ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

পশ্চিম তীরে ব্যাপক অভিযানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দুই সেনা নিহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই অভিযানকে অত্যন্ত বড় পরিসরের উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এমন কার্যক্রম আর দেখা যায়নি। এ ধরনের অভিযান গাজা বা লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় হবে বলে দাবি করেছেন কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। পশ্চিম তীরে গুলিতে ইসরায়েলি দুই সেনা নিহত, ’৬৭ সালের মতো অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল।

হেবরনে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিহত সেনারা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান এবং সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। হামলায় একই ব্যাটালিয়নের আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পাল্টা গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়াসহ পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১৩টি শহর ও জনপদে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। নাবলুসে অভিযানের পাশাপাশি জালুদ ও কারিউত গ্রামে তল্লাশি চালানো হয়েছে। জেনিনের কাছাকাছি আরাবেহ ও বুরকিন থেকে ফিলিস্তিনিদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তুবাস ও আক্কাবা শহরেও ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলে হেবরনের এইন দেইর বাহা ও আশপাশের এলাকার শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে জরুরিভিত্তিতে বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেবরনের আল-জালদা এলাকায় সন্দেহভাজন হামলাকারীর বাড়িসহ বেশ কিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পূর্ব জেরিকো শহর ও আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী সেই এলাকায় প্রবেশ করবে, যেখান থেকে হামলাকারীরা এসেছিলেন। ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের সমর্থন: যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলকে নিয়ে আবার ইরানে হামলার ছক কষছে।

নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামলাকারীরা যে এলাকা থেকে এসেছিলেন, সেখানে প্রথমেই অভিযান চালানো হবে।

বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হামলাস্থলের আশপাশের স্থাপনা অবিলম্বে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই সুরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিলুপ্তির দাবি তুলেছেন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটল।

আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে পুরো অঞ্চলে সংঘাত চলমান রয়েছে।

হেবরনের এই গুলির ঘটনার প্রশংসা করেছে হামাস। সংগঠনটি নিহত হামলাকারীদের জন্য শোক প্রকাশ করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছে যে, দখলদারদের পায়ের নিচের মাটিকে যেন আগুনের মতো তপ্ত করে তোলা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

পশ্চিম তীরে ব্যাপক অভিযানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দুই সেনা নিহত

আপডেট সময় ১০:০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই অভিযানকে অত্যন্ত বড় পরিসরের উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এমন কার্যক্রম আর দেখা যায়নি। এ ধরনের অভিযান গাজা বা লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় হবে বলে দাবি করেছেন কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। পশ্চিম তীরে গুলিতে ইসরায়েলি দুই সেনা নিহত, ’৬৭ সালের মতো অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল।

হেবরনে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিহত সেনারা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান এবং সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। হামলায় একই ব্যাটালিয়নের আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পাল্টা গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়াসহ পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১৩টি শহর ও জনপদে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। নাবলুসে অভিযানের পাশাপাশি জালুদ ও কারিউত গ্রামে তল্লাশি চালানো হয়েছে। জেনিনের কাছাকাছি আরাবেহ ও বুরকিন থেকে ফিলিস্তিনিদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তুবাস ও আক্কাবা শহরেও ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলে হেবরনের এইন দেইর বাহা ও আশপাশের এলাকার শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে জরুরিভিত্তিতে বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেবরনের আল-জালদা এলাকায় সন্দেহভাজন হামলাকারীর বাড়িসহ বেশ কিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পূর্ব জেরিকো শহর ও আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী সেই এলাকায় প্রবেশ করবে, যেখান থেকে হামলাকারীরা এসেছিলেন। ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের সমর্থন: যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলকে নিয়ে আবার ইরানে হামলার ছক কষছে।

নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামলাকারীরা যে এলাকা থেকে এসেছিলেন, সেখানে প্রথমেই অভিযান চালানো হবে।

বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হামলাস্থলের আশপাশের স্থাপনা অবিলম্বে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই সুরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিলুপ্তির দাবি তুলেছেন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটল।

আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে পুরো অঞ্চলে সংঘাত চলমান রয়েছে।

হেবরনের এই গুলির ঘটনার প্রশংসা করেছে হামাস। সংগঠনটি নিহত হামলাকারীদের জন্য শোক প্রকাশ করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছে যে, দখলদারদের পায়ের নিচের মাটিকে যেন আগুনের মতো তপ্ত করে তোলা হয়।