ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা: ডোনাল্ড ট্রাম্প সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চাইলেন জামায়াত এমপি আইফোন চুরির অপবাদে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, বিক্ষোভ-ভাঙচুর এবারের বাজেট চানাচুরের মতো, শুনতে ভালো খেলে পেট খারাপ: সংসদে আমির হামজা হামের টিকাদানে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্জ্য সংগ্রহে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় হলে নতুন ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন এ দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা: প্রধানমন্ত্রী কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

যে কারনে রোহিঙ্গা নারীরা সারা বছর গর্ভবতী থাকেন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র মগদের গণহত্যা, ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। প্রাণে বাঁচতে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এছাড়া আশ্রিত নারীদের বিশাল অংশ হলো অন্তঃসত্ত্বা। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব রোহিঙ্গা নারীরা নাকি সারা বছরই গর্বভতী থাকেন। এ কথা শুনে হয়তো অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। কিন্তু রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেও এমন সত্যতা মিলেছে। অন্তঃসত্ত্বা ও নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা ও মগগোষ্ঠীর হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে প্রায় সারা বছরই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখেন রোহিঙ্গা নারীরা।

অনেকে আবার বলছেন, পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন ও সেনা নির্যাতনের ভয়, ইত্যাদি কারণে তাদের প্রায় সারা বছরই গর্ভবতী থাকেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্মি সেনাদের নির্যাতনের কথা। বর্মি সেনাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সারা বছরই নিজের গর্ভধারণে অব্যাহত রাখতেন রোহিঙ্গা নারীরা। এমনটাই দাবি তাদের।

সরেজমিন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থ্যাংখালী, পালংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্বাস্থসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোতে অধিকাংশ নারী ও শিশু। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে মিলছে একই চিত্র।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪৩৫ জন। আর নবজাতক জন্ম নিয়েছে ৬৩৩ জন। এ ছাড়া নির্যাতিত নারী তেমন কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান করা না গেলেও তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার।

কক্সবাজারের সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গর্ভধারণ কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিভিন্ন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা নির্যাতনের ভয়ে নারীরা গর্ভধারণ করতেন। এ ছাড়া পাশাপাশি পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের অভাবও রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যে কারনে রোহিঙ্গা নারীরা সারা বছর গর্ভবতী থাকেন

আপডেট সময় ১১:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র মগদের গণহত্যা, ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। প্রাণে বাঁচতে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এছাড়া আশ্রিত নারীদের বিশাল অংশ হলো অন্তঃসত্ত্বা। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব রোহিঙ্গা নারীরা নাকি সারা বছরই গর্বভতী থাকেন। এ কথা শুনে হয়তো অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। কিন্তু রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেও এমন সত্যতা মিলেছে। অন্তঃসত্ত্বা ও নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা ও মগগোষ্ঠীর হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে প্রায় সারা বছরই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখেন রোহিঙ্গা নারীরা।

অনেকে আবার বলছেন, পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন ও সেনা নির্যাতনের ভয়, ইত্যাদি কারণে তাদের প্রায় সারা বছরই গর্ভবতী থাকেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্মি সেনাদের নির্যাতনের কথা। বর্মি সেনাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সারা বছরই নিজের গর্ভধারণে অব্যাহত রাখতেন রোহিঙ্গা নারীরা। এমনটাই দাবি তাদের।

সরেজমিন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থ্যাংখালী, পালংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্বাস্থসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোতে অধিকাংশ নারী ও শিশু। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে মিলছে একই চিত্র।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪৩৫ জন। আর নবজাতক জন্ম নিয়েছে ৬৩৩ জন। এ ছাড়া নির্যাতিত নারী তেমন কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান করা না গেলেও তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার।

কক্সবাজারের সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গর্ভধারণ কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিভিন্ন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা নির্যাতনের ভয়ে নারীরা গর্ভধারণ করতেন। এ ছাড়া পাশাপাশি পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের অভাবও রয়েছে।