ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কম্বোডিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনদিনের সরকারি সফরে কম্বোডিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটটি দেশটির রাজধানীর নমপেনের উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানটি দুপুর সাড়ে ১২টায় (স্থানীয় সময়) নমপেন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরে এশিয়ার এ দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের নিযুক্ত মিনিস্টার ইন ওয়েটিং এবং থাইল্যন্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কম্বোডিয়ায় বর্তমানে এ্যাক্রেডিটেড সাদিয়া মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অর্ভ্যথনা জানাবেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেখ হাসিনাকে একটি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল সোফিটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। কম্বোডিয়া সফরকালে তিনি এই হোটেলেই থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী বিকালে নমপেনে স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তিনি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের রাজকীয় স্মৃতি মূর্তিতে ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেয়া এক নৈশভোজে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও যোগ দেবেন। আগামীকাল সোমবার দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলোচনার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।

পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ১১টি চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের জাতির পিতার নামে ঢাকা ও নমপেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণের ঘোষণা দেয়া হবে। পরে শেখ হাসিনা ও হুন সেন যৌথ বিবৃতি দেবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহানুকের সঙ্গে রাজকীয় স্রোতা এবং কম্বোডিয়ান সিনেট প্রেসিডেন্ট সে চুহুম ও ন্যাশনাল এসেম্বলি প্রেসিডেন্ট হেং সেমারিনের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন। তিন দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ৫ ডিসেম্বর বিকালে দেশে ফিরবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সফর দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল, যৌথ ট্রেড কাউন্সিল গঠন, ২০৩০-এর মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সহযোগিতা, শ্রম ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দু’দেশের বাণিজ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং কম্বোডিয়ার রয়্যাল একাডেমির (আরএসি) মধ্যে একাডেমি সম্পর্কে বৃদ্ধি সম্পর্কিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

ঢাকার কূটনৈতিক অঞ্চলে বারিধারা পার্ক রোড কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুক এবং নমপেনের একটি সড়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কম্বোডিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:২৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনদিনের সরকারি সফরে কম্বোডিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটটি দেশটির রাজধানীর নমপেনের উদ্দেশে রওনা হয়। বিমানটি দুপুর সাড়ে ১২টায় (স্থানীয় সময়) নমপেন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরে এশিয়ার এ দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের নিযুক্ত মিনিস্টার ইন ওয়েটিং এবং থাইল্যন্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং কম্বোডিয়ায় বর্তমানে এ্যাক্রেডিটেড সাদিয়া মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অর্ভ্যথনা জানাবেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেখ হাসিনাকে একটি মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল সোফিটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। কম্বোডিয়া সফরকালে তিনি এই হোটেলেই থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী বিকালে নমপেনে স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তিনি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের রাজকীয় স্মৃতি মূর্তিতে ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেয়া এক নৈশভোজে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও যোগ দেবেন। আগামীকাল সোমবার দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আলোচনার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।

পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ১১টি চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের জাতির পিতার নামে ঢাকা ও নমপেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণের ঘোষণা দেয়া হবে। পরে শেখ হাসিনা ও হুন সেন যৌথ বিবৃতি দেবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহানুকের সঙ্গে রাজকীয় স্রোতা এবং কম্বোডিয়ান সিনেট প্রেসিডেন্ট সে চুহুম ও ন্যাশনাল এসেম্বলি প্রেসিডেন্ট হেং সেমারিনের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন। তিন দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ৫ ডিসেম্বর বিকালে দেশে ফিরবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সফর দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল, যৌথ ট্রেড কাউন্সিল গঠন, ২০৩০-এর মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সহযোগিতা, শ্রম ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দু’দেশের বাণিজ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং কম্বোডিয়ার রয়্যাল একাডেমির (আরএসি) মধ্যে একাডেমি সম্পর্কে বৃদ্ধি সম্পর্কিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

ঢাকার কূটনৈতিক অঞ্চলে বারিধারা পার্ক রোড কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুক এবং নমপেনের একটি সড়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।