ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা: প্রধানমন্ত্রী কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত নয়, প্রয়োজনে আবারও ‘বোমা ফেলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের টাইগারদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয় দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিন ধাপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুশ-ইনের মতো অমানবিক আচরণের নজির পৃথিবীতে বিরল: মঞ্জু কুষ্টিয়ায় পৌর ভবনে যুবককে কুপিয়ে জখম

যে কারনে রোহিঙ্গা নারীরা সারা বছর গর্ভবতী থাকেন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র মগদের গণহত্যা, ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। প্রাণে বাঁচতে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এছাড়া আশ্রিত নারীদের বিশাল অংশ হলো অন্তঃসত্ত্বা। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব রোহিঙ্গা নারীরা নাকি সারা বছরই গর্বভতী থাকেন। এ কথা শুনে হয়তো অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। কিন্তু রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেও এমন সত্যতা মিলেছে। অন্তঃসত্ত্বা ও নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা ও মগগোষ্ঠীর হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে প্রায় সারা বছরই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখেন রোহিঙ্গা নারীরা।

অনেকে আবার বলছেন, পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন ও সেনা নির্যাতনের ভয়, ইত্যাদি কারণে তাদের প্রায় সারা বছরই গর্ভবতী থাকেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্মি সেনাদের নির্যাতনের কথা। বর্মি সেনাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সারা বছরই নিজের গর্ভধারণে অব্যাহত রাখতেন রোহিঙ্গা নারীরা। এমনটাই দাবি তাদের।

সরেজমিন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থ্যাংখালী, পালংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্বাস্থসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোতে অধিকাংশ নারী ও শিশু। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে মিলছে একই চিত্র।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪৩৫ জন। আর নবজাতক জন্ম নিয়েছে ৬৩৩ জন। এ ছাড়া নির্যাতিত নারী তেমন কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান করা না গেলেও তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার।

কক্সবাজারের সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গর্ভধারণ কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিভিন্ন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা নির্যাতনের ভয়ে নারীরা গর্ভধারণ করতেন। এ ছাড়া পাশাপাশি পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের অভাবও রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যে কারনে রোহিঙ্গা নারীরা সারা বছর গর্ভবতী থাকেন

আপডেট সময় ১১:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র মগদের গণহত্যা, ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। প্রাণে বাঁচতে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এছাড়া আশ্রিত নারীদের বিশাল অংশ হলো অন্তঃসত্ত্বা। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব রোহিঙ্গা নারীরা নাকি সারা বছরই গর্বভতী থাকেন। এ কথা শুনে হয়তো অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। কিন্তু রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেও এমন সত্যতা মিলেছে। অন্তঃসত্ত্বা ও নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা ও মগগোষ্ঠীর হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে প্রায় সারা বছরই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখেন রোহিঙ্গা নারীরা।

অনেকে আবার বলছেন, পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন ও সেনা নির্যাতনের ভয়, ইত্যাদি কারণে তাদের প্রায় সারা বছরই গর্ভবতী থাকেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্মি সেনাদের নির্যাতনের কথা। বর্মি সেনাদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সারা বছরই নিজের গর্ভধারণে অব্যাহত রাখতেন রোহিঙ্গা নারীরা। এমনটাই দাবি তাদের।

সরেজমিন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থ্যাংখালী, পালংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন স্বাস্থসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোতে অধিকাংশ নারী ও শিশু। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে মিলছে একই চিত্র।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪৩৫ জন। আর নবজাতক জন্ম নিয়েছে ৬৩৩ জন। এ ছাড়া নির্যাতিত নারী তেমন কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান করা না গেলেও তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার।

কক্সবাজারের সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, গর্ভধারণ কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিভিন্ন অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনা নির্যাতনের ভয়ে নারীরা গর্ভধারণ করতেন। এ ছাড়া পাশাপাশি পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের অভাবও রয়েছে।