ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভুল চিকিৎসায় মা-নবজাতকের মৃত্যু, পালালেন চিকিৎসক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অপারেশনে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নিহত প্রসূতি উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।

এদিকে রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।

নিহত সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান জানান, সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে সোনিয়া আক্তারকে রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। হসপিটালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এম. শরীফ আহম্মেদ প্রাথমিকভাবে সোনিয়া আক্তারকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্ত পরীক্ষা দেন। তারপর তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, মা ও গর্ভের সন্তান উভয়ই ভাল আছে।

তবে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হবে না। অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে হবে। এ কথা বলে ডা. এম শরীফ ও তার সহযোগীরা সোনিয়াকে অপারেশন থিয়োটারে নিয়ে যান। প্রায় ঘন্টাখানেক পর অপারেশন থিয়োটার থেকে ডা. শরীফ এসে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নানকে একটি নবজাতাক দিয়ে বলেন বাচ্চাটি অসুস্থ, তাই কান্না করে না।

আপনারা জরুরিভিত্তিতে নবজাতককে পাশের দেবিদ্বারের একটি শিশু চিকিৎসক দেখান। তখন তারা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নবজাতককে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্তানটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রায় দুই ঘন্টা পর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. শরীফ নিজেই একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে তাদের ফোনের মাধ্যমে জানান, তারা সোনিয়াকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন। তখন সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান দেবিদ্বার থেকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে সোনিয়া ও তার নবজাতকের মৃত্যুর খবরে এলাকার লোকজন রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাঙচুর করে। এসময় ডাক্তার, নার্স ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে হসপিটালের কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, সোনিয়া ও নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ দিকে এ ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ভুল চিকিৎসায় মা-নবজাতকের মৃত্যু, পালালেন চিকিৎসক

আপডেট সময় ০৩:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অপারেশনে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাধবপুর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নিহত প্রসূতি উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. উজ্জ্বল মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।

এদিকে রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।

নিহত সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান জানান, সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে সোনিয়া আক্তারকে রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। হসপিটালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এম. শরীফ আহম্মেদ প্রাথমিকভাবে সোনিয়া আক্তারকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্ত পরীক্ষা দেন। তারপর তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, মা ও গর্ভের সন্তান উভয়ই ভাল আছে।

তবে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হবে না। অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে হবে। এ কথা বলে ডা. এম শরীফ ও তার সহযোগীরা সোনিয়াকে অপারেশন থিয়োটারে নিয়ে যান। প্রায় ঘন্টাখানেক পর অপারেশন থিয়োটার থেকে ডা. শরীফ এসে সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নানকে একটি নবজাতাক দিয়ে বলেন বাচ্চাটি অসুস্থ, তাই কান্না করে না।

আপনারা জরুরিভিত্তিতে নবজাতককে পাশের দেবিদ্বারের একটি শিশু চিকিৎসক দেখান। তখন তারা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নবজাতককে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্তানটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রায় দুই ঘন্টা পর রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. শরীফ নিজেই একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে তাদের ফোনের মাধ্যমে জানান, তারা সোনিয়াকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন। তখন সোনিয়ার ভগ্নিপতি আবদুল মান্নান দেবিদ্বার থেকে ওই অ্যাম্বুলেন্সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে সোনিয়া ও তার নবজাতকের মৃত্যুর খবরে এলাকার লোকজন রয়েল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাঙচুর করে। এসময় ডাক্তার, নার্স ও কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে হসপিটালের কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার এম শরীফ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির বলেন, সোনিয়া ও নবজাতকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ দিকে এ ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।