ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করব : মির্জা আব্বাস ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি

ইন্তিফাদা শুরু হলে বিপাকে পড়বে ইসরায়েল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জেরুজালেমে বসবাসরত সাংবাদিক হারেন্দ্র মিশ্র বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিরা যে প্রতিরোধ আন্দোলন বা ইন্তিফাদা’র ডাক দিয়েছে তাতে ইসরায়েলের জন্যে এক বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

বিবিসি বাংলাকে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এর আগে যখন ফিলিস্তিনে দুটি ইন্তিফাদা হয়েছিল তখন হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। এই ইন্তিফাদা যদি এখানে আবার হয় তাহলে অনেক বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ওইখানে তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না। বিশেষ করে গাজা এবং পশ্চিম তীরে যে রকম বেকারত্ব আছে আর তার সাথে যদি ইন্তিফাদা যোগ হয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলের জন্য অনেক বড় সমস্যা হতে পারে।

ফিলিস্তিন গোষ্ঠী হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া ইতিমধ্যে নতুন এক ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন। তাছাড়া অনেক পর্যবেক্ষকই বলছেন, ফিলিস্তিন বিক্ষোভ বিপদজনক রূপ নিতে পারে। যে বিভক্ত শহর নিয়ে এই বিরোধ সেই জেরুজালেমেই বাস করছেন সাংবাদিক হারেন্দ্র মিশ্র।

তিনি বলেন, জেরুজালের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা অনেক খুশি হয়েছে। কিস্তু তার সাথে সাথে এখানের যে দৌদিজা বাসিন্দারা আছে তাদের মধ্যেও দুটো পক্ষ রয়েছে যার একটি পক্ষ খুশি হলেও আরেক পক্ষ মনে করছে এখানে ট্রাম্পের ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেম এমন ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে। অনেক হিংসাত্বক ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা করছেন তারা। গাজাতেও এ ধরনের গোলোযোগ ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১৯৯৩ সালে শান্তি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু মি. ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জেরুজালের লোকজন এখন কী মনে করছেন?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেরুজালেমের যারা ইহুদি বিশেষজ্ঞ, তারাও মনে করেন যদি এই রকম হয় যে শান্তি চুক্তি নিয়ে আর কথা না হয়, আর যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা না করতে পারে, সংকটের সমাধান না হলে উদ্বেগ আরো বাড়বে। দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা না হলে, সংঘাত বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বা ইসারায়েল ও ফিলিস্তিনে ‘ডেমোগ্রাফি প্রোফাইলে’ জটিলতা আরো তীব্র হবে।

মি. ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর জেরুজালেমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কী কোনো শঙ্কা তৈরি হয়েছে?

এই প্রশ্নের জবাবে হারেন্দ্র মিশ্র বলেন, শঙ্কাতো আগে থেকেই দেখা দিয়েছে, তবে পবিত্র স্থানগুলো ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। কঠোর নিরাপত্তা আছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। কিন্তু শীঘ্রই যদি সংকটের কোনো সমাধান না করা যায় তাহলে পরিস্থিতি হয়তো ইন্তিফাদায় রূপ নিতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্তিফাদা শুরু হলে বিপাকে পড়বে ইসরায়েল

আপডেট সময় ০৪:২০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জেরুজালেমে বসবাসরত সাংবাদিক হারেন্দ্র মিশ্র বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিরা যে প্রতিরোধ আন্দোলন বা ইন্তিফাদা’র ডাক দিয়েছে তাতে ইসরায়েলের জন্যে এক বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

বিবিসি বাংলাকে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এর আগে যখন ফিলিস্তিনে দুটি ইন্তিফাদা হয়েছিল তখন হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। এই ইন্তিফাদা যদি এখানে আবার হয় তাহলে অনেক বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ওইখানে তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না। বিশেষ করে গাজা এবং পশ্চিম তীরে যে রকম বেকারত্ব আছে আর তার সাথে যদি ইন্তিফাদা যোগ হয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলের জন্য অনেক বড় সমস্যা হতে পারে।

ফিলিস্তিন গোষ্ঠী হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া ইতিমধ্যে নতুন এক ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন। তাছাড়া অনেক পর্যবেক্ষকই বলছেন, ফিলিস্তিন বিক্ষোভ বিপদজনক রূপ নিতে পারে। যে বিভক্ত শহর নিয়ে এই বিরোধ সেই জেরুজালেমেই বাস করছেন সাংবাদিক হারেন্দ্র মিশ্র।

তিনি বলেন, জেরুজালের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা অনেক খুশি হয়েছে। কিস্তু তার সাথে সাথে এখানের যে দৌদিজা বাসিন্দারা আছে তাদের মধ্যেও দুটো পক্ষ রয়েছে যার একটি পক্ষ খুশি হলেও আরেক পক্ষ মনে করছে এখানে ট্রাম্পের ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেম এমন ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে। অনেক হিংসাত্বক ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা করছেন তারা। গাজাতেও এ ধরনের গোলোযোগ ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১৯৯৩ সালে শান্তি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু মি. ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জেরুজালের লোকজন এখন কী মনে করছেন?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেরুজালেমের যারা ইহুদি বিশেষজ্ঞ, তারাও মনে করেন যদি এই রকম হয় যে শান্তি চুক্তি নিয়ে আর কথা না হয়, আর যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা না করতে পারে, সংকটের সমাধান না হলে উদ্বেগ আরো বাড়বে। দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা না হলে, সংঘাত বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বা ইসারায়েল ও ফিলিস্তিনে ‘ডেমোগ্রাফি প্রোফাইলে’ জটিলতা আরো তীব্র হবে।

মি. ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর জেরুজালেমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কী কোনো শঙ্কা তৈরি হয়েছে?

এই প্রশ্নের জবাবে হারেন্দ্র মিশ্র বলেন, শঙ্কাতো আগে থেকেই দেখা দিয়েছে, তবে পবিত্র স্থানগুলো ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। কঠোর নিরাপত্তা আছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। কিন্তু শীঘ্রই যদি সংকটের কোনো সমাধান না করা যায় তাহলে পরিস্থিতি হয়তো ইন্তিফাদায় রূপ নিতে পারে।