ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাঠমান্ডুতে জীবন সংশয়ে রুয়েটের হাসি, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর দাবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েটের সহকারী অধ্যাপক এমরানা কবির হাসির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-কেএমসিএইচ কর্তৃপক্ষ। এদিকে হাসিকে বাঁচাতে অবিলম্বে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও সাবেক সতীর্থরা।

হাসি কেএমসিএইচের ৫০২ নম্বর কক্ষের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন। তার ফুসফুসসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

বুধবার দুপুরে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সরকারি চিকিৎসক টিমের ব্রিফিংয়ের সময় কেএমসিএইচের এক কর্মকর্তা জানান, হাসির অবস্থা সংকটাপন্ন।

সোমবার দুপুরে বিমান দুর্ঘটনার সময় হাসির স্বামী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান মারা যান। এর পর থেকে মারাত্মক দ্বগ্ধ অবস্থায় কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন হাসি।

এ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, হাসির উন্নত চিকিৎসা দরকার। যত দ্রুত সম্ভব তাকে সিঙ্গাপুর, ভারত কিংবা থাইল্যান্ডের কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

জানা গেছে, চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন পরামর্শ পাওয়ার পর হাসির পরিবার ও রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘রিওসা’ তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউএস-বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেছে।

কিন্তু বিমান দুর্ঘটনার সময় হাসির পাসপোর্ট পুড়ে যায়। ফলে তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে নেপাল থেকেই দ্রুততার সঙ্গে তাকে নতুন পাসপোর্ট দেয়া হয়েছে।

এর পর বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয় এমরানা কবির হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হবে।

হাসির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার খবর শুনে নেপালে যাচ্ছেন তার বাবা হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রিজেন্ট এয়ারের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

মেয়েকে দ্রুততার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কাছে দাবি জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় জামাই রাকিবুল হাসানকে হারিয়েছি, এখন মেয়েকে হারাতে চাই না। তাকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই।

নিহত রাকিবুলের মামা রংপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনোয়ার বলেন, আমার ভাগ্নেকে অকালে হারিয়েছি, এখন বউমার জীবনও সংকটাপন্ন। দ্রুত সিঙ্গাপুরে নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

হুমায়ুন কবির ও ডা. আনোয়ার বলেন, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কাঠমান্ডু থেকে এরই মধ্যে ডা. মো. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু হাসির জীবন সংকটাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাকে এখনও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়নি। এদিকে এমরানা কবির হাসির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে রিওসা।

সংগঠনটির সহদফতর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, এমরানা কবির হাসিকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া প্রয়োজন। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়েছে। ২০ জনকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ বাংলাদেশিকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে মো. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াকুব আলী ও এমরানা কবির হাসিকে ভারতে নেয়া হবে।

কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন কবির হোসেন, শেখ রাশেদ রুবাইয়াত ও মো. শাহীন বেপারি। এ ছাড়া কেএমসিএইচ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে শাহরিন আহমেদ, আলমুন নাহার অ্যানি, কামরুন্নেসা স্বর্ণা ও মেহেদী হাসানকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঠমান্ডুতে জীবন সংশয়ে রুয়েটের হাসি, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর দাবি

আপডেট সময় ০৮:৪১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চিকিৎসাধীন রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েটের সহকারী অধ্যাপক এমরানা কবির হাসির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-কেএমসিএইচ কর্তৃপক্ষ। এদিকে হাসিকে বাঁচাতে অবিলম্বে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও সাবেক সতীর্থরা।

হাসি কেএমসিএইচের ৫০২ নম্বর কক্ষের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন। তার ফুসফুসসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

বুধবার দুপুরে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সরকারি চিকিৎসক টিমের ব্রিফিংয়ের সময় কেএমসিএইচের এক কর্মকর্তা জানান, হাসির অবস্থা সংকটাপন্ন।

সোমবার দুপুরে বিমান দুর্ঘটনার সময় হাসির স্বামী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান মারা যান। এর পর থেকে মারাত্মক দ্বগ্ধ অবস্থায় কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন হাসি।

এ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, হাসির উন্নত চিকিৎসা দরকার। যত দ্রুত সম্ভব তাকে সিঙ্গাপুর, ভারত কিংবা থাইল্যান্ডের কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

জানা গেছে, চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন পরামর্শ পাওয়ার পর হাসির পরিবার ও রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘রিওসা’ তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউএস-বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেছে।

কিন্তু বিমান দুর্ঘটনার সময় হাসির পাসপোর্ট পুড়ে যায়। ফলে তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে নেপাল থেকেই দ্রুততার সঙ্গে তাকে নতুন পাসপোর্ট দেয়া হয়েছে।

এর পর বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয় এমরানা কবির হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হবে।

হাসির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার খবর শুনে নেপালে যাচ্ছেন তার বাবা হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রিজেন্ট এয়ারের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

মেয়েকে দ্রুততার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কাছে দাবি জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় জামাই রাকিবুল হাসানকে হারিয়েছি, এখন মেয়েকে হারাতে চাই না। তাকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই।

নিহত রাকিবুলের মামা রংপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনোয়ার বলেন, আমার ভাগ্নেকে অকালে হারিয়েছি, এখন বউমার জীবনও সংকটাপন্ন। দ্রুত সিঙ্গাপুরে নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

হুমায়ুন কবির ও ডা. আনোয়ার বলেন, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কাঠমান্ডু থেকে এরই মধ্যে ডা. মো. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু হাসির জীবন সংকটাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাকে এখনও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়নি। এদিকে এমরানা কবির হাসির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে রিওসা।

সংগঠনটির সহদফতর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, এমরানা কবির হাসিকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া প্রয়োজন। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়েছে। ২০ জনকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ বাংলাদেশিকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে মো. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াকুব আলী ও এমরানা কবির হাসিকে ভারতে নেয়া হবে।

কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন কবির হোসেন, শেখ রাশেদ রুবাইয়াত ও মো. শাহীন বেপারি। এ ছাড়া কেএমসিএইচ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে শাহরিন আহমেদ, আলমুন নাহার অ্যানি, কামরুন্নেসা স্বর্ণা ও মেহেদী হাসানকে।