ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

এ মাসের শেষে অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন। আর এ উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে নেওয়া হয় বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা। এসব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। বিনিয়োগগুলো যাতে উৎপাদমুখী খাতে যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা থাকে মুদ্রানীতিতে। টেকসই অর্থনীতির জন্য ব্যাংকিং খাতে পড়ে থাকা অলস অর্থ ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকে। তবে গেল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে যেসব লক্ষ্য ধরা হয়েছিল সেগুলোর অনেক কিছুই পূরণ হয়নি।

দেখা গেছে, গেল অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারী-জুন) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মে পর্যন্ত বেসরকারি খাতে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। জুন শেষে তা খুব বেশি বাড়বে না বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে থাকবে। মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়েছিল তা ৫ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে। তবে গত ছয় মাসে সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জুন শেষে প্রান্তিক হিসাবে দেখা গেছে, গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়েছে।

এছাড়া দেশের মোট অভ্যন্তরীণ সম্পদ ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা হলেও বেড়েছে মাত্র ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। একইভাবে ব্যাপক মুদ্রার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১৫ শতাংশ থাকলেও গত মে মাস পর্যন্ত সময়ে তা ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ হয়েছে। এভাবে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা হতে পারে ২৫ জুলাই। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবীর মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা বা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ৬ মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যান্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মুদ্রানীতি চুড়ান্ত করতে অন্যান্য বছরের মত এবারও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার, প্রাক্তন গভর্নর, প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

এ মাসের শেষে অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি

আপডেট সময় ০৪:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন। আর এ উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে নেওয়া হয় বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা। এসব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। বিনিয়োগগুলো যাতে উৎপাদমুখী খাতে যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা থাকে মুদ্রানীতিতে। টেকসই অর্থনীতির জন্য ব্যাংকিং খাতে পড়ে থাকা অলস অর্থ ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকে। তবে গেল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে যেসব লক্ষ্য ধরা হয়েছিল সেগুলোর অনেক কিছুই পূরণ হয়নি।

দেখা গেছে, গেল অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারী-জুন) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মে পর্যন্ত বেসরকারি খাতে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। জুন শেষে তা খুব বেশি বাড়বে না বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে থাকবে। মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়েছিল তা ৫ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে। তবে গত ছয় মাসে সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জুন শেষে প্রান্তিক হিসাবে দেখা গেছে, গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়েছে।

এছাড়া দেশের মোট অভ্যন্তরীণ সম্পদ ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা হলেও বেড়েছে মাত্র ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। একইভাবে ব্যাপক মুদ্রার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১৫ শতাংশ থাকলেও গত মে মাস পর্যন্ত সময়ে তা ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ হয়েছে। এভাবে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা হতে পারে ২৫ জুলাই। বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবীর মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা বা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ৬ মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যান্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মুদ্রানীতি চুড়ান্ত করতে অন্যান্য বছরের মত এবারও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার, প্রাক্তন গভর্নর, প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।