ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

আমার ভবিষ্যৎ বাণী ঠিক হয়েছে: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগের দিন এক লাখ ভোটে জয়ের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভোটের ফলাফল হয়েছে তার ঘোষণা মতোই। ৯৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন জাপা প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রংপুরে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান অজানা নয় কারও। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আওয়ামী লীগের উত্থানও ঘটেছে। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের একাধিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এর মধ্যে এরশাদের এই ঘোষণা নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের আলোচনা ছিল।

এরশাদ বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলাম যে, আমরা এক লক্ষ ভোটে বিজয়ী হব। হয়েছেও তাই। চৌদ্দশ ভোট কম হয়েছে কেবল। মোটামুটি আমার ভবিষ্যৎবাণী সফল হয়েছে। এই নির্বাচনের পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।’

বৃহস্পতিবারের ভোটের ফলাফলে রংপুর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী, সমর্থকরা যারপরনাই আনন্দিত। তাদের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্যবিদায়ী মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন কেবল ৬২ হাজার চারশ ভোট। সাম্প্রতিককালে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ব্যবধানে জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী।

ভোটের পর দিন শুক্রবার সকাল থেকেই রংপুরে এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে যান নব নির্বাচিত মেয়র মোস্তফা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। তারা এরশাদ ও মোস্তফাকে শুভেচ্ছা জানান।এ সময় মোস্তফা দলের চেয়ারম্যান ও সরকারের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে জলাবদ্ধতা দূর এবং যানজট নিরসনে কাজ করবেন তিনি।

পরে এরশাদ কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি জানান, রংপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল তার বিবেচনায় অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনে আগে দলের প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হতো। এবার প্রতীক দিয়ে নির্বাচন হলো। এবারের ভোটে প্রমাণ হয়েছে এখানকার মানুষ লাঙ্গলকে ভালোবাসে। লাঙ্গলের প্রতিনিধিকে ভালোবাসে।’

এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম এই নির্বাচন আপনার জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় আপনাকে পাস করতে হবে। তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) বলেছিলেন, তিনি এবং তারা প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করবেন। আশা করি উনি কথা রাখতে পারবেন।’

এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে যাবে দাবি জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচনের কারণে আমাদের কর্মীরা উদ্বেলিত হয়েছে, উচ্ছ্বসিত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে জাতীয় পার্টির একটা ভবিষ্যৎ আছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ফের ‘পান্ডা কূটনীতি’ চীনের

আমার ভবিষ্যৎ বাণী ঠিক হয়েছে: এরশাদ

আপডেট সময় ১১:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগের দিন এক লাখ ভোটে জয়ের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভোটের ফলাফল হয়েছে তার ঘোষণা মতোই। ৯৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন জাপা প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রংপুরে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান অজানা নয় কারও। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আওয়ামী লীগের উত্থানও ঘটেছে। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের একাধিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এর মধ্যে এরশাদের এই ঘোষণা নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের আলোচনা ছিল।

এরশাদ বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলাম যে, আমরা এক লক্ষ ভোটে বিজয়ী হব। হয়েছেও তাই। চৌদ্দশ ভোট কম হয়েছে কেবল। মোটামুটি আমার ভবিষ্যৎবাণী সফল হয়েছে। এই নির্বাচনের পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।’

বৃহস্পতিবারের ভোটের ফলাফলে রংপুর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী, সমর্থকরা যারপরনাই আনন্দিত। তাদের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্যবিদায়ী মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন কেবল ৬২ হাজার চারশ ভোট। সাম্প্রতিককালে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ব্যবধানে জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী।

ভোটের পর দিন শুক্রবার সকাল থেকেই রংপুরে এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে যান নব নির্বাচিত মেয়র মোস্তফা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। তারা এরশাদ ও মোস্তফাকে শুভেচ্ছা জানান।এ সময় মোস্তফা দলের চেয়ারম্যান ও সরকারের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে জলাবদ্ধতা দূর এবং যানজট নিরসনে কাজ করবেন তিনি।

পরে এরশাদ কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি জানান, রংপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল তার বিবেচনায় অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনে আগে দলের প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হতো। এবার প্রতীক দিয়ে নির্বাচন হলো। এবারের ভোটে প্রমাণ হয়েছে এখানকার মানুষ লাঙ্গলকে ভালোবাসে। লাঙ্গলের প্রতিনিধিকে ভালোবাসে।’

এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম এই নির্বাচন আপনার জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় আপনাকে পাস করতে হবে। তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) বলেছিলেন, তিনি এবং তারা প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করবেন। আশা করি উনি কথা রাখতে পারবেন।’

এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে যাবে দাবি জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচনের কারণে আমাদের কর্মীরা উদ্বেলিত হয়েছে, উচ্ছ্বসিত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে জাতীয় পার্টির একটা ভবিষ্যৎ আছে।’