ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

জয় পাবে এমন প্রার্থীকেই ডিএনসিসি’র মনোনয়ন দেয়া হবে: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র পদে উপনির্বাচনে জিততে পারবেন এমন প্রার্থী দেয়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) রোগী দেখে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের।

আঁখি মনি নামে একজন জন্মগত প্রতিবন্ধীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন কাদের। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতেই এই হাসপাতালে যান তিনি। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার মারা যাওয়ার তিন দিনের মাথায় রবিবার পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ১ ডিসেম্বর থেকে পদটি শূন্য ঘোষণা করায় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এখানে উপ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১৫ সালের এপ্রিলের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে আনিসুল হককে প্রার্থী করেছিল। কঠিন নির্বাচনী বাধা তিনি পার হয়েছিলেন সহজেই। তার জায়গায় আওয়ামী লীগ কাকে এবার প্রার্থী করে সে বিষয়ে আলোচনা আছে। আওয়ামী লীগ কাকে প্রার্থী করবে, কারা বিবেচনায় আছে, সে বিষয়ে অবশ্য ওবায়দুল কাদের কিছু বলেননি। তিনি কেবল বলেন, ‘এখানে আমরা জেতার জন্য যিনি উইনবেল ক্যান্ডিডেট (জেতার যোগ্যতা আছে), তাকেই দেব।’

মেয়রের মৃত্যুর পর এত দ্রুত নির্বাচনের আলোচনা অশোভন- বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘আমার মনে হয় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই, সে কারণে তাই তাঁরা এ ধরনের কথা বলছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে চায়- বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমন বক্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় ওবায়দুল কাদেরের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁরা আসলে কখন যে কী বলে এটা তাঁরাই ভালো জানে। তাদের কেউ বলে যে কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা নির্বাচনে যাবে। আবার কেউ বলে বেগম জিয়া সাজা হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। আমার প্রশ্ন তাদের কোন কথাটা সত্য? খালেদা জিয়ার মামলা তো সরকার করে নাই। এ দুর্নীতির মামলা ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিন সরকার করেছে।’

‘খালেদা জিয়ার সাজা হবে কি হবে না, এটা সরকারের বিষয় না। এটা আদালতের বিষয়। এখানে সাজা হলে উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট আছে। তারপর আবার রিভিউও রয়েছে। নির্বাচন তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যা তাঁর নিজস্ব প্রক্রিয়া চলবে। নির্বাচন তাঁরাও চান, আমারও চাই।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি অনেকবার বলেছি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চাই। যেটা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন চাই না। তারা যদি নির্বাচনে আসতো তাহলে আজকে এসব কথা তো শুনতে হতো না, যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এতজন নির্বাচিত হয়েছে। এটা তো আমরা চাইনি। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে আসেনি তাই অনেক আসনে একক প্রার্থী ছিলো, তাই আইনানুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করেছে।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করা আবার রোহিঙ্গাদের ভাষাণচরে পুর্নবাসনের ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘প্রত্যাবাসন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। উখিয়া-টেকনাফের জনসংখ্যা সাড়ে চার লাখ। এখন সেখানে রোহিঙ্গা এসেছে সাড়ে ১০ লাখ। এতে আমাদের সাড়ে চার লাখ জনগণ উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। আমাদের প্রকৃতি হুমকির মুখে। তাদেরকে সেখানে তাবুতে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন তা কিভাবে রাখা হবে? ওখানের মানুষ ধৈর্যহারা হচ্ছে। তাদের টলারেবল লেভেল অতিক্রম করছে।’

‘আমার গতকালের সফর ছিল সেখানকার জনগণকে সান্তনা দেয়া, তাদের আশ্বস্ত করা যে আমরা প্রত্যাবাসনের (রোহিঙ্গা) ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিতও হতে পারে। তাই এত লোকদের যদি আমরা স্থান্তারিত না করি, তাহলে আমাদের পর্যটন শিল্পও হুমকির মুখে পড়বে। সেখানের স্থানীয় অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়বে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

জয় পাবে এমন প্রার্থীকেই ডিএনসিসি’র মনোনয়ন দেয়া হবে: কাদের

আপডেট সময় ০১:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র পদে উপনির্বাচনে জিততে পারবেন এমন প্রার্থী দেয়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) রোগী দেখে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের।

আঁখি মনি নামে একজন জন্মগত প্রতিবন্ধীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন কাদের। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতেই এই হাসপাতালে যান তিনি। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার মারা যাওয়ার তিন দিনের মাথায় রবিবার পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ১ ডিসেম্বর থেকে পদটি শূন্য ঘোষণা করায় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এখানে উপ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১৫ সালের এপ্রিলের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে আনিসুল হককে প্রার্থী করেছিল। কঠিন নির্বাচনী বাধা তিনি পার হয়েছিলেন সহজেই। তার জায়গায় আওয়ামী লীগ কাকে এবার প্রার্থী করে সে বিষয়ে আলোচনা আছে। আওয়ামী লীগ কাকে প্রার্থী করবে, কারা বিবেচনায় আছে, সে বিষয়ে অবশ্য ওবায়দুল কাদের কিছু বলেননি। তিনি কেবল বলেন, ‘এখানে আমরা জেতার জন্য যিনি উইনবেল ক্যান্ডিডেট (জেতার যোগ্যতা আছে), তাকেই দেব।’

মেয়রের মৃত্যুর পর এত দ্রুত নির্বাচনের আলোচনা অশোভন- বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘আমার মনে হয় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই, সে কারণে তাই তাঁরা এ ধরনের কথা বলছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে চায়- বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমন বক্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় ওবায়দুল কাদেরের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁরা আসলে কখন যে কী বলে এটা তাঁরাই ভালো জানে। তাদের কেউ বলে যে কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা নির্বাচনে যাবে। আবার কেউ বলে বেগম জিয়া সাজা হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। আমার প্রশ্ন তাদের কোন কথাটা সত্য? খালেদা জিয়ার মামলা তো সরকার করে নাই। এ দুর্নীতির মামলা ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিন সরকার করেছে।’

‘খালেদা জিয়ার সাজা হবে কি হবে না, এটা সরকারের বিষয় না। এটা আদালতের বিষয়। এখানে সাজা হলে উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট আছে। তারপর আবার রিভিউও রয়েছে। নির্বাচন তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যা তাঁর নিজস্ব প্রক্রিয়া চলবে। নির্বাচন তাঁরাও চান, আমারও চাই।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি অনেকবার বলেছি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চাই। যেটা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন চাই না। তারা যদি নির্বাচনে আসতো তাহলে আজকে এসব কথা তো শুনতে হতো না, যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এতজন নির্বাচিত হয়েছে। এটা তো আমরা চাইনি। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে আসেনি তাই অনেক আসনে একক প্রার্থী ছিলো, তাই আইনানুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করেছে।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করা আবার রোহিঙ্গাদের ভাষাণচরে পুর্নবাসনের ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘প্রত্যাবাসন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। উখিয়া-টেকনাফের জনসংখ্যা সাড়ে চার লাখ। এখন সেখানে রোহিঙ্গা এসেছে সাড়ে ১০ লাখ। এতে আমাদের সাড়ে চার লাখ জনগণ উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। আমাদের প্রকৃতি হুমকির মুখে। তাদেরকে সেখানে তাবুতে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন তা কিভাবে রাখা হবে? ওখানের মানুষ ধৈর্যহারা হচ্ছে। তাদের টলারেবল লেভেল অতিক্রম করছে।’

‘আমার গতকালের সফর ছিল সেখানকার জনগণকে সান্তনা দেয়া, তাদের আশ্বস্ত করা যে আমরা প্রত্যাবাসনের (রোহিঙ্গা) ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিতও হতে পারে। তাই এত লোকদের যদি আমরা স্থান্তারিত না করি, তাহলে আমাদের পর্যটন শিল্পও হুমকির মুখে পড়বে। সেখানের স্থানীয় অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়বে।’