ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

আমার ভবিষ্যৎ বাণী ঠিক হয়েছে: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগের দিন এক লাখ ভোটে জয়ের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভোটের ফলাফল হয়েছে তার ঘোষণা মতোই। ৯৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন জাপা প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রংপুরে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান অজানা নয় কারও। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আওয়ামী লীগের উত্থানও ঘটেছে। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের একাধিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এর মধ্যে এরশাদের এই ঘোষণা নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের আলোচনা ছিল।

এরশাদ বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলাম যে, আমরা এক লক্ষ ভোটে বিজয়ী হব। হয়েছেও তাই। চৌদ্দশ ভোট কম হয়েছে কেবল। মোটামুটি আমার ভবিষ্যৎবাণী সফল হয়েছে। এই নির্বাচনের পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।’

বৃহস্পতিবারের ভোটের ফলাফলে রংপুর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী, সমর্থকরা যারপরনাই আনন্দিত। তাদের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্যবিদায়ী মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন কেবল ৬২ হাজার চারশ ভোট। সাম্প্রতিককালে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ব্যবধানে জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী।

ভোটের পর দিন শুক্রবার সকাল থেকেই রংপুরে এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে যান নব নির্বাচিত মেয়র মোস্তফা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। তারা এরশাদ ও মোস্তফাকে শুভেচ্ছা জানান।এ সময় মোস্তফা দলের চেয়ারম্যান ও সরকারের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে জলাবদ্ধতা দূর এবং যানজট নিরসনে কাজ করবেন তিনি।

পরে এরশাদ কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি জানান, রংপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল তার বিবেচনায় অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনে আগে দলের প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হতো। এবার প্রতীক দিয়ে নির্বাচন হলো। এবারের ভোটে প্রমাণ হয়েছে এখানকার মানুষ লাঙ্গলকে ভালোবাসে। লাঙ্গলের প্রতিনিধিকে ভালোবাসে।’

এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম এই নির্বাচন আপনার জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় আপনাকে পাস করতে হবে। তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) বলেছিলেন, তিনি এবং তারা প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করবেন। আশা করি উনি কথা রাখতে পারবেন।’

এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে যাবে দাবি জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচনের কারণে আমাদের কর্মীরা উদ্বেলিত হয়েছে, উচ্ছ্বসিত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে জাতীয় পার্টির একটা ভবিষ্যৎ আছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

আমার ভবিষ্যৎ বাণী ঠিক হয়েছে: এরশাদ

আপডেট সময় ১১:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগের দিন এক লাখ ভোটে জয়ের কথা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভোটের ফলাফল হয়েছে তার ঘোষণা মতোই। ৯৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন জাপা প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রংপুরে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান অজানা নয় কারও। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আওয়ামী লীগের উত্থানও ঘটেছে। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের একাধিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এর মধ্যে এরশাদের এই ঘোষণা নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের আলোচনা ছিল।

এরশাদ বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলাম যে, আমরা এক লক্ষ ভোটে বিজয়ী হব। হয়েছেও তাই। চৌদ্দশ ভোট কম হয়েছে কেবল। মোটামুটি আমার ভবিষ্যৎবাণী সফল হয়েছে। এই নির্বাচনের পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।’

বৃহস্পতিবারের ভোটের ফলাফলে রংপুর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী, সমর্থকরা যারপরনাই আনন্দিত। তাদের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্যবিদায়ী মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন কেবল ৬২ হাজার চারশ ভোট। সাম্প্রতিককালে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ব্যবধানে জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী।

ভোটের পর দিন শুক্রবার সকাল থেকেই রংপুরে এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে যান নব নির্বাচিত মেয়র মোস্তফা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী। তারা এরশাদ ও মোস্তফাকে শুভেচ্ছা জানান।এ সময় মোস্তফা দলের চেয়ারম্যান ও সরকারের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে জলাবদ্ধতা দূর এবং যানজট নিরসনে কাজ করবেন তিনি।

পরে এরশাদ কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি জানান, রংপুর সিটি নির্বাচনের ফলাফল তার বিবেচনায় অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনে আগে দলের প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হতো। এবার প্রতীক দিয়ে নির্বাচন হলো। এবারের ভোটে প্রমাণ হয়েছে এখানকার মানুষ লাঙ্গলকে ভালোবাসে। লাঙ্গলের প্রতিনিধিকে ভালোবাসে।’

এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম এই নির্বাচন আপনার জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় আপনাকে পাস করতে হবে। তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) বলেছিলেন, তিনি এবং তারা প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করবেন। আশা করি উনি কথা রাখতে পারবেন।’

এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে যাবে দাবি জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচনের কারণে আমাদের কর্মীরা উদ্বেলিত হয়েছে, উচ্ছ্বসিত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে জাতীয় পার্টির একটা ভবিষ্যৎ আছে।’