অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
হোয়াটসঅ্যাপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকৃত’ ছবি পোস্ট করার ‘অপরাধে’ উত্তর প্রদেশের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাস ছয়েক আগের কথা। ১৯ বছর বয়সী শাকিব টানা ছয় দিন মুখে কিছু তোলেনি। সে সময় বাবা-মায়ের কাছে সদ্য কৈশোর পেরনো শাকিবের দাবি ছিল একটা স্মার্টফোনের। ছেলের দাবি মতো স্মার্টফোন কিনেও দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই ফোনের জন্যই আজ জেলবন্দি শাকিব।
হোয়াটসঅ্যাপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকৃত’ ছবি ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, হরিয়ানার বিজেপি নেতা মুকেশ কুমার অভিযোগ করেছিলেন শাকিবের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদতে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের খেরা মেওয়াট গ্রামের বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে এখন উত্তরাখান্ডে থাকেন শাকিব। সেখানেই দর্জির কাজ করেন তিনি। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আপাতত হিসার জেলে বন্দি শাকিব। তার ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সাহারানপুরের ছোট একটা গ্রাম খেরা মেওয়াট। গ্রামটিতে লোক সংখ্যা মোটামুটি হাজার আটেক। শাকিবের এক প্রতিবেশী মেহবুব হাসান জানাচ্ছেন, অধিকাংশ গ্রামবাসীর দৈনিক আয় ১০০ থেকে ২০০ রুপি। শাকিবের বাবাও একজন শ্রমিক। তার মাসিক আয় ছয় থেকে আট হাজার টাকা। এই সামান্য রোজগারে স্মার্টফোন কেনা খুবই কষ্টকর।
হাসানের কথায়, ‘তাও ছেলের দাবি মেনে একটি ফোন কিনে দিয়েছিলেন শাকিবের বাবা।’ ছেলের গ্রেপ্তারির কথা জানাতে গিয়ে সেলিম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বললেন, ‘শাকিব খুবই ছোট। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে সে। না বুঝেই এমন কাজ করেছে। কীভাবে ছেলেটাকে জেল থেকে বের করব বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে ফোনটি হাতে আসে শাকিবের। এখনও ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারে না। তার ফোনে ওই ছবিগুলো এসেছিল, কিছু না বুঝে সে গুলোই অন্যদের পাঠিয়ে দেয় শাকিব। খেরা মেওয়াটের পুলিশ সূত্রে খবর, শাকিবের বিরুদ্ধে আগে কোনও অভিযোগ নেই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























