ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে কর ফাঁকি দেন ধনীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ স্থানান্তর সংক্রান্ত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর এবার সামনে এলো প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি। যেখানে উঠে এসেছে রানি এলিজাবেথ, ট্রাম্প সহযোগি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নাম।

রবিবার ওই প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি নামে প্রায় এক কোটিরও বেশি গোপন দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে কিভাবে পৃথিবীর বড় বড় ধনী ও ক্ষমতাবান লোকেরা আয়কর এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুষ্ঠান প্যানোরামা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে), এবং জার্মান সংবাদপত্র জুয়েডয়েচে জাইটুং-এর করা এক তদন্তের অংশ হিসেবে এক কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি দলিল পত্র পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, অফশোর বা বিদেশী বিনিয়োগ এখন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে বিশ্বজুড়ে হাজার-হাজার কোটি ডলার গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিত্তবানরা তাদের নিজ দেশের আয়কর কর্তৃপক্ষকে এড়াতে কিভাবে এই কৌশল ব্যবহার করে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, নগদ অর্থ গোপন রাখার পাঁচটি ধাপ আছে যা বেশ সহজ। প্রথমত শুধু নাম দিয়ে একটি কোম্পানি গঠন করতে হয়। এই কোম্পানিটি হয় অফশোর অর্থাৎ বিনিয়োগকারী যে দেশের – তা থেকে আলাদা কোনো দেশে, যেখানে খুব কম বা শূন্য আয়করের সুবিধা পাওয়া যায়। এগুলো প্রায়ই হয় ছোট ছোট দ্বীপে।

যেমন, বারমুদা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, অথবা ইংল্যান্ডের আইল অব ম্যান, গার্নসি, বা জার্সি। সেখানে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

সে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের বিনিময়ে একজন ‘নমিনি’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় – যাতে দলিল-দস্তাবেজে প্রকৃত মালিকের নাম না থাকে। এ ছাড়া ভিন্ন আরেকটি দেশে অর্থাৎ অফশোরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। প্রকৃত মালিকের যাতে নাম প্রকাশিত না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। সেই অ্যাকাউন্টে গিয়ে ওই কোম্পানির অর্থ জমা হবে।

এ অর্থ কোম্পানির সম্পত্তিতে খরচ করা হয়। অথবা ঋণ বাবদ যেটি কখনোই পরিশোধ করা হয় না। যেমন – এর দ্বারা আপনি বাড়ি,গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আয়কর থেকে নগদ অর্থ লুকানোর জন্য এটি একটি উপায় মাত্র।

বস্টন কনসালটিং গ্রুপ-এর সূত্র মতে, এ পদ্ধতিতে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে সেটি পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি জাপান, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স-এর মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়ে বেশি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কীভাবে কর ফাঁকি দেন ধনীরা

আপডেট সময় ০৮:০১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০১৭

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ স্থানান্তর সংক্রান্ত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর এবার সামনে এলো প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি। যেখানে উঠে এসেছে রানি এলিজাবেথ, ট্রাম্প সহযোগি, জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নাম।

রবিবার ওই প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি নামে প্রায় এক কোটিরও বেশি গোপন দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে কিভাবে পৃথিবীর বড় বড় ধনী ও ক্ষমতাবান লোকেরা আয়কর এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুষ্ঠান প্যানোরামা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম (আইসিআইজে), এবং জার্মান সংবাদপত্র জুয়েডয়েচে জাইটুং-এর করা এক তদন্তের অংশ হিসেবে এক কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি দলিল পত্র পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, অফশোর বা বিদেশী বিনিয়োগ এখন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে বিশ্বজুড়ে হাজার-হাজার কোটি ডলার গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিত্তবানরা তাদের নিজ দেশের আয়কর কর্তৃপক্ষকে এড়াতে কিভাবে এই কৌশল ব্যবহার করে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, নগদ অর্থ গোপন রাখার পাঁচটি ধাপ আছে যা বেশ সহজ। প্রথমত শুধু নাম দিয়ে একটি কোম্পানি গঠন করতে হয়। এই কোম্পানিটি হয় অফশোর অর্থাৎ বিনিয়োগকারী যে দেশের – তা থেকে আলাদা কোনো দেশে, যেখানে খুব কম বা শূন্য আয়করের সুবিধা পাওয়া যায়। এগুলো প্রায়ই হয় ছোট ছোট দ্বীপে।

যেমন, বারমুদা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ বা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, অথবা ইংল্যান্ডের আইল অব ম্যান, গার্নসি, বা জার্সি। সেখানে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে কড়া গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

সে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের বিনিময়ে একজন ‘নমিনি’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় – যাতে দলিল-দস্তাবেজে প্রকৃত মালিকের নাম না থাকে। এ ছাড়া ভিন্ন আরেকটি দেশে অর্থাৎ অফশোরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। প্রকৃত মালিকের যাতে নাম প্রকাশিত না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। সেই অ্যাকাউন্টে গিয়ে ওই কোম্পানির অর্থ জমা হবে।

এ অর্থ কোম্পানির সম্পত্তিতে খরচ করা হয়। অথবা ঋণ বাবদ যেটি কখনোই পরিশোধ করা হয় না। যেমন – এর দ্বারা আপনি বাড়ি,গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আয়কর থেকে নগদ অর্থ লুকানোর জন্য এটি একটি উপায় মাত্র।

বস্টন কনসালটিং গ্রুপ-এর সূত্র মতে, এ পদ্ধতিতে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে সেটি পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি জাপান, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স-এর মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়ে বেশি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।