ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০ ‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা’:জামায়াত নেতার পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ : মির্জা আব্বাস

সংস্কারের পথে হাঁটছেন সৌদি যুবরাজ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা সংহত করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্ব এযাবৎকালের সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক ধাক্কায় ১১ জন জ্যেষ্ঠ যুবরাজ, দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন এবং আরও বেশ কজন সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান।

এই অভিযানে ২০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে স্পষ্টবাদী ধনকুবের যুবরাজ আল-ওয়াহিদ বিন তালালও আছেন। এতে রাজতন্ত্রের অভিজাতদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে, যাঁরা এত দিন মনে করতেন, বয়োজ্যেষ্ঠ অনুগতরা দায়মুক্তি ভোগ করেন।

সৌদি বাদশাহ সালমানের রাজ আদেশে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানের যে লক্ষ্যবস্তু ও ব্যাপ্তি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে তার সমতুল্য কিছু দেখা যায়নি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অভিযানে এমন মানুষদের ধরা হয়েছে, যাঁদের একসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করা হতো। যুবরাজ সালমানের ঘনিষ্ঠ মানুষেরা বলছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল এই রাজতন্ত্রের সরকারি কর্মকাণ্ডের ধারা বদলে দেওয়া। ব্যাপারটা হয়েছে কী, দেশটিতে পৃষ্ঠপোষকতার যে কাঠামো গড়ে উঠেছে, ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো তার সুবিধার্থে হতো। আর বিশিষ্ট পরিবারগুলো লাভজনক চুক্তির ভালো রকম ভাগ পেত।

তবে সৌদি আরবের অন্য পর্যবেক্ষকেরা একে ভিন্নমত দমনের নগ্ন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁরা মনে করছেন, উচ্চাভিলাষী যুবরাজ দেশটির রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রেই নিজের কর্তৃত্বের ছাপ রাখতে চাইছেন, আর তাই এই কায়দায় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে শুরু করেছেন। এই পদক্ষেপের কারণে সৌদি রাজতন্ত্রের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলার ওপর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়ন্ত্রণ আরও সংহত হয়েছে, যেগুলো এত দিন আলাদাভাবে ক্ষমতাসীন পরিবারের শক্তিশালী ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

সালমানসিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন প্রায় ছয় মাস হলো, শেষ পর্যন্ত তিনিই পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন। এ অবস্থায় দেশটির মৃতপ্রায় অর্থনীতি চাঙা করতে তিনি মানুষকে হতবিহ্বল করার মতো কিছু সংস্কার শুরু করেছেন। রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মধ্যে তিনি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন।

সম্প্রতি সৌদি আরবে দুর্নীতির লাগাম যেন ছিঁড়ে গেছে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, ব্যবসায়িক চুক্তিগুলোতে আরও স্বচ্ছতা আনবেন। এ অবস্থায় রাজপরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করায় তাঁর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব বাড়বে। তবে দেশটিতে ব্যবসা-বাণিজ্য এভাবেই হয়। কিছু জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি চুক্তির সঙ্গে যুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর অনেকেই মনে করবেন, তাঁরা দুর্নীতিবাজ।

দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সৌদ আল-মজেব বলেছেন, নবগঠিত দুর্নীতি কমিশন একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সৌদি আরবের অন্যান্য নাগরিকের মতো একই অধিকার দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে অন্যদের মতোই আচরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান ও মর্যাদা ন্যায়বিচার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে না। তদন্তের সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে সব পক্ষই পূর্ণাঙ্গ আইনি সুবিধা পাবে, তহবিলসহ।’

যে ডিক্রিবলে কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে আমাদের দেশ টিকে থাকতে পারবে না।’ মানুষ বিশ্বাস করে, গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তাদের পাঁচ তারকা রিটজ কার্লটন হোটেলে রাখা হয়েছে, যেখানে সপ্তাহ দুয়েক আগে যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় উচ্চপর্যায়ের এক বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী ভবনে মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, যখন তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাইয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। ব্যাপারটা হচ্ছে ওবামা প্রশাসনের জমানায় দেশ দুটির সম্পর্কের অবনতি হয়, যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানের দিকে ঘুরে যায়।

ট্রাম্পের সফরে সৌদি রাজতন্ত্র যেন সাহস পেয়েছে, যারা বহুকাল ধরে আঞ্চলিক প্রভাব ও শক্তি বিস্তারে ইরানের সঙ্গে লড়াই করছে। তারপর সৌদি আরব বেশ কিছু অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে, এর সঙ্গে দেশটির ইতিহাসে অভূতপূর্ব কিছু সাংস্কৃতিক সংস্কার কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে তারা। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমিত পাবেন। শুধু তা-ই নয়, তখন তাঁরা খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে যেতে এবং পুরুষ অভিভাবকের অনুমিত ছাড়াই বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

যুবরাজ মোহাম্মদ দুর্নীতি কমিশনের কাজ দেখাশোনা করবেন। যদিও এমনিতেই তাঁর কাঁধে নানা গুরুদায়িত্ব আছে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও আছে। এর সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ভিশন ২০৩০। এর লক্ষ্য হচ্ছে ১২ বছরের মধ্যে সৌদি জনজীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসা।

যুবরাজ দ্য গার্ডিয়ানকে গত মাসে বলেছেন, সৌদি রাজতন্ত্র গত ৩০ বছরে ‘স্বাভাবিক ছিল না’। তিনি দেশটিকে মধ্যপন্থী ইসলামের দিকে নিয়ে যেতে চান। দেশটির শীর্ষ ধর্মবেত্তারা টুইটার বার্তায় বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ’। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা এই অভিযানের প্রতি ধর্মীয় সমর্থন জানিয়ে দিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ এই ভয়ে দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাবান কয়েকজন ধর্মীয় নেতাকে আটকের অনুমতি দেন যে তাঁরা হয়তো তাঁর কর্মসূচিতে অথবা কাতারকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় সমর্থন দেবেন না। সৌদি নেতাদের অভিযোগ, কাতার মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

শনিবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুবরাজ এ অবস্থান নেওয়ার আগে পররাষ্ট্রনীতিতে লক্ষণীয় এক পদক্ষেপ নেন। মনে হচ্ছে সৌদি আরব এতে ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। ব্যাপারটা হচ্ছে সৌদি আরবের চাপে লেবাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি অপ্রত্যাশিতভাবে পদত্যাগ করেছেন, যার কারণ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার সৌদি আরবে যাওয়ার ডাক পাওয়ার পর সাদ এ ঘোষণা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের পথে হাঁটছেন সৌদি যুবরাজ

আপডেট সময় ০২:১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা সংহত করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্ব এযাবৎকালের সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক ধাক্কায় ১১ জন জ্যেষ্ঠ যুবরাজ, দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন এবং আরও বেশ কজন সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান।

এই অভিযানে ২০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে স্পষ্টবাদী ধনকুবের যুবরাজ আল-ওয়াহিদ বিন তালালও আছেন। এতে রাজতন্ত্রের অভিজাতদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে, যাঁরা এত দিন মনে করতেন, বয়োজ্যেষ্ঠ অনুগতরা দায়মুক্তি ভোগ করেন।

সৌদি বাদশাহ সালমানের রাজ আদেশে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানের যে লক্ষ্যবস্তু ও ব্যাপ্তি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে তার সমতুল্য কিছু দেখা যায়নি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অভিযানে এমন মানুষদের ধরা হয়েছে, যাঁদের একসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে করা হতো। যুবরাজ সালমানের ঘনিষ্ঠ মানুষেরা বলছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল এই রাজতন্ত্রের সরকারি কর্মকাণ্ডের ধারা বদলে দেওয়া। ব্যাপারটা হয়েছে কী, দেশটিতে পৃষ্ঠপোষকতার যে কাঠামো গড়ে উঠেছে, ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো তার সুবিধার্থে হতো। আর বিশিষ্ট পরিবারগুলো লাভজনক চুক্তির ভালো রকম ভাগ পেত।

তবে সৌদি আরবের অন্য পর্যবেক্ষকেরা একে ভিন্নমত দমনের নগ্ন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁরা মনে করছেন, উচ্চাভিলাষী যুবরাজ দেশটির রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রেই নিজের কর্তৃত্বের ছাপ রাখতে চাইছেন, আর তাই এই কায়দায় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে শুরু করেছেন। এই পদক্ষেপের কারণে সৌদি রাজতন্ত্রের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলার ওপর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়ন্ত্রণ আরও সংহত হয়েছে, যেগুলো এত দিন আলাদাভাবে ক্ষমতাসীন পরিবারের শক্তিশালী ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

সালমানসিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন প্রায় ছয় মাস হলো, শেষ পর্যন্ত তিনিই পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন। এ অবস্থায় দেশটির মৃতপ্রায় অর্থনীতি চাঙা করতে তিনি মানুষকে হতবিহ্বল করার মতো কিছু সংস্কার শুরু করেছেন। রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মধ্যে তিনি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন।

সম্প্রতি সৌদি আরবে দুর্নীতির লাগাম যেন ছিঁড়ে গেছে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, ব্যবসায়িক চুক্তিগুলোতে আরও স্বচ্ছতা আনবেন। এ অবস্থায় রাজপরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করায় তাঁর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব বাড়বে। তবে দেশটিতে ব্যবসা-বাণিজ্য এভাবেই হয়। কিছু জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি চুক্তির সঙ্গে যুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর অনেকেই মনে করবেন, তাঁরা দুর্নীতিবাজ।

দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সৌদ আল-মজেব বলেছেন, নবগঠিত দুর্নীতি কমিশন একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সৌদি আরবের অন্যান্য নাগরিকের মতো একই অধিকার দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে অন্যদের মতোই আচরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান ও মর্যাদা ন্যায়বিচার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে না। তদন্তের সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে সব পক্ষই পূর্ণাঙ্গ আইনি সুবিধা পাবে, তহবিলসহ।’

যে ডিক্রিবলে কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে আমাদের দেশ টিকে থাকতে পারবে না।’ মানুষ বিশ্বাস করে, গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তাদের পাঁচ তারকা রিটজ কার্লটন হোটেলে রাখা হয়েছে, যেখানে সপ্তাহ দুয়েক আগে যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় উচ্চপর্যায়ের এক বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী ভবনে মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, যখন তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাইয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। ব্যাপারটা হচ্ছে ওবামা প্রশাসনের জমানায় দেশ দুটির সম্পর্কের অবনতি হয়, যুক্তরাষ্ট্র তখন ইরানের দিকে ঘুরে যায়।

ট্রাম্পের সফরে সৌদি রাজতন্ত্র যেন সাহস পেয়েছে, যারা বহুকাল ধরে আঞ্চলিক প্রভাব ও শক্তি বিস্তারে ইরানের সঙ্গে লড়াই করছে। তারপর সৌদি আরব বেশ কিছু অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে, এর সঙ্গে দেশটির ইতিহাসে অভূতপূর্ব কিছু সাংস্কৃতিক সংস্কার কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে তারা। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমিত পাবেন। শুধু তা-ই নয়, তখন তাঁরা খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে যেতে এবং পুরুষ অভিভাবকের অনুমিত ছাড়াই বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

যুবরাজ মোহাম্মদ দুর্নীতি কমিশনের কাজ দেখাশোনা করবেন। যদিও এমনিতেই তাঁর কাঁধে নানা গুরুদায়িত্ব আছে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও আছে। এর সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ভিশন ২০৩০। এর লক্ষ্য হচ্ছে ১২ বছরের মধ্যে সৌদি জনজীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসা।

যুবরাজ দ্য গার্ডিয়ানকে গত মাসে বলেছেন, সৌদি রাজতন্ত্র গত ৩০ বছরে ‘স্বাভাবিক ছিল না’। তিনি দেশটিকে মধ্যপন্থী ইসলামের দিকে নিয়ে যেতে চান। দেশটির শীর্ষ ধর্মবেত্তারা টুইটার বার্তায় বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ’। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা এই অভিযানের প্রতি ধর্মীয় সমর্থন জানিয়ে দিলেন। সেপ্টেম্বর মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ এই ভয়ে দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাবান কয়েকজন ধর্মীয় নেতাকে আটকের অনুমতি দেন যে তাঁরা হয়তো তাঁর কর্মসূচিতে অথবা কাতারকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণায় সমর্থন দেবেন না। সৌদি নেতাদের অভিযোগ, কাতার মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

শনিবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুবরাজ এ অবস্থান নেওয়ার আগে পররাষ্ট্রনীতিতে লক্ষণীয় এক পদক্ষেপ নেন। মনে হচ্ছে সৌদি আরব এতে ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। ব্যাপারটা হচ্ছে সৌদি আরবের চাপে লেবাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি অপ্রত্যাশিতভাবে পদত্যাগ করেছেন, যার কারণ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার সৌদি আরবে যাওয়ার ডাক পাওয়ার পর সাদ এ ঘোষণা দেন।