ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলব: জামায়াত আমির হাসিনা যুগের সমাপ্তি? জয় বললেন ‘সম্ভবত তাই’ ‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ ধ্বনিতে মুখরিত সিলেটের আলিয়া মাঠ ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিপুল ভোটে জিতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে : নাহিদ ইসলাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণা ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে : শফিকুল আলম

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী ও তাঁর প্রেমিকার মৃত্যুদণ্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর সাভারে মানবিক সাহায্য সংস্থার হিসাবরক্ষক শামীমা আকতার ওরফে হ্যাপি হত্যা মামলায় স্বামী মুকুল হোসেন ও তাঁর প্রেমিকা লাভলী আকতারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে আসামি মুকুল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি লাভলী আকতার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। মামলায় তাঁকে পলাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত মুকুলের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। রায়ে বলা হয়, আসামি লাভলী আকতার গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে এ রায় কার্যকর হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামি লাভলী আকতার ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি—এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আসামি লাভলীর স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা রয়েছে। এরপরও এই আসামির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত নারীর বিষয়ে জানা যেত।

রায়ে বলা হয়, আসামি মুকুল হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ও তাঁর প্রেমিকা লাভলী আকতারসহ আরেকজন নারী মিলে শামীমাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শামীমা আকতারের লাশ তিন টুকরা করে কেরানীগঞ্জের আলিপুর ইটভাটার নিচে ফেলে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে আসামি লাভলী আকতার ও মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুম করার অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।

আদালত সূত্র জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুকুল হোসেন সাভারে এক প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির মালিক ছিলেন। তিনি পারিবারিকভাবে শামীমা আকতারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর হ্যাপি জানতে পারেন যে দুই বাচ্চার মা লাভলী আকতার ওরফে নীলুফার সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি মুকুল হোসেন ও লাভলী আকতারসহ আরেকজন পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে শামীমাকে হত্যার পর লাশ তিন টুকরো করে কেরানীগঞ্জের আলিপুর ইটভাটার নিচে ফেলে দেন। এরপর ৮ জানুয়ারি তাঁর মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক গোলাম সারোয়ার এ মামলা করেন এবং আসামি মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রহস্যময়ী ফেসবুক পোস্টে কাকে ইঙ্গিত করলেন ওমর সানী?

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী ও তাঁর প্রেমিকার মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৫৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর সাভারে মানবিক সাহায্য সংস্থার হিসাবরক্ষক শামীমা আকতার ওরফে হ্যাপি হত্যা মামলায় স্বামী মুকুল হোসেন ও তাঁর প্রেমিকা লাভলী আকতারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে আসামি মুকুল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি লাভলী আকতার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। মামলায় তাঁকে পলাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত মুকুলের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। রায়ে বলা হয়, আসামি লাভলী আকতার গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে এ রায় কার্যকর হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামি লাভলী আকতার ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি—এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আসামি লাভলীর স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা রয়েছে। এরপরও এই আসামির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত নারীর বিষয়ে জানা যেত।

রায়ে বলা হয়, আসামি মুকুল হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ও তাঁর প্রেমিকা লাভলী আকতারসহ আরেকজন নারী মিলে শামীমাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শামীমা আকতারের লাশ তিন টুকরা করে কেরানীগঞ্জের আলিপুর ইটভাটার নিচে ফেলে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে আসামি লাভলী আকতার ও মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুম করার অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।

আদালত সূত্র জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুকুল হোসেন সাভারে এক প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির মালিক ছিলেন। তিনি পারিবারিকভাবে শামীমা আকতারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর হ্যাপি জানতে পারেন যে দুই বাচ্চার মা লাভলী আকতার ওরফে নীলুফার সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি মুকুল হোসেন ও লাভলী আকতারসহ আরেকজন পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে শামীমাকে হত্যার পর লাশ তিন টুকরো করে কেরানীগঞ্জের আলিপুর ইটভাটার নিচে ফেলে দেন। এরপর ৮ জানুয়ারি তাঁর মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক গোলাম সারোয়ার এ মামলা করেন এবং আসামি মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।