ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি এখনও চার হাজার কোটি টাকা: তৌফিক-ই-ইলাহী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদ্যুতের দাম আটবার বাড়ানোর পরও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে চার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তবে একে সরকার বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে বিদ্যুৎ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বিদ্যুতের দাম পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি বাড়ানোয় জনগণের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় তিন ‍গুণ এবং উৎপাদন ক্ষমতা চার গুণেরও বেশি বাড়লেও বিদ্যুতের দামও বেড়েছে দফায় দফায়। সব শেষ বৃহস্পতিবার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ইউনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা করে (শতকরা ৫.৩ শতাংশ) দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে আটবার বাড়ানো হলো দাম।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো অবশ্য এর চেয়ে বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। তারা পাইকারিতে ইউনিটপ্রতি প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ছয় থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে। এর মধ্যে ডিপিডিসি গ্রাহক পর্যায়ে ৬.২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬.৩৪, ওজোপাডিকো ১০.৩৬, আরইবি ১০.৭৫ এবং পিডিবি ১৪.৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

তবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির শুনানিতে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব এক উপস্থাপনায় বলেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কমানো সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এ মূল্য নির্ধারণ করেছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পরও বিদ্যুতে চার হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকে। তবে প্রধানমন্ত্রী এই টাকাকে ঘাটতি না বলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন।

শতকরা ৫.৩ শতাংশ দাম বাড়নোয় জনজীবনে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না দাবি করে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, যদিও হয়, তবে মামুলি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি। খুবই অল্প। এটা নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। এখন দেশের ৮৪ ভাগ লোক বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আমরা চাই বাংলাদেশের সবাই বিদ্যুৎ পাক। এজন্য বিদ্যুতের সম্প্রসারণ লাগবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত তেলের মূল্য কমিয়ে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা যেত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বলেন- আর যাই বলেন, এক জায়গায় ভর্তুকি কমালে আরেক জায়গায় বাড়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি এখনও চার হাজার কোটি টাকা: তৌফিক-ই-ইলাহী

আপডেট সময় ০২:৫২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদ্যুতের দাম আটবার বাড়ানোর পরও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে চার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তবে একে সরকার বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে বিদ্যুৎ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বিদ্যুতের দাম পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি বাড়ানোয় জনগণের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় তিন ‍গুণ এবং উৎপাদন ক্ষমতা চার গুণেরও বেশি বাড়লেও বিদ্যুতের দামও বেড়েছে দফায় দফায়। সব শেষ বৃহস্পতিবার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ইউনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা করে (শতকরা ৫.৩ শতাংশ) দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে আটবার বাড়ানো হলো দাম।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো অবশ্য এর চেয়ে বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। তারা পাইকারিতে ইউনিটপ্রতি প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ছয় থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে। এর মধ্যে ডিপিডিসি গ্রাহক পর্যায়ে ৬.২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬.৩৪, ওজোপাডিকো ১০.৩৬, আরইবি ১০.৭৫ এবং পিডিবি ১৪.৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

তবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির শুনানিতে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব এক উপস্থাপনায় বলেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কমানো সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এ মূল্য নির্ধারণ করেছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পরও বিদ্যুতে চার হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকে। তবে প্রধানমন্ত্রী এই টাকাকে ঘাটতি না বলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন।

শতকরা ৫.৩ শতাংশ দাম বাড়নোয় জনজীবনে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না দাবি করে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, যদিও হয়, তবে মামুলি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি। খুবই অল্প। এটা নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। এখন দেশের ৮৪ ভাগ লোক বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আমরা চাই বাংলাদেশের সবাই বিদ্যুৎ পাক। এজন্য বিদ্যুতের সম্প্রসারণ লাগবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত তেলের মূল্য কমিয়ে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা যেত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বলেন- আর যাই বলেন, এক জায়গায় ভর্তুকি কমালে আরেক জায়গায় বাড়ে।