ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জানালা ভেঙে বাবাকে ফোন, অপহৃত ২ বোন উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিনাজপুর শহর থেকে দুই বোন কাকলী (১২) ও আমিনাকে (৪) অপহরণ করা হয় ২২ জানুয়ারি। তাদের আটকে রাখা হয় জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে।

সোমবার সকালে অপহৃত কাকলী তাদের আটক করে রাখা ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে সে একজনের মোবাইল দিয়ে তার বাবাকে ফোন করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। দুপুরে পুলিশ অপহৃত দুই বোনকে উদ্ধার করে।

দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় সায়েরা বেগম ও ইতি বেগম নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে এজাহারভুক্ত চার আসামিকেও আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে দিনাজপুর শহরের কসবা ফকিরপাড়া এলাকার কামরুল ইসলামের দুই শিশুকন্যা কাকলী ও আমিনা বাসার পাশে খেলা করতে যায়। সেখান থেকে তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি এবং পরবর্তী সময়ে ২৪ জানুয়ারি চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামি লিটন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রোখসানা ও নাজমা বেগমকে আটক করে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওয়াবুদ রহমান জানান, শিশু দুটি তাদের বাবার কাছে মোবাইল করলে সেই নম্বর ট্রাকিং করে কাকলী ও অমেনাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সায়রাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, তার বোন ইতি বেগম ওই শিশু দুটিকে রেখে গেছেন। তাদের অনেকবার বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলেও তারা বলেনি তাই আমি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি নাই। তারপর থেকে তারা এখানেই আছে।

এদিকে উপজেলার পশ্চিম গৌরীপাড়া গড়ইসলামপুর এন্তাজ আলীর ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত সায়রার বোন ইতির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তিনি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সেবিকার বাসায় কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে কাজ শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এক রিকশাচালক ওই বাচ্চা দুটোকে কাজে রাখার কথা বলে আমার কাছে রেখে যায়।

রিকশাচালক বলেন ইতিকে জানায়, শিশু দুটি এতিম তাদের এখানে কেউ নেই। ইতি তার বাড়িতে দুই দিন রাখার পর বাসায় থাকার জায়গা না থাকায় তিনি শিশু দুটিকে তার বোনের বাড়ি রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় রেখে আসেন।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, শিশু দুটি অপহরণ না অন্যকিছু তা তদন্ত করেই বলা যাবে। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর অপরাধীদের রেহাই দেয়া হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

জানালা ভেঙে বাবাকে ফোন, অপহৃত ২ বোন উদ্ধার

আপডেট সময় ১২:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিনাজপুর শহর থেকে দুই বোন কাকলী (১২) ও আমিনাকে (৪) অপহরণ করা হয় ২২ জানুয়ারি। তাদের আটকে রাখা হয় জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে।

সোমবার সকালে অপহৃত কাকলী তাদের আটক করে রাখা ঘরের জানালা ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে সে একজনের মোবাইল দিয়ে তার বাবাকে ফোন করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। দুপুরে পুলিশ অপহৃত দুই বোনকে উদ্ধার করে।

দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চৌধুরীপাড়া গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় সায়েরা বেগম ও ইতি বেগম নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে এজাহারভুক্ত চার আসামিকেও আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে দিনাজপুর শহরের কসবা ফকিরপাড়া এলাকার কামরুল ইসলামের দুই শিশুকন্যা কাকলী ও আমিনা বাসার পাশে খেলা করতে যায়। সেখান থেকে তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি এবং পরবর্তী সময়ে ২৪ জানুয়ারি চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামি লিটন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রোখসানা ও নাজমা বেগমকে আটক করে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওয়াবুদ রহমান জানান, শিশু দুটি তাদের বাবার কাছে মোবাইল করলে সেই নম্বর ট্রাকিং করে কাকলী ও অমেনাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সায়রাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, তার বোন ইতি বেগম ওই শিশু দুটিকে রেখে গেছেন। তাদের অনেকবার বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলেও তারা বলেনি তাই আমি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি নাই। তারপর থেকে তারা এখানেই আছে।

এদিকে উপজেলার পশ্চিম গৌরীপাড়া গড়ইসলামপুর এন্তাজ আলীর ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত সায়রার বোন ইতির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তিনি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সেবিকার বাসায় কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে কাজ শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এক রিকশাচালক ওই বাচ্চা দুটোকে কাজে রাখার কথা বলে আমার কাছে রেখে যায়।

রিকশাচালক বলেন ইতিকে জানায়, শিশু দুটি এতিম তাদের এখানে কেউ নেই। ইতি তার বাড়িতে দুই দিন রাখার পর বাসায় থাকার জায়গা না থাকায় তিনি শিশু দুটিকে তার বোনের বাড়ি রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় রেখে আসেন।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, শিশু দুটি অপহরণ না অন্যকিছু তা তদন্ত করেই বলা যাবে। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর অপরাধীদের রেহাই দেয়া হবে না।