ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজোর হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা জাভেদ আর নেই শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা শত বছরের দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: আদিলুর রহমান খান ‘মন্ত্রী হলে পরে হব, নির্বাচন ছাড়ব না’ জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল: খন্দকার মোশাররফ ৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে নতুন বার্তা পিসিবির ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ

জজ সাহেবকে দক্ষ করবে কে: ওয়াহহাব মিঞা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘পুরানা পল্টনের বক্তৃতার মত নয়, আইনের সারমর্ম, ব্যাখ্যা সমৃদ্ধ বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। তিনি আইনজীবীদের বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ইউ মাস্ট লার্নিং। যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল না থাকলে বলা হয় নিধিরাম সর্দার। উইদাউট বুক, উইদাউট নলেজ, আইনজীবীরাও তেমন।’

সমৃদ্ধ রায় পেতে হলে আইনজীবীদের আইনি দক্ষতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বার (আইনজীবী সমিতি) যদি সমৃদ্ধ হয়, তাহলে বেঞ্চ (আদালত) সমৃদ্ধ হয়। বার দুর্বল হলে বেঞ্চও দুর্বল হয়। কারণ জজ সাহেবকে দক্ষ করবে কে? দ্য লইয়ার্স। ইউ নট ফিট জাসেস, ইউ ক্যান’ট এক্সপেক্ট গুড জাজমেন্ট অ্যান্ড রিচ জাজমেন্ট।’

রোববার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সপ্তাহব্যাপী বইমেলা উদ্বোধনের পূর্বে শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন,‘আজকে যখন আমরা মামলা শুনি, অনেক ল’ইয়ারই যখন কোর্টে আরগুমেন্ট করতে যান বই ছাড়া। যখন জিজ্ঞাসা করি বই কোথায়? তখন এদিকে তাকায় ওদিকে তাকায়। খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে নলেজ ইজ পাওয়ার। বিচারকদের কাছ থেকে (মক্কেলের পক্ষে রায়) আদায় করতে হলে, সাবমিশনের মাধ্যমই আদায় করতে হবে। এখন আপনি যদি খালি পুরানা পল্টনের মত বক্তৃতা দিলে হবে না। বক্তৃতার মধ্যে সারমর্ম থাকতে হবে। আইনের কথা থাকতে হবে। আইনের ব্যাখ্যা থাকতে হবে।’

বই কেনা ও পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ‘শুধু বইমেলা করলে হবে না। বই কিনতে হবে। বিচারপতি ইমান আলী ফ্রি বই দিয়েছেন। শুধু ওগুলো নেবেন না। পাশাপাশি পয়সা দিয়েও কিনবেন। টাকা দিয়ে কিনলে দরদ বেশি হবে, পড়তেও ইচ্ছে করবে।অনেকে মক্কেলকে দেখানোর জন্য বইপুস্তক রাখেন। বই কিনবেন, তবে শুধু মক্কেলকে দেখানোর জন্য নয়। বই পড়বেন। যদি ভাল উকিল হতে চান, বই পড়বেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি যখন উকিল ছিলাম। তখন কোনো মামলার ফিস পেলেই বই কিনতাম। যদি দশ হাজার টাকা পেতাম তাহলে দুই হাজার টাকার বই কিনতাম। এভাবে বই কেনা শুরু করলে দেখবেন লাইব্রেরি রিচ হয়ে গেছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জজ সাহেবকে দক্ষ করবে কে: ওয়াহহাব মিঞা

আপডেট সময় ১০:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘পুরানা পল্টনের বক্তৃতার মত নয়, আইনের সারমর্ম, ব্যাখ্যা সমৃদ্ধ বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। তিনি আইনজীবীদের বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ইউ মাস্ট লার্নিং। যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল না থাকলে বলা হয় নিধিরাম সর্দার। উইদাউট বুক, উইদাউট নলেজ, আইনজীবীরাও তেমন।’

সমৃদ্ধ রায় পেতে হলে আইনজীবীদের আইনি দক্ষতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বার (আইনজীবী সমিতি) যদি সমৃদ্ধ হয়, তাহলে বেঞ্চ (আদালত) সমৃদ্ধ হয়। বার দুর্বল হলে বেঞ্চও দুর্বল হয়। কারণ জজ সাহেবকে দক্ষ করবে কে? দ্য লইয়ার্স। ইউ নট ফিট জাসেস, ইউ ক্যান’ট এক্সপেক্ট গুড জাজমেন্ট অ্যান্ড রিচ জাজমেন্ট।’

রোববার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সপ্তাহব্যাপী বইমেলা উদ্বোধনের পূর্বে শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন,‘আজকে যখন আমরা মামলা শুনি, অনেক ল’ইয়ারই যখন কোর্টে আরগুমেন্ট করতে যান বই ছাড়া। যখন জিজ্ঞাসা করি বই কোথায়? তখন এদিকে তাকায় ওদিকে তাকায়। খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে নলেজ ইজ পাওয়ার। বিচারকদের কাছ থেকে (মক্কেলের পক্ষে রায়) আদায় করতে হলে, সাবমিশনের মাধ্যমই আদায় করতে হবে। এখন আপনি যদি খালি পুরানা পল্টনের মত বক্তৃতা দিলে হবে না। বক্তৃতার মধ্যে সারমর্ম থাকতে হবে। আইনের কথা থাকতে হবে। আইনের ব্যাখ্যা থাকতে হবে।’

বই কেনা ও পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ‘শুধু বইমেলা করলে হবে না। বই কিনতে হবে। বিচারপতি ইমান আলী ফ্রি বই দিয়েছেন। শুধু ওগুলো নেবেন না। পাশাপাশি পয়সা দিয়েও কিনবেন। টাকা দিয়ে কিনলে দরদ বেশি হবে, পড়তেও ইচ্ছে করবে।অনেকে মক্কেলকে দেখানোর জন্য বইপুস্তক রাখেন। বই কিনবেন, তবে শুধু মক্কেলকে দেখানোর জন্য নয়। বই পড়বেন। যদি ভাল উকিল হতে চান, বই পড়বেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি যখন উকিল ছিলাম। তখন কোনো মামলার ফিস পেলেই বই কিনতাম। যদি দশ হাজার টাকা পেতাম তাহলে দুই হাজার টাকার বই কিনতাম। এভাবে বই কেনা শুরু করলে দেখবেন লাইব্রেরি রিচ হয়ে গেছে।’