ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার লড়াইয়ে কোথায় বাংলাদেশ?

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ছক্কা। তবে সফল হয়ে গেলে সাধারণত প্রশংসাই মেলে।

তবে সব দল সমানভাবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছক্কা মারার সক্ষমতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বরাবরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৬ সাল শেষ হতে যাওয়া এই সময়ে এসে ক্যারিবীয় দলটি টি-টোয়েন্টিতে মোট ২০২৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত খেলেছে ২৯৮টি ম্যাচ, তাদের ছক্কা ২০১৭টি। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৯টি ছক্কার, যেখানে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৩৮টি ম্যাচ বেশি খেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৬০টি ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছে। তবে ওভার বাউন্ডারি নামে পরিচিত ছক্কার কদরটা টি–টুয়েন্টিতে একটু বেশিই। সবাই অবশ্য চাহিদা অনুসারে মারতে পারে না। আর তা এতো বেশি যে, তাদের খেলা দেখতে নড়েচড়ে বসেন সবাই। টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার প্রসঙ্গ এলে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটার কথাই মাথায় আসায় কথা বেশির ভাগের। ক্যারিবীয়ান দ্বীপ থেকে উঠে আসা একেকজন ব্যাটসম্যান কী সহজেই না বাউন্ডারি পার করিয়ে ফেলতে পারেন। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ২০২৬ সাল। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৯ ছক্কার। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই সাক্ষ্য দিচ্ছে। নতুন কোনো সূচি যোগ না হলে এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ বছর আর কোনো টি–টুয়েন্টি নেই। অথচ আফগানিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলেছে ২০১০ সালে, বাংলাদেশের চার বছর পর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ২৬০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ব্যবধান ১১ বলের বেশি।

তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোয় নিউজিল্যান্ড ১৫৮৫টি, পাকিস্তান ১৫০৭টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ১৪০০-এর কোঠায় ছক্কা মেরেছে। অন্য কোনো দেশ এখন পর্যন্ত ২০০০ ছক্কার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। এই তুলনায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বেশ পিছিয়ে। ২২২টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মোট ছক্কার সংখ্যা ৯৮৬টি। শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দল, যাদের ছক্কা হাজারের নিচে। এমনকি মাত্র ১৬৮টি ম্যাচ খেলে আফগানিস্তানও ১০১৪টি ছক্কা মেরেছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। এমনকি দেখেশুনে খেলার টেস্ট ক্রিকেটেও। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ছক্কাও ১৪০০ এর আশপাশে। অস্ট্রেলিয়ার ১৭.৪৭, ইংল্যান্ডের ১৮.০০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮.৪০ বল করে লেগেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ছক্কায় গড় বল ১৮.০৯।

বল প্রতি ছক্কা মারার হার বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটি আরও স্পষ্ট হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রতি ১৩.৯৩ বল অন্তর একটি করে ছক্কা মারে। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ১৬.১৬ বলে একটি। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৫.৩৯ বল ব্যয় করে। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলঙ্কা (২৬.১২ বল) বাংলাদেশের চেয়েও ধীরগতিতে ছক্কা মারে। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলে দায় আপনার। অর্থাৎ, ১২০ বলের খেলায় বাংলাদেশ একটি করে ছক্কা পায় ২৫ বল পর।

ব্যক্তিগত সাফল্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারতের ব্যাটসম্যানেরা সবচেয়ে বেশি ২৭টি সেঞ্চুরি করেছেন। নিউজিল্যান্ড ১৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকায় দুইয়ে আছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদেরও ৩টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিকারী দেশের শীর্ষ দশে জায়গা পায়নি।

ফিফটির হিসেবেও ভারত ২৫৫টি এবং পাকিস্তান ২০২টি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখানে ১৫৮টি ফিফটি ও ৯টি সেঞ্চুরি করেছে। সার্বিক ব্যাটিং স্ট্রাইকরেট ও গড়ের দিক থেকেও বাংলাদেশ শীর্ষ দশের বাইরে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের গড় স্ট্রাইকরেট ১১৭.২৫ এবং গড় রান ১৯.৩৪, যেখানে স্ট্রাইকরেট ও গড় উভয়েই শীর্ষে রয়েছে ভারত।

আপলোডকারীর তথ্য

২০৩০ সালেই মেয়াদ শেষ, সংবিধান আর পরিবর্তন নয়: সিসি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার লড়াইয়ে কোথায় বাংলাদেশ?

আপডেট সময় ১২:১৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ছক্কা। তবে সফল হয়ে গেলে সাধারণত প্রশংসাই মেলে।

তবে সব দল সমানভাবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছক্কা মারার সক্ষমতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বরাবরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৬ সাল শেষ হতে যাওয়া এই সময়ে এসে ক্যারিবীয় দলটি টি-টোয়েন্টিতে মোট ২০২৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত খেলেছে ২৯৮টি ম্যাচ, তাদের ছক্কা ২০১৭টি। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৯টি ছক্কার, যেখানে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৩৮টি ম্যাচ বেশি খেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৬০টি ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছে। তবে ওভার বাউন্ডারি নামে পরিচিত ছক্কার কদরটা টি–টুয়েন্টিতে একটু বেশিই। সবাই অবশ্য চাহিদা অনুসারে মারতে পারে না। আর তা এতো বেশি যে, তাদের খেলা দেখতে নড়েচড়ে বসেন সবাই। টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার প্রসঙ্গ এলে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটার কথাই মাথায় আসায় কথা বেশির ভাগের। ক্যারিবীয়ান দ্বীপ থেকে উঠে আসা একেকজন ব্যাটসম্যান কী সহজেই না বাউন্ডারি পার করিয়ে ফেলতে পারেন। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ২০২৬ সাল। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৯ ছক্কার। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই সাক্ষ্য দিচ্ছে। নতুন কোনো সূচি যোগ না হলে এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ বছর আর কোনো টি–টুয়েন্টি নেই। অথচ আফগানিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলেছে ২০১০ সালে, বাংলাদেশের চার বছর পর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ২৬০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ব্যবধান ১১ বলের বেশি।

তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোয় নিউজিল্যান্ড ১৫৮৫টি, পাকিস্তান ১৫০৭টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ১৪০০-এর কোঠায় ছক্কা মেরেছে। অন্য কোনো দেশ এখন পর্যন্ত ২০০০ ছক্কার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। এই তুলনায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বেশ পিছিয়ে। ২২২টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মোট ছক্কার সংখ্যা ৯৮৬টি। শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দল, যাদের ছক্কা হাজারের নিচে। এমনকি মাত্র ১৬৮টি ম্যাচ খেলে আফগানিস্তানও ১০১৪টি ছক্কা মেরেছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। এমনকি দেখেশুনে খেলার টেস্ট ক্রিকেটেও। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ছক্কাও ১৪০০ এর আশপাশে। অস্ট্রেলিয়ার ১৭.৪৭, ইংল্যান্ডের ১৮.০০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮.৪০ বল করে লেগেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ছক্কায় গড় বল ১৮.০৯।

বল প্রতি ছক্কা মারার হার বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটি আরও স্পষ্ট হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রতি ১৩.৯৩ বল অন্তর একটি করে ছক্কা মারে। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ১৬.১৬ বলে একটি। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৫.৩৯ বল ব্যয় করে। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলঙ্কা (২৬.১২ বল) বাংলাদেশের চেয়েও ধীরগতিতে ছক্কা মারে। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলে দায় আপনার। অর্থাৎ, ১২০ বলের খেলায় বাংলাদেশ একটি করে ছক্কা পায় ২৫ বল পর।

ব্যক্তিগত সাফল্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারতের ব্যাটসম্যানেরা সবচেয়ে বেশি ২৭টি সেঞ্চুরি করেছেন। নিউজিল্যান্ড ১৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকায় দুইয়ে আছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদেরও ৩টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিকারী দেশের শীর্ষ দশে জায়গা পায়নি।

ফিফটির হিসেবেও ভারত ২৫৫টি এবং পাকিস্তান ২০২টি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখানে ১৫৮টি ফিফটি ও ৯টি সেঞ্চুরি করেছে। সার্বিক ব্যাটিং স্ট্রাইকরেট ও গড়ের দিক থেকেও বাংলাদেশ শীর্ষ দশের বাইরে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের গড় স্ট্রাইকরেট ১১৭.২৫ এবং গড় রান ১৯.৩৪, যেখানে স্ট্রাইকরেট ও গড় উভয়েই শীর্ষে রয়েছে ভারত।