ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় তুলার গোডাউনে আগুন সামষ্টিক চাপে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন চট্টগ্রামে জোড়াখুনের রহস্য উদঘাটন:স্ট্যাম্প চুরি করতে গিয়েই মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রংপুরে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবের বর্ণাঢ্য র‌্যালি অর্থনীতির পুনর্গঠন অন্যতম অগ্রাধিকার: সংসদে অর্থমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘লাঠি ও পাথর মেরে’ বিতাড়নের আহ্বান সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রথমবারের মতো সফল ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং, প্রশংসায় ভাসছেন ডা. হিমু জেনেভায় হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই, আয়োজক পাকিস্তান: শেহবাজ কোম্পানীগঞ্জে এক রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের কপালে একটু সুখও যেন লেখা নেই

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কর্মস্থলে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি শেষে বাসায় ফিরে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করতে দাঁড়িয়ে যেতে হয়৷ কেউ রান্না করে, কেউ আবার এর ফাঁকে গোসল করে৷ আবার কেউ অপেক্ষা করে চুলা কখন খালি হবে ৷ বাসায় ফিরে একটু বিশ্রাম, সেটা যেন তাঁদের ভাগ্যে লিখা নেই!

এ চিত্র কুয়ালালামপুরের একটি আবসনের কিছু প্রবাসীর প্রতিদিনের জীবনচিত্র৷ কখনও মাথার ঘাম আবার কখনও চোখের জল ভিজিয়ে দিচ্ছে শরীর। কিন্তু দিন থেমে নেই, তাঁদের প্রবাস নামের এ যুদ্ধে ৷ কবুতরের খোপের মতো কাঠের তৈরি খুপড়ি ঘরে ৫ থেকে ৭ জন গাদাগাদিভাবে বাস করে তাঁরা ৷ অতি মাত্রার তাপে ঘুমও হয়না ঠিক মতো আর ছাড়পোকার কামড় তো আছেই ৷

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা দেশে রেমিটেন্স প্রেরণ করছে তাঁদের ঘর এটি। স্বজনদের সুখ-স্বপ্নকে বুকে ধারণ করা প্রবাসীদের ঘর এটি ৷ তবে এটি তাঁদের ইচ্ছে করেই মেনে নেয়া। কারণ বেতনের একটি বড় অংশই যদি চলে যায় ঘর ভাড়ায়। তাহলে দেশে পাঠাবে কী?

খরচ কমানোর জন্যেই তাঁদের মতো মালয়েশিয়ায় আরও অনেক প্রবাসী আছে, যারা এই কষ্টকে নিরবে মেনে নেই। শরীরের ঘামে সেত-সেতে হয় শোয়ার জায়গাটি, ছাড়পোকার কামড়ে এদিক সেদিক গরাগরি করে তবুও বেশি ভাড়া দিয়ে ভালো ঘরে থাকে না ৷

প্রশ্ন আসতে পারে, এতো কষ্ট করে তাঁরা প্রবাসে থাকেন কেন? তাঁদের স্বস্তির জায়গা কোথায়? তাঁদের কষ্টের শেষ কোথায়? কয়েকজন প্রবাসী উওরে জানান, ধার করা অর্থ আবার জমি-জমা বিক্রি ও বন্ধক করা অর্থে বিদেশে আসা হয়। সেগুলো পরিশোধ করার জন্য জীবনের অন্যান্য সব সুখ হাঁসি মুখে দূরে ঠেলে দিতে হয়। এখানেই পড়ে থাকতে হয় বছরের পর বছর।

আর ভালো লাগা বা স্বস্তির কথার প্রসঙ্গে মো. জব্বর অলী বলেন, ‘মাস শেষে বেতনের টাকা যেদিন দেশে পাঠাই, সেই দিনটা অনেক অনন্দের হয় ৷ এটাই আমাদের কষ্ট ভুলার ঔষধ৷কিন্তু কোন মাসে যদি টাকা না পাঠাতে পারি বা কম টাকা পাঠাতে হয়, তখন দেশে স্বজনরা মনে করে আমরা বাজে পথে টাকা নষ্ট করছি, এমনটা হলে তখন আরও কষ্টের মাঝে দিন কাটাতে হয়৷’

পাশ থেকে রজব মিয়া এগিয়ে এসে বলেন, ‘দিনে দিনে কেবল মালয়েশিয়ায় আমার প্রবাসী জীবনের বছর বাড়ছে। কিন্তু কপাল থেকে দারিদ্র নামটা বৃন্দু মাত্রও সরেনি।’ দীর্ঘ ১০টি বছর সুখ স্বপ্নের পিছনে ছুটছেন তিনি। এখন সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়েছে তাঁর ৷ জীবনের দীর্ঘ সময় মালয়েশিয়ায় পার করে স্বপ্নটাকে বিসর্জন দিয়েই দেশে ফিরতে চাই সে৷ তাঁর কথায়, ‘প্রবাসে আর সুখ নেই! লাঞ্ছনার এই প্রবাস জীবনে ঘরে কষ্ট আর বাহিরে যন্ত্রণা ৷’

দেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি এবং পরিবারের একটু শান্তির জন্য প্রবাসীরা এভাবেই কষ্ট আর অস্বাস্থ্যকর আবাসনে জীবনযাপন করে মাসের পর মাস৷ এমন কষ্টে দিন পার করলেও তাঁদের নেই কোন অভিযোগ নেই কোন অাভিমান৷ দেশ উন্নত হোক, পরিবারের সদ্যসরা একটু ভালো থাকুক এটাই তাঁদের জীবনের লক্ষ্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমি কোনো দৌড়ে থাকতে চাই না: ভাবনা

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের কপালে একটু সুখও যেন লেখা নেই

আপডেট সময় ১১:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কর্মস্থলে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি শেষে বাসায় ফিরে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করতে দাঁড়িয়ে যেতে হয়৷ কেউ রান্না করে, কেউ আবার এর ফাঁকে গোসল করে৷ আবার কেউ অপেক্ষা করে চুলা কখন খালি হবে ৷ বাসায় ফিরে একটু বিশ্রাম, সেটা যেন তাঁদের ভাগ্যে লিখা নেই!

এ চিত্র কুয়ালালামপুরের একটি আবসনের কিছু প্রবাসীর প্রতিদিনের জীবনচিত্র৷ কখনও মাথার ঘাম আবার কখনও চোখের জল ভিজিয়ে দিচ্ছে শরীর। কিন্তু দিন থেমে নেই, তাঁদের প্রবাস নামের এ যুদ্ধে ৷ কবুতরের খোপের মতো কাঠের তৈরি খুপড়ি ঘরে ৫ থেকে ৭ জন গাদাগাদিভাবে বাস করে তাঁরা ৷ অতি মাত্রার তাপে ঘুমও হয়না ঠিক মতো আর ছাড়পোকার কামড় তো আছেই ৷

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা দেশে রেমিটেন্স প্রেরণ করছে তাঁদের ঘর এটি। স্বজনদের সুখ-স্বপ্নকে বুকে ধারণ করা প্রবাসীদের ঘর এটি ৷ তবে এটি তাঁদের ইচ্ছে করেই মেনে নেয়া। কারণ বেতনের একটি বড় অংশই যদি চলে যায় ঘর ভাড়ায়। তাহলে দেশে পাঠাবে কী?

খরচ কমানোর জন্যেই তাঁদের মতো মালয়েশিয়ায় আরও অনেক প্রবাসী আছে, যারা এই কষ্টকে নিরবে মেনে নেই। শরীরের ঘামে সেত-সেতে হয় শোয়ার জায়গাটি, ছাড়পোকার কামড়ে এদিক সেদিক গরাগরি করে তবুও বেশি ভাড়া দিয়ে ভালো ঘরে থাকে না ৷

প্রশ্ন আসতে পারে, এতো কষ্ট করে তাঁরা প্রবাসে থাকেন কেন? তাঁদের স্বস্তির জায়গা কোথায়? তাঁদের কষ্টের শেষ কোথায়? কয়েকজন প্রবাসী উওরে জানান, ধার করা অর্থ আবার জমি-জমা বিক্রি ও বন্ধক করা অর্থে বিদেশে আসা হয়। সেগুলো পরিশোধ করার জন্য জীবনের অন্যান্য সব সুখ হাঁসি মুখে দূরে ঠেলে দিতে হয়। এখানেই পড়ে থাকতে হয় বছরের পর বছর।

আর ভালো লাগা বা স্বস্তির কথার প্রসঙ্গে মো. জব্বর অলী বলেন, ‘মাস শেষে বেতনের টাকা যেদিন দেশে পাঠাই, সেই দিনটা অনেক অনন্দের হয় ৷ এটাই আমাদের কষ্ট ভুলার ঔষধ৷কিন্তু কোন মাসে যদি টাকা না পাঠাতে পারি বা কম টাকা পাঠাতে হয়, তখন দেশে স্বজনরা মনে করে আমরা বাজে পথে টাকা নষ্ট করছি, এমনটা হলে তখন আরও কষ্টের মাঝে দিন কাটাতে হয়৷’

পাশ থেকে রজব মিয়া এগিয়ে এসে বলেন, ‘দিনে দিনে কেবল মালয়েশিয়ায় আমার প্রবাসী জীবনের বছর বাড়ছে। কিন্তু কপাল থেকে দারিদ্র নামটা বৃন্দু মাত্রও সরেনি।’ দীর্ঘ ১০টি বছর সুখ স্বপ্নের পিছনে ছুটছেন তিনি। এখন সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়েছে তাঁর ৷ জীবনের দীর্ঘ সময় মালয়েশিয়ায় পার করে স্বপ্নটাকে বিসর্জন দিয়েই দেশে ফিরতে চাই সে৷ তাঁর কথায়, ‘প্রবাসে আর সুখ নেই! লাঞ্ছনার এই প্রবাস জীবনে ঘরে কষ্ট আর বাহিরে যন্ত্রণা ৷’

দেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি এবং পরিবারের একটু শান্তির জন্য প্রবাসীরা এভাবেই কষ্ট আর অস্বাস্থ্যকর আবাসনে জীবনযাপন করে মাসের পর মাস৷ এমন কষ্টে দিন পার করলেও তাঁদের নেই কোন অভিযোগ নেই কোন অাভিমান৷ দেশ উন্নত হোক, পরিবারের সদ্যসরা একটু ভালো থাকুক এটাই তাঁদের জীবনের লক্ষ্য।