ক্রিকেট মাঠে বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের রসায়ন বরাবরই সবার নজর কেড়েছে।
খেলার মাঠ কিংবা মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবনে তাঁদের বন্ধুত্বের গল্পটাও বেশ দারুণ।
তবে এই সুগভীর বন্ধুত্বের শুরুতে এক মজার বিড়ম্বনা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স স্বীকার করেছেন যে, প্রথম দেখায় ভারতীয় তারকা কোহলিকে তাঁর ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ বলে মনে হয়েছিল। একজন ভারতের ক্রিকেটের মহাতারকা, অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি।
সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স তাঁদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করেন। সেখানে তিনি অকপটে জানিয়েছেন, কোহলিকে সেই সময় অহংকারী মনে হওয়ার বিষয়ে সম্ভবত খোদ কোহলিও একমত হবেন। ১৯ থেকে ২১ বছর বয়সের সেই তরুণ কোহলির মধ্যে ছিল আকাশছোঁয়া আত্মবিশ্বাস, যাকে ডি ভিলিয়ার্স প্রথম দর্শনে ভুলভাবে অহংকার হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। উত্তরে কোনো রাখঢাক করেননি তিনি, ‘হ্যাঁ। কখনো কখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসকেও অহংকার বলে ভুল হয়। কোহলির বেলায় ডি ভিলিয়ার্সেরও সেটাই হয়েছিল। ১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সে ও ছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে কোহলির প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসই তাঁকে এমনটা ভাবতে বাধ্য করেছিল। অবশ্য এখন বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ রসিকতার সুরেই কথা বলেন। প্রোটিয়া এই তারকা মনে করেন, সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হলে এমন অটল আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। নিজের দক্ষতার ওপর অদম্য বিশ্বাসই একজন খেলোয়াড়কে বড় করতে সাহায্য করে। আসলে অহংকার আর আত্মবিশ্বাসের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আমি যখন কথাটা বলি, তখন একটু মজা করেই বলি।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোহলির ব্যক্তিত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তাও তুলে ধরেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতা কোহলিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। তরুণ বয়সে নিজেকে প্রমাণ করার যে তীব্র তাগিদ ছিল, তা এখন অনেক কমে এসেছে। এখন আর অন্যদের সামনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজন বোধ করেন না তিনি।
আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বছরের পর বছর একসঙ্গে খেলার সুবাদেই তাঁদের এই বন্ধুত্ব গভীর হয়। মাঠের বোঝাপড়া থেকে শুরু করে একে অপরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে তাঁদের অটুট বন্ধন। ইনস্টাগ্রাম থেকে যেভাবে শুরু কোহলি-জোকোভিচের ‘ডিজিটাল’ বন্ধুত্ব।
ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, প্রথম ধারণা যে সবসময় সঠিক হয় না, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাঁদের এই বর্তমান বন্ধুত্ব। প্রথম দেখায় যাঁকে অহংকারী মনে হয়েছিল, সেই কোহলিই এখন তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। অভিজ্ঞতার ছাপ ও সময়ের সাথে মানুষের ব্যক্তিত্ব যে বদলে যায়, সেটিই মূলত তাঁদের বন্ধুত্বের বয়ান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























