ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাটে শিশুর লাশ উদ্ধার: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর,এসপিসহ আহত ৩০ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : মির্জা ফখরুল আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকতো না: ট্রাম্প বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলমান: উপদেষ্টা জাহেদ পরীমনিকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে সেই এডিসি সাকলায়েনকে :স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেবাননে হামলা বরদাশত করা হবে না: ইরান বাংলাদেশের বিমান খাতে কাজ করতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা: রেলমন্ত্রী শিগগিরই শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রবাসীকে বিদায় জানাতে গিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত নারী, আহত ৮

একাত্তরের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ১৬ ডিসেম্বর

অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১, মহান বিজয় দিবস।

বাঙ্গালী জাতির জন্য গৌরব, অহঙ্কার ও সবচেয়ে আনন্দপূর্ণ দিন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সূচীত বাংলাদেশের বিজয়। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীর বুকে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম নতুন একটি দেশ, বাংলাদেশের। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙ্গালী জাতি।

৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলার বীর সন্তানদের কাছে পরাজিত হয়ে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ৭১-এর এই দিনে বিকেল সাড়ে ৪টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সামনে হানাদার বাহিনী অস্ত্র ফেলে দিয়ে অবনত মস্তকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।

একাত্তরের এই দিনে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক কর্মকর্তা জন কেলি সকাল বেলায় ঢাকা সেনানিবাসের কমান্ড বাঙ্কারে পৌঁছেন। সেখানে লে. জেনারেল নিয়াজীকে পাওয়া গেল না। বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া গেল জেনারেল রাও ফরমানকে। রাও ফরমান জন কেলিকে বলেন, মিত্রবাহিনীর কাছ থেকে তারা আত্মসমর্পণের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। কিন্তু মিত্রবাহিনীর সাথে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় এই খবরটি তাদের জানাতে পারছে না।

এই সময় জন কেলি রাও ফরমানকে জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। এ সময় আত্মসমর্পণের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় বিকেল সাড়ে ৪টা। ঢাকাবাসী যখন এই আত্মসমর্পণের সময় জানতে পারল তখন তারা মেতে উঠে আনন্দ উল্লাসে। তাদের উল্লাস আর দেখে কে!

এই দিন সকাল ১০:৪০ মিনিটে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করে। তার আগেই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ঢাকায় ঢুকে পড়ে। বিকেল বেলায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রস্তুত হলো এক ঐতিহাসিক বিজয়ের মুহূর্তের জন্য। বিকেল সাড়ে ৪টায় লে. জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে আত্মসমর্পণ করে ৯১ হাজার ৫৪৯ জন পাক হানাদার বাহিনীর সৈন্য। মেজর জেনারেল জ্যাকবের তৈরি করা আত্মসমর্পণের দলিলে বিকালে সই করেন লে. জেনারেল নিয়াজি ও লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ সময় মুজিবনগর সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। জন্ম নেয় আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে শিশুর লাশ উদ্ধার: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর,এসপিসহ আহত ৩০

একাত্তরের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ১৬ ডিসেম্বর

আপডেট সময় ১২:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ ইতিহাস ডেস্ক:

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১, মহান বিজয় দিবস।

বাঙ্গালী জাতির জন্য গৌরব, অহঙ্কার ও সবচেয়ে আনন্দপূর্ণ দিন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সূচীত বাংলাদেশের বিজয়। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীর বুকে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম নতুন একটি দেশ, বাংলাদেশের। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙ্গালী জাতি।

৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলার বীর সন্তানদের কাছে পরাজিত হয়ে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ৭১-এর এই দিনে বিকেল সাড়ে ৪টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সামনে হানাদার বাহিনী অস্ত্র ফেলে দিয়ে অবনত মস্তকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।

একাত্তরের এই দিনে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক কর্মকর্তা জন কেলি সকাল বেলায় ঢাকা সেনানিবাসের কমান্ড বাঙ্কারে পৌঁছেন। সেখানে লে. জেনারেল নিয়াজীকে পাওয়া গেল না। বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া গেল জেনারেল রাও ফরমানকে। রাও ফরমান জন কেলিকে বলেন, মিত্রবাহিনীর কাছ থেকে তারা আত্মসমর্পণের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। কিন্তু মিত্রবাহিনীর সাথে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় এই খবরটি তাদের জানাতে পারছে না।

এই সময় জন কেলি রাও ফরমানকে জাতিসংঘের বেতার সংকেত ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। এ সময় আত্মসমর্পণের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় বিকেল সাড়ে ৪টা। ঢাকাবাসী যখন এই আত্মসমর্পণের সময় জানতে পারল তখন তারা মেতে উঠে আনন্দ উল্লাসে। তাদের উল্লাস আর দেখে কে!

এই দিন সকাল ১০:৪০ মিনিটে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করে। তার আগেই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মিরপুর ব্রিজ দিয়ে ঢাকায় ঢুকে পড়ে। বিকেল বেলায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রস্তুত হলো এক ঐতিহাসিক বিজয়ের মুহূর্তের জন্য। বিকেল সাড়ে ৪টায় লে. জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে আত্মসমর্পণ করে ৯১ হাজার ৫৪৯ জন পাক হানাদার বাহিনীর সৈন্য। মেজর জেনারেল জ্যাকবের তৈরি করা আত্মসমর্পণের দলিলে বিকালে সই করেন লে. জেনারেল নিয়াজি ও লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ সময় মুজিবনগর সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। জন্ম নেয় আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।