ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কুমিল্লায় যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের নামে মামলা

কুমিল্লা নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী ৪৩ বছর বয়সী আবু কাউছারকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই কবির হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়ের নিয়ে থানায় হট্টগোল: ‘দরকার হইলে আমরা এমপি-মন্ত্রীরে আনামু’। কাউছার হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে গত শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।

গত শুক্রবার সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আসামিরা আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশে আসতে বলেন। হামলার প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল, বলছে পুলিশ।

দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউছারের মৃত্যু হয়।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় তৌহিদুল ইসলাম, তাঁর ভাই তানজির আলম, বাবা খোরশেদ আলম, সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেনসহ মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন।

এর বাইরে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আপস-মীমাংসার কথা বলে কাউছার ও তাঁর সহযোগীদের ডেকে আনা হয়েছিল। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অটোরিকশার পথ আটকে আসামিরা হামলা চালায়। এজাহার অনুযায়ী, সাইফুল ইসলাম চাপাতি দিয়ে কাউছারের পিঠে আঘাত করেন এবং ফরহাদ হোসেন সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করতে উদ্যত হন। কাউছারকে রক্ষা করতে গিয়ে অটোচালক মাসুমও গুরুতর আহত হন, যখন তানজির রামদা দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। তাঁরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে অটোরিকশার গতি রোধ করেন আসামিরা। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে তাঁর ভাইয়ের করা মামলার এজাহারে তৌহিদ, তাঁর ভাই ও বাবাসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কাউছারকে কোপানো ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে কবির হোসেন উল্লেখ করেন, তাঁর ছোট ভাই আবু কাউছার কাপ্তান বাজার এলাকায় তাঁর বন্ধু শামীম হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও গোলাম রসুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। অন্য একটি অটোরিকশায় ছিলেন হেলাল উদ্দিন, আরমান, আবদুল বারেক ও ইসমাইল। এ সময় সাক্ষীরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকেন। তখন আসামিরা আগে থেকে রাখা দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউছার ও তাঁর সঙ্গীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তৌহিদ, তানজির ও তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্যরা অতর্কিত হামলা চালান। জমির মালিকানা নিয়ে এজাহার ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা। আগেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান, ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরই কাউছারকে কুপিয়ে হত্যা।

এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম ও তাঁর ভাই তানজির আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক ফারহাদ রায়হান ভূঁইয়া সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের তথ্যমতে, তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাতটি এবং তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, মামলার অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জনতার হাতে ধরা পড়লেন মূল অভিযুক্ত, জামায় ছিল রক্তের দাগ।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, কাউছারের ব্যবসায়িক অংশীদার শামীম আইনজীবী মিজানের কাছ থেকে গোমতী চরের জমি ইজারা নিয়ে সেখানে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছিলেন। সেখানে আসামিদের কফি হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ বাধে। তবে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের তথ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি প্রাথমিক তদন্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন। কয়েক দিন আগে শামীম গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের চরে ৮ থেকে ১০ কানি জমি ইজারা নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

এ মাসেই বর্ধিত হারে বেতন পাবেন সরকারি কর্মচারীরা

কুমিল্লায় যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের নামে মামলা

আপডেট সময় ০৫:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী ৪৩ বছর বয়সী আবু কাউছারকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই কবির হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়ের নিয়ে থানায় হট্টগোল: ‘দরকার হইলে আমরা এমপি-মন্ত্রীরে আনামু’। কাউছার হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে গত শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।

গত শুক্রবার সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আসামিরা আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশে আসতে বলেন। হামলার প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল, বলছে পুলিশ।

দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউছারের মৃত্যু হয়।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় তৌহিদুল ইসলাম, তাঁর ভাই তানজির আলম, বাবা খোরশেদ আলম, সাইফুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেনসহ মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন।

এর বাইরে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আপস-মীমাংসার কথা বলে কাউছার ও তাঁর সহযোগীদের ডেকে আনা হয়েছিল। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অটোরিকশার পথ আটকে আসামিরা হামলা চালায়। এজাহার অনুযায়ী, সাইফুল ইসলাম চাপাতি দিয়ে কাউছারের পিঠে আঘাত করেন এবং ফরহাদ হোসেন সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করতে উদ্যত হন। কাউছারকে রক্ষা করতে গিয়ে অটোচালক মাসুমও গুরুতর আহত হন, যখন তানজির রামদা দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। তাঁরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে অটোরিকশার গতি রোধ করেন আসামিরা। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে তাঁর ভাইয়ের করা মামলার এজাহারে তৌহিদ, তাঁর ভাই ও বাবাসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কাউছারকে কোপানো ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে কবির হোসেন উল্লেখ করেন, তাঁর ছোট ভাই আবু কাউছার কাপ্তান বাজার এলাকায় তাঁর বন্ধু শামীম হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও গোলাম রসুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। অন্য একটি অটোরিকশায় ছিলেন হেলাল উদ্দিন, আরমান, আবদুল বারেক ও ইসমাইল। এ সময় সাক্ষীরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকেন। তখন আসামিরা আগে থেকে রাখা দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউছার ও তাঁর সঙ্গীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তৌহিদ, তানজির ও তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্যরা অতর্কিত হামলা চালান। জমির মালিকানা নিয়ে এজাহার ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা। আগেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান, ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরই কাউছারকে কুপিয়ে হত্যা।

এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম ও তাঁর ভাই তানজির আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক ফারহাদ রায়হান ভূঁইয়া সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের তথ্যমতে, তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাতটি এবং তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, মামলার অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জনতার হাতে ধরা পড়লেন মূল অভিযুক্ত, জামায় ছিল রক্তের দাগ।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, কাউছারের ব্যবসায়িক অংশীদার শামীম আইনজীবী মিজানের কাছ থেকে গোমতী চরের জমি ইজারা নিয়ে সেখানে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছিলেন। সেখানে আসামিদের কফি হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ বাধে। তবে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের তথ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি প্রাথমিক তদন্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন। কয়েক দিন আগে শামীম গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের চরে ৮ থেকে ১০ কানি জমি ইজারা নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।