ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, ৬৯ হাজারের বেশি উত্তীর্ণ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করতে নয়, বানচাল করতে এসেছেন : নুর বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, সিদ্ধান্ত আইসিসির এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে: প্রধান উপদেষ্টা এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই: জামায়াত আমির সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে সব সাইজ হয়ে যাবে, ঢাকায় কোনো সিট দেব না বলে জামায়াত প্রার্থী হুঙ্কার দিয়েছেন খালিদুজ্জামান

পিলখানা হত্যা মামলায় আ.লীগ নেতা তোরাব আলী খালাস

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আট বছরেরও বেশি সময় আগে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিচারিক আদালত থেকে যাবজ্জীবন পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় তিনি কী কারণে খালাস পেয়েছেন এর কারণ জানাতে পারেননি আইনজীবীরা।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনসহ তিন সদস্যের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহিদ সারওয়ার কাজল দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘তোরাব আলীকে খালাস দিয়েছে আদালত। তবে কেন খালাস দিয়েছেন সে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে জানা যাবে।’

তোরাব আলীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী জানান, ‘এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন তোরাব আলীর বাসায় ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং হয়েছিল। এছাড়া তোরাব আলী নিজেও ১৬৪ ধারায় বলেছিলেন, প্রাইম কোচিং সেন্টারের মালিক জাকির তাকে বলেছিলেন, পিলখানায় ২৫ তারিখ গণ্ডগোল হবে।’

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানা হত্যা মামলায় তোরাব আলী এবং বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান। এই রায়ের বিরুদ্ধে তোরাব আলী এবং পিন্টু আপিল করেন। বিচার চলাকালে বন্দী অবস্থায় মারা যাওয়ায় পিন্টুর তার নাম বাদ পড়ে যায়।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সে সময়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদরদপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহ করে সৈনিকরা। দুই দিনের বিদ্রোহের পর সেনাবাহিনী পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ৫৫ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার তথ্য জানা যায়। অস্ত্র সমর্পণের আগেই বহু বিদ্রোহী পিলখানা থেকে পালিয়ে যায়। পিন্টু ও তোরাব আলী এই সময় বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন বলে সে সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। পরে দুইজনকেই আসামি করা হয় এবং তারা গ্রেপ্তার হন।

এই মামলায় বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে বিচারিক আদালত ১২ জনের দণ্ড কমিয়ে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছে। আর একজন মারা গেছেন বিচার চলাকালে। বিচারিক আদালত যে ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল, তাদের মধ্যে সাজা বহাল আছে ১৪৬ জনের। তোরাব আলীসহ খালাস পেয়েছেন ১২ জন। আর বিচার চলাকালে মারা গেছেন দুইজন।

বিচারিক আদালত যে ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল তাদের মধ্যে ২৯ জন খালাস পেয়েছেন উচ্চ আদালতের রায়ে। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে এ রায় ঘোষণা শুরু করে আদালত। দ্বিতীয় দিন ঘোষণা করা হয় সাজা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন অভিভাবকতুল্য মানুষকে হারালাম: শাকিব খান

পিলখানা হত্যা মামলায় আ.লীগ নেতা তোরাব আলী খালাস

আপডেট সময় ১০:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আট বছরেরও বেশি সময় আগে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিচারিক আদালত থেকে যাবজ্জীবন পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় তিনি কী কারণে খালাস পেয়েছেন এর কারণ জানাতে পারেননি আইনজীবীরা।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনসহ তিন সদস্যের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহিদ সারওয়ার কাজল দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘তোরাব আলীকে খালাস দিয়েছে আদালত। তবে কেন খালাস দিয়েছেন সে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে জানা যাবে।’

তোরাব আলীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী জানান, ‘এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন তোরাব আলীর বাসায় ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং হয়েছিল। এছাড়া তোরাব আলী নিজেও ১৬৪ ধারায় বলেছিলেন, প্রাইম কোচিং সেন্টারের মালিক জাকির তাকে বলেছিলেন, পিলখানায় ২৫ তারিখ গণ্ডগোল হবে।’

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানা হত্যা মামলায় তোরাব আলী এবং বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান। এই রায়ের বিরুদ্ধে তোরাব আলী এবং পিন্টু আপিল করেন। বিচার চলাকালে বন্দী অবস্থায় মারা যাওয়ায় পিন্টুর তার নাম বাদ পড়ে যায়।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সে সময়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদরদপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহ করে সৈনিকরা। দুই দিনের বিদ্রোহের পর সেনাবাহিনী পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ৫৫ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার তথ্য জানা যায়। অস্ত্র সমর্পণের আগেই বহু বিদ্রোহী পিলখানা থেকে পালিয়ে যায়। পিন্টু ও তোরাব আলী এই সময় বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন বলে সে সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। পরে দুইজনকেই আসামি করা হয় এবং তারা গ্রেপ্তার হন।

এই মামলায় বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে বিচারিক আদালত ১২ জনের দণ্ড কমিয়ে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছে। আর একজন মারা গেছেন বিচার চলাকালে। বিচারিক আদালত যে ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল, তাদের মধ্যে সাজা বহাল আছে ১৪৬ জনের। তোরাব আলীসহ খালাস পেয়েছেন ১২ জন। আর বিচার চলাকালে মারা গেছেন দুইজন।

বিচারিক আদালত যে ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল তাদের মধ্যে ২৯ জন খালাস পেয়েছেন উচ্চ আদালতের রায়ে। গতকাল রবিবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে এ রায় ঘোষণা শুরু করে আদালত। দ্বিতীয় দিন ঘোষণা করা হয় সাজা।