অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ দেড় যুগ পর হিমালয়ের কন্যা খ্যাত নেপালের সংসদ নির্বাচনে রোববার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্র করে বেশি কিছু অঞ্চলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং এর জন্য মাওবাদীদের দায়ী করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সহিংসতা মুক্ত হয়ে নেপালিদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস ভেস্তে যেতে পারে।
নেপালে গৃহযুদ্ধের এক দশকেরও বেশি সময় পরে এবং ১৯৯৯ সালের পরে এই প্রথম নেপালে সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের দীর্ঘ পথযাত্রা সম্পূর্ণ করতে যাচ্ছে নেপাল। সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ হবে ৭ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণনা জটিলতার কারণে ভোটের ফলাফল হয়তো দু-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা করা সম্ভব হবে না।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাইন রাজ দাহাল দাবি করেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে মাওবাদীদের একটি স্প্লিন্টার গ্রুপ ছোট পরিসরে সিরিজ হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত বিশেষ কায়দায় তৈরি ৩০টির বেশি বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু নিষ্ক্রিয় করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রাজধানী কাঠমান্ডুর কাছে কাগাতিগাউন ভোটকেন্দ্রে রোববার প্রথম ভোট দেন সুরেশ বালসামি। তিনি বলেন, ‘দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমি ভোট দিচ্ছি।’
রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ২০০৮ ও ২০১৩ সালে দুইবার সাংবিধানিক পরিষদ গঠনের জন্য নেপালিরা ভোট দেয়। নেপালের ভোটার সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। সংসদে আসন রয়েছে ২৭৫টি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন সংবিধানের অধীনে এই নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা সত্ত্বেও রোববার সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে ভোটারদের।
২০০৮ সালে নেপালের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত ঘোষিত হওয়ার পর এই প্রথম দেশটির সাতটি প্রাদেশিক পরিষদেও নির্বাচন হচ্ছে। রোববার একই সঙ্গে সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন নেপালিরা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে মূলত নেপালের ভারতপন্থি ও চীনপন্থি দুই জোটের মধ্যে। মাদেশি দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধেছে ভারতমুখী মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস পার্টি। আর কমিউনিস্ট ইউএমএল পার্টির সঙ্গে জোট করেছে চীনপন্থি মাওবাদী বিদ্রোহীরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















