ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দুই পা খুইয়ে ৮ মাস গর্তে

দুই পা হারিয়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি ধ্বংসস্তূপের নিচে ছোট্ট গর্তে বন্দি ছিলেন ৪৯ বছর বয়সি ইউক্রেনীয় সেনা কস্তিয়ানতিন ভ্লাসেনকো। চারপাশে শত্রুর ড্রোনের নজরদারি আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকার সব আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত এক বিশাল প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানে তাকে আকাশপথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়। মাটি থেকে ৭০ মিটার উচ্চতায় ঝুলিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের নিরাপদ গন্তব্যে তাকে নিয়ে আসার এই ঘটনাটি গত ৪ অক্টোবর সম্পন্ন হয়েছে। ভ্লাসেনকো বলেন, ‘তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, এটাই সম্ভবত সবকিছু বদলে দেওয়ার মুহূর্ত। তিনি বুঝতে পারেন, তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এরপর ড্রোনটি তাকে প্রায় ৭০ মিটার বা ২৩০ ফুট উচ্চতায় তুলে নেয়। এসব ড্রোনের সাহায্যে দূর থেকে বসেই সরাসরি দৃশ্য দেখে আক্রমণ চালাতে পারেন চালকেরা। ভ্লাসেনকো একটি ক্যারাবিনারের সাহায্যে ড্রোনের উইঞ্চে ঝোলানো হারনেসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন।

ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, পাঁচ বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো সেনাকে উদ্ধার করার এটিই প্রথম সফল ঘটনা। যুদ্ধের ভয়াবহতায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা খারকিভের একটি হাসপাতালে শুয়ে বর্ণনা করেন ভ্লাসেনকো। তার শরীরের ক্ষতস্থানগুলো তখনও ব্যান্ডেজে মোড়ানো ছিল। ভ্লাসেনকো জানান, যুদ্ধের বাস্তবতায় তিনি নিজেকে অনেকটা মৃত বলেই মেনে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে আগেই মৃত ভেবে নিয়েছিলাম। তার ভাষায়, ‘তখন আমার আর কোনো পা অবশিষ্ট ছিল না।’। ঝুঁকি সম্পর্কে জানলেও তার সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।

ইউক্রেনের ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের এই সদস্য গত বছরের মে মাসে খারকিভ অঞ্চলের এক সম্মুখসারির অবস্থানে দায়িত্ব নিতে গিয়েছিলেন।

সেখানে ‘বাসকি’ নামের আরেক সেনাসদস্যের সঙ্গে তিনি একটি ছোট্ট মাটির বাংকারে থাকতেন।

নিয়মিত ড্রোনের মাধ্যমে খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ তাদের কাছে পৌঁছাত। প্রতিদিন ড্রোনের মাধ্যমে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হতো।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন ওই অবস্থান থেকে সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ভ্লাসেনকোর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে গিয়ে চারজন সেনাসদস্য প্রাণ হারান, যা তাদের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। এমনকি ভ্লাসেনকোর জন্মদিনে চকলেট ও দামি সিগারেটও পাঠানো হয়েছিল। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধারে যাওয়া আরও দুই সেনাও প্রাণ হারান।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বাংকারে পানি ঢুকে পড়লে তারা কাছের এক ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুল ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখান থেকে শুকনো কাপড় ও খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েই রুশ নজরদারি ড্রোন তাদের শনাক্ত করে। এরপরের রুশ হামলায় তার সঙ্গী বাসকি নিহত হন এবং ভ্লাসেনকো গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তার বাঁ পায়ের পাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়েও মারাত্মক আঘাত পান। চলাফেরার শক্তি হারিয়ে তিনি স্কুলের একটি বয়লারের নিচে প্রায় ৮০ বাই ৬০ সেন্টিমিটার আকারের ছোট্ট একটি গর্তে আশ্রয় নেন। ড্রোন হামলায় এক পা উড়ে গেছে, অন্য পাটিও বাঁচাতে নিজেই ছুরি দিয়ে কেটে ফেলেছেন। প্রায় ১০ মাস একসঙ্গে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাদের বাংকারে পানি ঢুকে পড়ে। ডান পায়ের নিচের অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কারণ, আকাশজুড়ে অসংখ্য ড্রোন টহল দেওয়ায় সেখানে সামান্য নড়াচড়াও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

গর্তে বন্দি থাকার সময় ভ্লাসেনকোর পায়ের ক্ষত সংক্রামিত হতে থাকে। হাড় বেরিয়ে আসায় চরম অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি নিজের ছুরি ব্যবহার করেই ডান পায়ের পাতাটি কেটে ফেলার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। রক্তপাত বন্ধ করতে তিনি টুর্নিকেট ব্যবহার করেন। এভাবে দিনের পর দিন চরম প্রতিকূলতায় কেটেছে তার সময়। ইউক্রেনের সম্মুখসারিতে তার মোট অবস্থানের সময়কাল ছিল ৪৯১ দিন। এলাকাটি ‘কিল জোন’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সাঁজোয়া যান বা পিকআপ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টাও বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এখান থেকে আর কেউ বের হতে পারবে না।’। ইউক্রেনীয় সেনারা মাটিতে চলাচলকারী চালকবিহীন যান ব্যবহার করেও উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করেন। হাড়ও ক্রমেই আরও বেশি বেরিয়ে আসছিল।’।

একপর্যায়ে গুরজুফ ডিফেন্সের তৈরি একটি উন্নত ও বিশাল মালবাহী ড্রোনের কথা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উঠে আসে। ছয়টি রোটর বা প্রপেলারযুক্ত ড্রোনটি সর্বোচ্চ ৯০ কেজি ওজন বহন করতে সক্ষম। সে সময় ভ্লাসেনকোর শারীরিক ওজন কমে প্রায় ৭০ কেজিতে নেমে এসেছিল, যা উদ্ধার অভিযানকে কিছুটা সহজতর করে। তবে ড্রোনটি রুশ এফপিভি ড্রোনের হামলার শিকার হতে পারে—এমন আশঙ্কায় পুরো পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকা ‘অ্যালেক্স’ সাংকেতিক নামের এক কর্মকর্তা জানান, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ভ্লাসেনকোকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এটি সর্বোচ্চ ৯০ কেজি ওজন বহন করে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ড্রোনটির ছয়টি উল্লম্ব রোটর এবং কালো কাঠামো দেখতে বিশাল কোনো পোকামাকড়ের মতো।

অক্টোবরের শুরুতে ভ্লাসেনকোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পাশাপাশি একটি হারনেস ও নির্দেশনামূলক ভিডিও সম্বলিত ফোন পৌঁছায়। ৪ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে সেই বিশাল ড্রোনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার প্রক্রিয়াকে নিরাপদ রাখতে মূল ড্রোনের সঙ্গে তিনটি ছোট ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছিল, যেগুলোর কাজ ছিল শত্রুপক্ষের নজরদারি ড্রোনকে বিভ্রান্ত করা। এছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রুশ ড্রোন অবস্থানগুলোতে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়।

সব শঙ্কা কাটিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের উড়ান শেষে ভ্লাসেনকোকে বহনকারী ড্রোনটি সফলভাবে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছায়। আকাশে ওড়ার সময় ভ্লাসেনকোর মনে প্রবল ভয় থাকলেও তিনি কেবল সাঁতার না জানার কারণে পানিতে পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক অনুভব করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি যে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন, তা ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী ভিডিওর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তাকে আকাশপথে ফিরে আসতে দেখাটা অনেকের কাছেই ছিল এক বিস্ময়কর ঘটনা। নিরাপত্তার কারণে সেই স্থানের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। তবে ড্রোনে ঝুলে আকাশে ওড়ার সময়ও ভয় তাকে ছাড়েনি।

আপলোডকারীর তথ্য

দুই পা খুইয়ে ৮ মাস গর্তে

আপডেট সময় ০৩:২৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

দুই পা হারিয়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে একটি ধ্বংসস্তূপের নিচে ছোট্ট গর্তে বন্দি ছিলেন ৪৯ বছর বয়সি ইউক্রেনীয় সেনা কস্তিয়ানতিন ভ্লাসেনকো। চারপাশে শত্রুর ড্রোনের নজরদারি আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকার সব আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত এক বিশাল প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানে তাকে আকাশপথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়। মাটি থেকে ৭০ মিটার উচ্চতায় ঝুলিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের নিরাপদ গন্তব্যে তাকে নিয়ে আসার এই ঘটনাটি গত ৪ অক্টোবর সম্পন্ন হয়েছে। ভ্লাসেনকো বলেন, ‘তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, এটাই সম্ভবত সবকিছু বদলে দেওয়ার মুহূর্ত। তিনি বুঝতে পারেন, তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এরপর ড্রোনটি তাকে প্রায় ৭০ মিটার বা ২৩০ ফুট উচ্চতায় তুলে নেয়। এসব ড্রোনের সাহায্যে দূর থেকে বসেই সরাসরি দৃশ্য দেখে আক্রমণ চালাতে পারেন চালকেরা। ভ্লাসেনকো একটি ক্যারাবিনারের সাহায্যে ড্রোনের উইঞ্চে ঝোলানো হারনেসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন।

ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, পাঁচ বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো সেনাকে উদ্ধার করার এটিই প্রথম সফল ঘটনা। যুদ্ধের ভয়াবহতায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা খারকিভের একটি হাসপাতালে শুয়ে বর্ণনা করেন ভ্লাসেনকো। তার শরীরের ক্ষতস্থানগুলো তখনও ব্যান্ডেজে মোড়ানো ছিল। ভ্লাসেনকো জানান, যুদ্ধের বাস্তবতায় তিনি নিজেকে অনেকটা মৃত বলেই মেনে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে আগেই মৃত ভেবে নিয়েছিলাম। তার ভাষায়, ‘তখন আমার আর কোনো পা অবশিষ্ট ছিল না।’। ঝুঁকি সম্পর্কে জানলেও তার সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।

ইউক্রেনের ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের এই সদস্য গত বছরের মে মাসে খারকিভ অঞ্চলের এক সম্মুখসারির অবস্থানে দায়িত্ব নিতে গিয়েছিলেন।

সেখানে ‘বাসকি’ নামের আরেক সেনাসদস্যের সঙ্গে তিনি একটি ছোট্ট মাটির বাংকারে থাকতেন।

নিয়মিত ড্রোনের মাধ্যমে খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ তাদের কাছে পৌঁছাত। প্রতিদিন ড্রোনের মাধ্যমে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হতো।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন ওই অবস্থান থেকে সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ভ্লাসেনকোর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে গিয়ে চারজন সেনাসদস্য প্রাণ হারান, যা তাদের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। এমনকি ভ্লাসেনকোর জন্মদিনে চকলেট ও দামি সিগারেটও পাঠানো হয়েছিল। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধারে যাওয়া আরও দুই সেনাও প্রাণ হারান।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বাংকারে পানি ঢুকে পড়লে তারা কাছের এক ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুল ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখান থেকে শুকনো কাপড় ও খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েই রুশ নজরদারি ড্রোন তাদের শনাক্ত করে। এরপরের রুশ হামলায় তার সঙ্গী বাসকি নিহত হন এবং ভ্লাসেনকো গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তার বাঁ পায়ের পাতা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়েও মারাত্মক আঘাত পান। চলাফেরার শক্তি হারিয়ে তিনি স্কুলের একটি বয়লারের নিচে প্রায় ৮০ বাই ৬০ সেন্টিমিটার আকারের ছোট্ট একটি গর্তে আশ্রয় নেন। ড্রোন হামলায় এক পা উড়ে গেছে, অন্য পাটিও বাঁচাতে নিজেই ছুরি দিয়ে কেটে ফেলেছেন। প্রায় ১০ মাস একসঙ্গে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাদের বাংকারে পানি ঢুকে পড়ে। ডান পায়ের নিচের অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কারণ, আকাশজুড়ে অসংখ্য ড্রোন টহল দেওয়ায় সেখানে সামান্য নড়াচড়াও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

গর্তে বন্দি থাকার সময় ভ্লাসেনকোর পায়ের ক্ষত সংক্রামিত হতে থাকে। হাড় বেরিয়ে আসায় চরম অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি নিজের ছুরি ব্যবহার করেই ডান পায়ের পাতাটি কেটে ফেলার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। রক্তপাত বন্ধ করতে তিনি টুর্নিকেট ব্যবহার করেন। এভাবে দিনের পর দিন চরম প্রতিকূলতায় কেটেছে তার সময়। ইউক্রেনের সম্মুখসারিতে তার মোট অবস্থানের সময়কাল ছিল ৪৯১ দিন। এলাকাটি ‘কিল জোন’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সাঁজোয়া যান বা পিকআপ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টাও বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এখান থেকে আর কেউ বের হতে পারবে না।’। ইউক্রেনীয় সেনারা মাটিতে চলাচলকারী চালকবিহীন যান ব্যবহার করেও উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করেন। হাড়ও ক্রমেই আরও বেশি বেরিয়ে আসছিল।’।

একপর্যায়ে গুরজুফ ডিফেন্সের তৈরি একটি উন্নত ও বিশাল মালবাহী ড্রোনের কথা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উঠে আসে। ছয়টি রোটর বা প্রপেলারযুক্ত ড্রোনটি সর্বোচ্চ ৯০ কেজি ওজন বহন করতে সক্ষম। সে সময় ভ্লাসেনকোর শারীরিক ওজন কমে প্রায় ৭০ কেজিতে নেমে এসেছিল, যা উদ্ধার অভিযানকে কিছুটা সহজতর করে। তবে ড্রোনটি রুশ এফপিভি ড্রোনের হামলার শিকার হতে পারে—এমন আশঙ্কায় পুরো পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকা ‘অ্যালেক্স’ সাংকেতিক নামের এক কর্মকর্তা জানান, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ভ্লাসেনকোকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এটি সর্বোচ্চ ৯০ কেজি ওজন বহন করে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ড্রোনটির ছয়টি উল্লম্ব রোটর এবং কালো কাঠামো দেখতে বিশাল কোনো পোকামাকড়ের মতো।

অক্টোবরের শুরুতে ভ্লাসেনকোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পাশাপাশি একটি হারনেস ও নির্দেশনামূলক ভিডিও সম্বলিত ফোন পৌঁছায়। ৪ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে সেই বিশাল ড্রোনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার প্রক্রিয়াকে নিরাপদ রাখতে মূল ড্রোনের সঙ্গে তিনটি ছোট ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছিল, যেগুলোর কাজ ছিল শত্রুপক্ষের নজরদারি ড্রোনকে বিভ্রান্ত করা। এছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রুশ ড্রোন অবস্থানগুলোতে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়।

সব শঙ্কা কাটিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের উড়ান শেষে ভ্লাসেনকোকে বহনকারী ড্রোনটি সফলভাবে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছায়। আকাশে ওড়ার সময় ভ্লাসেনকোর মনে প্রবল ভয় থাকলেও তিনি কেবল সাঁতার না জানার কারণে পানিতে পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক অনুভব করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি যে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন, তা ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী ভিডিওর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তাকে আকাশপথে ফিরে আসতে দেখাটা অনেকের কাছেই ছিল এক বিস্ময়কর ঘটনা। নিরাপত্তার কারণে সেই স্থানের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। তবে ড্রোনে ঝুলে আকাশে ওড়ার সময়ও ভয় তাকে ছাড়েনি।