ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় তুলার গোডাউনে আগুন সামষ্টিক চাপে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন চট্টগ্রামে জোড়াখুনের রহস্য উদঘাটন:স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়েই মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রংপুরে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবের বর্ণাঢ্য র‌্যালি অর্থনীতির পুনর্গঠন অন্যতম অগ্রাধিকার: সংসদে অর্থমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘লাঠি ও পাথর মেরে’ বিতাড়নের আহ্বান সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রথমবারের মতো সফল ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং, প্রশংসায় ভাসছেন ডা. হিমু জেনেভায় হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই, আয়োজক পাকিস্তান: শেহবাজ কোম্পানীগঞ্জে এক রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি

খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে রবিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ: রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার দেশের মহানগর, জেলা ও থানায় থানায় বিক্ষোভ করবে দলটি।

বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

দুপরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে খালেদা বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারিকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক দাবি করে রিজভী বলেছেন, এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর হরতাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে খালেদা জিয়া আজ আদালতে হাজির হতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে সময়ও চেয়েছিলেন। এমনকি হরতাল শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান বলে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রধানের পাশবিক জিঘাংসার প্রতিফলন এটি। জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হিংসাপরায়ণ সরকারের বিভিষিকাময় আস্ফালন।’

রিজভী বলেন, ‘এই আদালতে বেগম খালেদা জিয়া যে ন্যায়বিচার পাবেন না, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তা আরও পরিষ্কার হলো। যেখানে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তা নেই, যেখানে জোর করে অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে তাঁকে বাধ্য করা হয়, তারপর বিদেশে প্রধান বিচারপতির নিকট সরকারের লোকেরা গিয়ে হুমকি দিয়ে তাঁকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান কিভাবে ন্যায়বিচার পাবেন?’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই সরকার প্রধানের নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলকভাবে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপর আজকে আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি যে সরকারের পরিকল্পিত ও নীলনকশার অংশ সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই।’

রিজভী বলেন, ‘মনে হয়-বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার জ্বালা সরকার প্রধানের মনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে। এ আগুন যেন অনির্বাণ। নিপীড়ণের মাত্রা কত তীব্র হলে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালা মিটবে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পরই রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে যুবদল। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি মৎস্য ভবনের সামনে থেকে বের হয়। কাকরাইল মোড়ে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমি কোনো দৌড়ে থাকতে চাই না: ভাবনা

খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে রবিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ: রিজভী

আপডেট সময় ১২:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার দেশের মহানগর, জেলা ও থানায় থানায় বিক্ষোভ করবে দলটি।

বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

দুপরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে খালেদা বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারিকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক দাবি করে রিজভী বলেছেন, এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর হরতাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে খালেদা জিয়া আজ আদালতে হাজির হতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে সময়ও চেয়েছিলেন। এমনকি হরতাল শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান বলে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রধানের পাশবিক জিঘাংসার প্রতিফলন এটি। জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হিংসাপরায়ণ সরকারের বিভিষিকাময় আস্ফালন।’

রিজভী বলেন, ‘এই আদালতে বেগম খালেদা জিয়া যে ন্যায়বিচার পাবেন না, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তা আরও পরিষ্কার হলো। যেখানে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তা নেই, যেখানে জোর করে অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে তাঁকে বাধ্য করা হয়, তারপর বিদেশে প্রধান বিচারপতির নিকট সরকারের লোকেরা গিয়ে হুমকি দিয়ে তাঁকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান কিভাবে ন্যায়বিচার পাবেন?’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই সরকার প্রধানের নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলকভাবে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপর আজকে আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি যে সরকারের পরিকল্পিত ও নীলনকশার অংশ সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই।’

রিজভী বলেন, ‘মনে হয়-বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার জ্বালা সরকার প্রধানের মনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে। এ আগুন যেন অনির্বাণ। নিপীড়ণের মাত্রা কত তীব্র হলে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালা মিটবে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পরই রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে যুবদল। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি মৎস্য ভবনের সামনে থেকে বের হয়। কাকরাইল মোড়ে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয়।