ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে জরুরি সমন্বয় সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতেই এই সভা ডাকা হয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বোর্ড থেকে প্রশ্ন তৈরি করে বিজি প্রেসে ছাপাতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফাঁস হলে তার দায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। কারণ বিজি প্রেস জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ছাপিয়ে ট্রেজারিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফাঁস হলে এর দায় মাঠ প্রশাসনের। মাঠ প্রশাসন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ধারবাহিকভাবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণাসহ নানা উদ্যোগ নিলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত ‘প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাছাই-বাছাই কমিটি’ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে।

এদিকে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও চরম আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর কৌশল বের করতেই সভাটি ডাকা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডাক এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জনপ্রশাসন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক, এনএসআই’র মহাপরিচালক, বিজি প্রেসের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানসহ ১৮ সংস্থার প্রধানদের সভায় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্র আর জানায়, সরকারের যেসব মন্ত্রী, সচিব ও সংস্থার প্রধানদের ডাকা হয়েছে তারা কোনও না কোনোভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ এবং পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত। বৈঠকে প্রশ্নফাঁস ছাড়া কিভাবে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে। একটি কৌশলপত্রও চূড়ান্ত হবে। পাশাপাশি চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে জরুরি সমন্বয় সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় ০৪:০১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতেই এই সভা ডাকা হয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বোর্ড থেকে প্রশ্ন তৈরি করে বিজি প্রেসে ছাপাতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফাঁস হলে তার দায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। কারণ বিজি প্রেস জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ছাপিয়ে ট্রেজারিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফাঁস হলে এর দায় মাঠ প্রশাসনের। মাঠ প্রশাসন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ধারবাহিকভাবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণাসহ নানা উদ্যোগ নিলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত ‘প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাছাই-বাছাই কমিটি’ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে।

এদিকে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও চরম আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর কৌশল বের করতেই সভাটি ডাকা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডাক এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জনপ্রশাসন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক, এনএসআই’র মহাপরিচালক, বিজি প্রেসের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানসহ ১৮ সংস্থার প্রধানদের সভায় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্র আর জানায়, সরকারের যেসব মন্ত্রী, সচিব ও সংস্থার প্রধানদের ডাকা হয়েছে তারা কোনও না কোনোভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ এবং পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত। বৈঠকে প্রশ্নফাঁস ছাড়া কিভাবে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে। একটি কৌশলপত্রও চূড়ান্ত হবে। পাশাপাশি চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।