আদেশ তো আমাদের মানতে হবে। এখন একটি কথা বলি, যে হিয়ারিংটা দিয়েছেন ২২ তারিখে (২২ মে) সেটা একটু শর্ট করেন। এপ্রিল মাসে নিয়ে আসেন। উনারা ডায়েরি দেখে বললেন যে, যেহেতু বন্ধ, এই কারণে মে মাসের ৮ তারিখে প্রথমেই এই লিভটা শুনানি হবে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে কনসাইজেস্টেস দিতে বললেন এবং পেপারবুক ডিসপেন্স উইথ করতে বললেন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন, ‘উনারা পেপারবুক দেবেন। উনাদের নিজস্ব ব্যাপার।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হেলিকপ্টারে এলো বিপিএল ট্রফি

উচ্চ আদালত গ্রাসের পথে: খালেদার আইনজীবী

আপডেট সময় ০১:২৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগের আদেশকে নজিরবিহীন বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। নিম্ন আদালতকে সরকার গ্রাস করে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেছেন, উচ্চ আদালতও গ্রাস করার পথে।

খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আগামী ৮ মে পর্যন্ত খালেদার জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

র‌বিবার খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা লিভ টু আপিলের শুনা‌নি অনু‌ষ্ঠিত হয়। এরপর আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে আপিল বিভাগ।

আদালত থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের কাছে এই আদেশে হতাশা প্রকাশ করেন।

‘দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমরা মর্মাহত। আমরা ব্যথিত।’

‘আজকে জাতির উদ্দেশ্যে বলতে চাই, একটা অনভিপ্রেত আদেশ আজকে হলো। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আজকে যে আদেশটি দিলেন, এতে আমরা খুব মর্মাহত হয়েছি।’

‘আমরা নজিরবিহীন বলতে বাধ্য হচ্ছি এই কারণে যে, অতীতে এই ধরনের আদেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালত দেয়নি।’

এই আদেশে সরকারের প্রভাব রয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে জয়নুল আবেদীন বলে, ‘আপনরা লক্ষ্য করেছেন, নিম্ন আদালতগুলো এই সরকার গ্রাস করে ফেলেছে। উচ্চ আদালতকেও মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে … গ্রাস করার চেষ্টা করছে।’

‘আদালতকে এই জন্য আমি বলেছি, মাননীয় আদালত দেশের মানুষ আপনাদের কাছে বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে আসে কিন্তু তারা আশাহত হলে এই বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা থাকবে না।’

হাইকোর্টের জামিন আদেশে আপিল বিভাগ অতীতে কখনও হস্তক্ষেপ করেনি বলেও আদালতকে জানিয়েছেন বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

জয়নুল বলেন, ‘আমাদের সম্পাদক সাহেব (মাহবুব উদ্দিন খোকন) সেখানে (আদালতে) বলেন, ‘দুদক ও সরকার এখানে এক হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের বাইরে (খালেদা জিয়াকে) রাখার জন্য এই ব্যবস্থা (জামিনের বিরুদ্ধে আপিল) গ্রহণ করেছে।’

‘কী আদেশ দিলেন?’

আদেশকে নজিরবিহীন দাবি করে জয়নুল বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারলাম না, কী আদেশ দিলেন। এরপরই চলে গেলেন অন্য আইটেমে।’

‘পরবর্তীতে মাননীয় আদালতকে বললাম যে, মাননীয় আদালত হায়েস্ট কোর্ট অব দি কান্ট্রি, লোকজন আসে আপনাদের কাছে বিচার পাওয়ার জন্য, বিচারপ্রার্থী মানুষরা জানতে চান, কী আদেশ দিলেন?’

‘কোন পরিপ্রেক্ষিতে লিভ গ্রহণ করলেন? সেটা তো কেউ জানল না। আমি বারের পক্ষে এটা জানার অধিকার আছে, বারের মেম্বারদেরকে জানাবার অধিকার আছে। তখন আদালত বললেন, লিভের গ্রাউন্ড কী? আমরা এই সমস্ত কনভিকশন ইত্যাদি ইত্যাদি কনসিডার করে আমরা দিলাম।’

‘কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বললেন না। আমি তখন বললাম, আমরা তো মেরিটে কোন আরগুমেন্ট এখানে করি নাই। তার কোনো সদুত্তর মাননীয় আদালত আমাদেরকে দেননি।’

জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘অতীতে পাঁচ বছরের সাজায় যে আপনারা যে জামিন দিলেন সেগুলোর এখন কী হবে? তার কোনো উত্তর আদালত দেননি।’

‘আমি বলেছি, এটা হাইয়েস্ট কোর্ট অব দি কান্ট্রি, এখানে জাস্টিস পাওয়ার উচিত ছিল। আদালত যখন কিছু বলছিলেন না।’

‘তখন আমি বললাম যে মাননীয় আদালত আপনারা যে আদেশ দেন সে আদেশ তো আমাদের মানতে হবে। এখন একটি কথা বলি, যে হিয়ারিংটা দিয়েছেন ২২ তারিখে (২২ মে) সেটা একটু শর্ট করেন। এপ্রিল মাসে নিয়ে আসেন। উনারা ডায়েরি দেখে বললেন যে, যেহেতু বন্ধ, এই কারণে মে মাসের ৮ তারিখে প্রথমেই এই লিভটা শুনানি হবে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে কনসাইজেস্টেস দিতে বললেন এবং পেপারবুক ডিসপেন্স উইথ করতে বললেন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন, ‘উনারা পেপারবুক দেবেন। উনাদের নিজস্ব ব্যাপার।’