ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রুচিহীন: ফারুক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে রুচিহীন বলেছেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবদীন ফারুক। তার দাবি, যে রায় দেয়া হয়েছে, সেটা লেখা হয়েছে সচিবালয়ে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সাবেক প্রধান হুইপ। খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে বিএনপিপন্থী একটি সংগঠন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি। ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর সমাবেশে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরি করে খাওয়া কোরআন শরিফেও নিষেধ আছে। কোরআন শরিফেও বলা আছে, এতিমের টাকা চুরি করো না, এতিমকে দাও।’

খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে বিএনপি নেতারা আন্দোলন করে। কিসের আন্দোলন? টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। আন্দোলন চোরের জন্য?’।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতা ফারুক বলেন, ‘আপনি যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন সেই বক্তব্যগুলো দয়া করে বন্ধ করে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন।’

শেখ হাসিনার আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চাওয়ার সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে আপনি নির্বাচনী প্রচারণা করছেন, এটা কোনো গণতন্ত্র হতে পারে না। অবিলম্বে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

১৯৭৫ সালে সংসদে আওয়ামীল সরকার যে বাকশাল কায়েম করেছিল, বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তারা আবার সেই পরিকল্পনা করছে বলেও মন্তব্য করেন ফারুক।

রায় লেখা হয়েছে সচিবালয়ে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারক নন, সচিবালয়ে সরকারি কর্মকর্তারা রায় লিখে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফারুক। বলেন, ‘আমাদের আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে একটা ঘষামাজার মামলা। এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো প্রকারেই সাজা দিতে পারে না। তাহলে এই সাজা কোথা থেকে আসলো?

‘আমরা শুনতে পেরেছি রায়ের চারদিন আগে সচিবালয়ে নাকি সেই মামলার ড্রাফট হয়েছে কাকে কত বছর কাকে সাজা দেয়া হবে।’

‘আজকে আমরা জোর গলায় চিৎকার করে বলতে চাই বেগম জিয়ার ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রুচিহীন: ফারুক

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে রুচিহীন বলেছেন বিএনপি নেতা জয়নাল আবদীন ফারুক। তার দাবি, যে রায় দেয়া হয়েছে, সেটা লেখা হয়েছে সচিবালয়ে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সাবেক প্রধান হুইপ। খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে বিএনপিপন্থী একটি সংগঠন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি। ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর সমাবেশে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরি করে খাওয়া কোরআন শরিফেও নিষেধ আছে। কোরআন শরিফেও বলা আছে, এতিমের টাকা চুরি করো না, এতিমকে দাও।’

খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে বিএনপি নেতারা আন্দোলন করে। কিসের আন্দোলন? টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। আন্দোলন চোরের জন্য?’।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতা ফারুক বলেন, ‘আপনি যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন সেই বক্তব্যগুলো দয়া করে বন্ধ করে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন।’

শেখ হাসিনার আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট চাওয়ার সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে আপনি নির্বাচনী প্রচারণা করছেন, এটা কোনো গণতন্ত্র হতে পারে না। অবিলম্বে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

১৯৭৫ সালে সংসদে আওয়ামীল সরকার যে বাকশাল কায়েম করেছিল, বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তারা আবার সেই পরিকল্পনা করছে বলেও মন্তব্য করেন ফারুক।

রায় লেখা হয়েছে সচিবালয়ে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারক নন, সচিবালয়ে সরকারি কর্মকর্তারা রায় লিখে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফারুক। বলেন, ‘আমাদের আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে একটা ঘষামাজার মামলা। এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো প্রকারেই সাজা দিতে পারে না। তাহলে এই সাজা কোথা থেকে আসলো?

‘আমরা শুনতে পেরেছি রায়ের চারদিন আগে সচিবালয়ে নাকি সেই মামলার ড্রাফট হয়েছে কাকে কত বছর কাকে সাজা দেয়া হবে।’

‘আজকে আমরা জোর গলায় চিৎকার করে বলতে চাই বেগম জিয়ার ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।