ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাহসী অভিনয় থেকে রাজকীয় সাক্ষাৎকার: সিমি গাড়োয়ালের বর্ণিল জীবন

বলিউডের ইতিহাসে সিমি গাড়োয়াল এক স্বতন্ত্র নাম। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথচলা যেমন সাফল্যমণ্ডিত, তেমনি বিতর্ক, প্রেম ও বিচ্ছেদের নানা বাঁকে ঘেরা। গত ১৭ অক্টোবর ছিল তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া এই তারকা এবার পা দিলেন জীবনের ৭৯তম বছরে। অভিনয়শিল্পী থেকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় সঞ্চালক—সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া সিমি পা দিলেন ৭৯ বছরে। এত বছর পরও সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে লিখেছেন সিমি। ১৭ বছর বয়সে প্রেম, জীবনে একাধিক সম্পর্ক সিমি গাড়োয়ালের ব্যক্তিজীবনও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

ষাট ও সত্তরের দশকে যখন হিন্দি সিনেমায় নায়িকাদের পর্দায় উপস্থিতির ক্ষেত্রে নানা সামাজিক বিধিনিষেধ ছিল, ঠিক তখনই সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। পর্দায় সাহসী উপস্থিতি, ব্যক্তিজীবনে একাধিক আলোচিত প্রেম, ভাঙা সংসার আর তারকাদের মনের কথা বের করে আনার অসাধারণ দক্ষতা—সব মিলিয়ে সিমি গাড়োয়ালের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। বাঁধা চিত্রনাট্য, সময়নিষ্ঠা ও পেশাদার কর্মপরিবেশের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল।

তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় রাজ কাপুরের ‘মেরা নাম জোকার’ (১৯৭০)।

ছবিটিতে তিনি মেরির চরিত্রে অভিনয় করেন, যা কিশোর মনে পরিবর্তনের ছাপ নিয়ে এসেছিল। পোশাক পরিবর্তনের একটি দৃশ্য তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সিমি জানিয়েছেন, পরিচালক রাজ কাপুর মেরির চরিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁকে ব্যাপক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, এমনকি নিজের পোশাকের নকশা ও সংলাপেও তিনি অবদান রেখেছিলেন। তবে বিতর্কে আটকে থাকেনি ছবিটিতে তাঁর অভিনয়।

এরপর ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় ইংরেজি ছবি ‘সিদ্ধার্থ’। হারমান হেসের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে শশী কাপুরের বিপরীতে কামলার চরিত্রে অভিনয় করেন সিমি। ছবিতে নগ্নতা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকায় ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সেন্সর বোর্ডের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সিমি অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন; তাঁর মতে, চরিত্রের খাতিরে বিশ্বস্ত থাকাটাই ছিল মুখ্য, এটি ছিল কমলার গল্প। সেন্সর বোর্ডের আপত্তি ও কাটছাঁটের কারণে ছবিটির প্রদর্শনও বাধার মুখে পড়ে। তাঁর বক্তব্য, চরিত্রটির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো নিয়ে তিনি প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। সম্পর্কটি অবশ্য বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি।

শিল্পসম্মত ও বাণিজ্যিক—দুই ধারার সিনেমাতেই তিনি সমান সাবলীল ছিলেন। ১৯৬২ সালে ‘টারজান গোজ টু ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর পথচলা। পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ও মৃণাল সেনের ‘পদাতিক’ ছবিতে কাজ করেছেন। আবার বাণিজ্যিক ঘরানার ‘কর্জ’ (১৯৮০) ছবিতে তাঁর অভিনীত কামিনী চরিত্রটি আজও দর্শকদের কাছে রহস্যময় ও নেতিবাচক অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। ক্যারিয়ারে ৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করা এই তারকা সবসময়ই চিত্রনাট্য ও কর্মপরিবেশ নিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। সত্যজিৎ রায় থেকে সুভাষ ঘাই সিমির ক্যারিয়ার শুধু বিতর্কিত দৃশ্যের গল্প নয়; বরং মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা ও শিল্পসম্মত চলচ্চিত্র—দুই ধারাতেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বাঙালি পরিচালকের এই ছবিতে কাজ তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা ৫০-এর বেশি।

সিমির ব্যক্তিজীবনও কম চর্চিত নয়। কৈশোরে লন্ডনে থাকাকালীন জামনগরের মহারাজা শত্রুশল্যসিংহজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শোনা যায়। এরপর ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদির সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনও ছিল। এমনকি পাকিস্তানি রাজনীতিক সালমান তাসির ও প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়েও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। ১৯৭০ সালে ব্যবসায়ী রবি মোহনকে বিয়ে করলেও ১৯৭৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়, যার পর আর তিনি নতুন করে সংসার পাতেননি। শিক্ষিকার প্রতি কিশোরের আকর্ষণ এবং কৈশোরে পা রাখার মানসিক পরিবর্তন তুলে ধরতে একটি দৃশ্যে সিমিকে পোশাক বদলাতে দেখা যায়। মেরি চরিত্রটিও থেকে যায় দর্শকের স্মৃতিতে। কারণ, ভারতীয় সিনেমায় নারী অভিনয়শিল্পীদের সাহসী দৃশ্যের আলোচনা বহু সময় তাঁদের অভিনয়কে ছাপিয়ে গেছে। কৈশোরে জামনগরের মহারাজা শত্রুশল্যসিংহজির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লন্ডনে বসবাসের সময় তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

টেলিভিশন দুনিয়ায় এসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে মেলে ধরেন। তাঁর সঞ্চালনায় ‘রঁদেভু উইথ সিমি গাড়োয়াল’ অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সাদা পোশাকের শান্ত উপস্থিতি আর সরাসরি প্রশ্নের জন্য তিনি ‘লেডি ইন হোয়াইট’ হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০৪ সালের এক পর্বে তিনি রেখাকে প্রশ্ন করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের প্রতি তাঁর অনুভূতি নিয়ে, যা সেই সময়ের বিনোদন জগতে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। পরে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে কালজয়ী সিনেমার মর্যাদা পায়।

অভিনয় ও সঞ্চালনার পাশাপাশি নির্মাণ ও প্রযোজনাতেও সিমি বেশ সক্রিয় ছিলেন। রাজ কাপুর ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রূপালী পর্দায় বিতর্কিত দৃশ্য থেকে শুরু করে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং ১৬৫ কোটি টাকার মালিক হওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় সিমি গাড়োয়াল সবসময়ই ছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক ব্যক্তিত্ব। জীবনের অর্থ ও আত্মিক উপলব্ধির সন্ধানে থাকা এক তরুণের যাত্রায় প্রেম, কামনা ও জাগতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ছবিটিতে।

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষামন্ত্রী: প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম

সাহসী অভিনয় থেকে রাজকীয় সাক্ষাৎকার: সিমি গাড়োয়ালের বর্ণিল জীবন

আপডেট সময় ০৭:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বলিউডের ইতিহাসে সিমি গাড়োয়াল এক স্বতন্ত্র নাম। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পথচলা যেমন সাফল্যমণ্ডিত, তেমনি বিতর্ক, প্রেম ও বিচ্ছেদের নানা বাঁকে ঘেরা। গত ১৭ অক্টোবর ছিল তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া এই তারকা এবার পা দিলেন জীবনের ৭৯তম বছরে। অভিনয়শিল্পী থেকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় সঞ্চালক—সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া সিমি পা দিলেন ৭৯ বছরে। এত বছর পরও সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে লিখেছেন সিমি। ১৭ বছর বয়সে প্রেম, জীবনে একাধিক সম্পর্ক সিমি গাড়োয়ালের ব্যক্তিজীবনও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

ষাট ও সত্তরের দশকে যখন হিন্দি সিনেমায় নায়িকাদের পর্দায় উপস্থিতির ক্ষেত্রে নানা সামাজিক বিধিনিষেধ ছিল, ঠিক তখনই সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। পর্দায় সাহসী উপস্থিতি, ব্যক্তিজীবনে একাধিক আলোচিত প্রেম, ভাঙা সংসার আর তারকাদের মনের কথা বের করে আনার অসাধারণ দক্ষতা—সব মিলিয়ে সিমি গাড়োয়ালের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। বাঁধা চিত্রনাট্য, সময়নিষ্ঠা ও পেশাদার কর্মপরিবেশের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল।

তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় রাজ কাপুরের ‘মেরা নাম জোকার’ (১৯৭০)।

ছবিটিতে তিনি মেরির চরিত্রে অভিনয় করেন, যা কিশোর মনে পরিবর্তনের ছাপ নিয়ে এসেছিল। পোশাক পরিবর্তনের একটি দৃশ্য তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সিমি জানিয়েছেন, পরিচালক রাজ কাপুর মেরির চরিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁকে ব্যাপক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, এমনকি নিজের পোশাকের নকশা ও সংলাপেও তিনি অবদান রেখেছিলেন। তবে বিতর্কে আটকে থাকেনি ছবিটিতে তাঁর অভিনয়।

এরপর ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় ইংরেজি ছবি ‘সিদ্ধার্থ’। হারমান হেসের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে শশী কাপুরের বিপরীতে কামলার চরিত্রে অভিনয় করেন সিমি। ছবিতে নগ্নতা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকায় ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সেন্সর বোর্ডের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সিমি অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন; তাঁর মতে, চরিত্রের খাতিরে বিশ্বস্ত থাকাটাই ছিল মুখ্য, এটি ছিল কমলার গল্প। সেন্সর বোর্ডের আপত্তি ও কাটছাঁটের কারণে ছবিটির প্রদর্শনও বাধার মুখে পড়ে। তাঁর বক্তব্য, চরিত্রটির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো নিয়ে তিনি প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। সম্পর্কটি অবশ্য বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি।

শিল্পসম্মত ও বাণিজ্যিক—দুই ধারার সিনেমাতেই তিনি সমান সাবলীল ছিলেন। ১৯৬২ সালে ‘টারজান গোজ টু ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর পথচলা। পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ও মৃণাল সেনের ‘পদাতিক’ ছবিতে কাজ করেছেন। আবার বাণিজ্যিক ঘরানার ‘কর্জ’ (১৯৮০) ছবিতে তাঁর অভিনীত কামিনী চরিত্রটি আজও দর্শকদের কাছে রহস্যময় ও নেতিবাচক অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। ক্যারিয়ারে ৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করা এই তারকা সবসময়ই চিত্রনাট্য ও কর্মপরিবেশ নিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। সত্যজিৎ রায় থেকে সুভাষ ঘাই সিমির ক্যারিয়ার শুধু বিতর্কিত দৃশ্যের গল্প নয়; বরং মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা ও শিল্পসম্মত চলচ্চিত্র—দুই ধারাতেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বাঙালি পরিচালকের এই ছবিতে কাজ তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা ৫০-এর বেশি।

সিমির ব্যক্তিজীবনও কম চর্চিত নয়। কৈশোরে লন্ডনে থাকাকালীন জামনগরের মহারাজা শত্রুশল্যসিংহজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শোনা যায়। এরপর ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদির সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনও ছিল। এমনকি পাকিস্তানি রাজনীতিক সালমান তাসির ও প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়েও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। ১৯৭০ সালে ব্যবসায়ী রবি মোহনকে বিয়ে করলেও ১৯৭৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়, যার পর আর তিনি নতুন করে সংসার পাতেননি। শিক্ষিকার প্রতি কিশোরের আকর্ষণ এবং কৈশোরে পা রাখার মানসিক পরিবর্তন তুলে ধরতে একটি দৃশ্যে সিমিকে পোশাক বদলাতে দেখা যায়। মেরি চরিত্রটিও থেকে যায় দর্শকের স্মৃতিতে। কারণ, ভারতীয় সিনেমায় নারী অভিনয়শিল্পীদের সাহসী দৃশ্যের আলোচনা বহু সময় তাঁদের অভিনয়কে ছাপিয়ে গেছে। কৈশোরে জামনগরের মহারাজা শত্রুশল্যসিংহজির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লন্ডনে বসবাসের সময় তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

টেলিভিশন দুনিয়ায় এসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে মেলে ধরেন। তাঁর সঞ্চালনায় ‘রঁদেভু উইথ সিমি গাড়োয়াল’ অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সাদা পোশাকের শান্ত উপস্থিতি আর সরাসরি প্রশ্নের জন্য তিনি ‘লেডি ইন হোয়াইট’ হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০৪ সালের এক পর্বে তিনি রেখাকে প্রশ্ন করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের প্রতি তাঁর অনুভূতি নিয়ে, যা সেই সময়ের বিনোদন জগতে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। পরে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে কালজয়ী সিনেমার মর্যাদা পায়।

অভিনয় ও সঞ্চালনার পাশাপাশি নির্মাণ ও প্রযোজনাতেও সিমি বেশ সক্রিয় ছিলেন। রাজ কাপুর ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রূপালী পর্দায় বিতর্কিত দৃশ্য থেকে শুরু করে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং ১৬৫ কোটি টাকার মালিক হওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় সিমি গাড়োয়াল সবসময়ই ছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক ব্যক্তিত্ব। জীবনের অর্থ ও আত্মিক উপলব্ধির সন্ধানে থাকা এক তরুণের যাত্রায় প্রেম, কামনা ও জাগতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ছবিটিতে।