ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সংগীতে ৫০ বছর পূর্ণ করলেন শিল্পী তপন চৌধুরী

বাংলা গানের ভুবনে অসামান্য অবদানের জন্য দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন বরেণ্য শিল্পী তপন চৌধুরী। ১৯৭৩ সালে সংগীতজগতে পথচলা শুরু করা এই গুণী শিল্পীর সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার কানাডার টরন্টোতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর ‘তপন চৌধুরীর সংগীতজীবনের ৫০ বছরের পথচলা উৎসব’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। রূপতনু মিউজিক একাডেমি এবং টরন্টো ঢাকা ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের উদযাপনের উপলক্ষই নয়, বরং তার গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভক্তের আবেগ ও স্মৃতির এক মিলনমেলা। তার দরদমাখা কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। শিল্পীর কাছে এই দীর্ঘ পথচলার সার্থকতা শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা গানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জন সম্পর্কে শিল্পী তপন চৌধুরী বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে ভক্ত ও শ্রোতাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং গুণীজনদের আশীর্বাদই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিজের সংগীতযাত্রার এই মাইলফলক স্পর্শ করার মুহূর্তে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রূপতনু মিউজিক একাডেমি ও টরন্টো ঢাকা ক্লাবের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টাতেই এই সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবটি বাস্তবে রূপ লাভ করছে। এছাড়া নেপথ্যের সব শুভানুধ্যায়ীর প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং সবার অংশগ্রহণে উৎসবটি সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ এই পথচলায় জনপ্রিয়তা বা গানের সংখ্যার চেয়েও মানুষের স্নেহ ও সহশিল্পীদের সম্মানকেই তিনি বড় করে দেখেন। এর আগে ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার ঢাকা ক্লাবে তার ক্যারিয়ারের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি জমকালো অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই আয়োজনে রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদী, আলাউদ্দিন আলী ও আইয়ুব বাচ্চুর মতো সংগীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে কিংবদন্তি রুনা লায়লার দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছিল। সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করে শিল্পী বলেন, সহকর্মীদের আন্তরিক উপস্থিতি এবং সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনদের স্নেহ তাকে সব সময় নতুন করে অনুপ্রাণিত করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী ও সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। সহকর্মী ও গুণী শিল্পীদের উপস্থিতি তাকে যেমন আনন্দিত করেছিল, তেমনি অনুপ্রাণিতও করেছিল।

কানাডার এই বিশেষ আয়োজনে শ্রোতাদের জন্য থাকছে শিল্পীর জনপ্রিয় গানের পরিবেশনা। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে তপন চৌধুরী ১৫টির বেশি কালজয়ী গান গেয়ে শোনাবেন। অনুষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘এ এমন পরিচয়’, ‘দিন কি রাতে’, ‘কান্দো কেনে মন’, ‘কত কাঁদলাম’, ‘আজ ফিরে না গেলেই কি নয়’ এবং ‘আমি সবকিছু ছাড়তে পারি’-এর মতো শ্রোতাপ্রিয় সুরের মূর্ছনা। প্রেম, বিরহ ও জীবনের নানা অনুষঙ্গে ঘেরা তার এই গানগুলো যুগ যুগ ধরে শ্রোতাদের মন জয় করেছে। টরন্টোর মঞ্চে এই গানের সুরের মধ্য দিয়ে শিল্পীর ৫০ বছরের সংগীতযাত্রার প্রতিধ্বনি শুনতে উন্মুখ হয়ে আছেন অগণিত সংগীতপ্রেমী। তার গানে প্রেম, বিরহ ও জীবনের নানা অনুভূতি খুঁজে পেয়েছেন শ্রোতারা।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের নিরলস সাধনায় তপন চৌধুরী বাংলা সংগীতে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও অবস্থান তৈরি করেছেন। সময়ের পরিবর্তনে গানের ধরন বদলালেও তার গায়কীর দরদ ও আন্তরিকতা শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। টরন্টোর আয়োজনের পর বাংলাদেশেও তার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সংগীতের এই বিশাল পথচলা ও শিল্পীর প্রতি শ্রোতাদের অঢেল ভালোবাসাই এই আয়োজনের মূল শক্তি ও প্রাণকেন্দ্র। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

আপলোডকারীর তথ্য

সংগীতে ৫০ বছর পূর্ণ করলেন শিল্পী তপন চৌধুরী

আপডেট সময় ০৪:৩৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলা গানের ভুবনে অসামান্য অবদানের জন্য দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন বরেণ্য শিল্পী তপন চৌধুরী। ১৯৭৩ সালে সংগীতজগতে পথচলা শুরু করা এই গুণী শিল্পীর সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার কানাডার টরন্টোতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর ‘তপন চৌধুরীর সংগীতজীবনের ৫০ বছরের পথচলা উৎসব’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। রূপতনু মিউজিক একাডেমি এবং টরন্টো ঢাকা ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের উদযাপনের উপলক্ষই নয়, বরং তার গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভক্তের আবেগ ও স্মৃতির এক মিলনমেলা। তার দরদমাখা কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। শিল্পীর কাছে এই দীর্ঘ পথচলার সার্থকতা শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা গানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জন সম্পর্কে শিল্পী তপন চৌধুরী বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে ভক্ত ও শ্রোতাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং গুণীজনদের আশীর্বাদই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিজের সংগীতযাত্রার এই মাইলফলক স্পর্শ করার মুহূর্তে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রূপতনু মিউজিক একাডেমি ও টরন্টো ঢাকা ক্লাবের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টাতেই এই সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবটি বাস্তবে রূপ লাভ করছে। এছাড়া নেপথ্যের সব শুভানুধ্যায়ীর প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং সবার অংশগ্রহণে উৎসবটি সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ এই পথচলায় জনপ্রিয়তা বা গানের সংখ্যার চেয়েও মানুষের স্নেহ ও সহশিল্পীদের সম্মানকেই তিনি বড় করে দেখেন। এর আগে ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার ঢাকা ক্লাবে তার ক্যারিয়ারের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি জমকালো অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই আয়োজনে রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদী, আলাউদ্দিন আলী ও আইয়ুব বাচ্চুর মতো সংগীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে কিংবদন্তি রুনা লায়লার দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছিল। সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করে শিল্পী বলেন, সহকর্মীদের আন্তরিক উপস্থিতি এবং সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনদের স্নেহ তাকে সব সময় নতুন করে অনুপ্রাণিত করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী ও সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। সহকর্মী ও গুণী শিল্পীদের উপস্থিতি তাকে যেমন আনন্দিত করেছিল, তেমনি অনুপ্রাণিতও করেছিল।

কানাডার এই বিশেষ আয়োজনে শ্রোতাদের জন্য থাকছে শিল্পীর জনপ্রিয় গানের পরিবেশনা। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে তপন চৌধুরী ১৫টির বেশি কালজয়ী গান গেয়ে শোনাবেন। অনুষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘এ এমন পরিচয়’, ‘দিন কি রাতে’, ‘কান্দো কেনে মন’, ‘কত কাঁদলাম’, ‘আজ ফিরে না গেলেই কি নয়’ এবং ‘আমি সবকিছু ছাড়তে পারি’-এর মতো শ্রোতাপ্রিয় সুরের মূর্ছনা। প্রেম, বিরহ ও জীবনের নানা অনুষঙ্গে ঘেরা তার এই গানগুলো যুগ যুগ ধরে শ্রোতাদের মন জয় করেছে। টরন্টোর মঞ্চে এই গানের সুরের মধ্য দিয়ে শিল্পীর ৫০ বছরের সংগীতযাত্রার প্রতিধ্বনি শুনতে উন্মুখ হয়ে আছেন অগণিত সংগীতপ্রেমী। তার গানে প্রেম, বিরহ ও জীবনের নানা অনুভূতি খুঁজে পেয়েছেন শ্রোতারা।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের নিরলস সাধনায় তপন চৌধুরী বাংলা সংগীতে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও অবস্থান তৈরি করেছেন। সময়ের পরিবর্তনে গানের ধরন বদলালেও তার গায়কীর দরদ ও আন্তরিকতা শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। টরন্টোর আয়োজনের পর বাংলাদেশেও তার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সংগীতের এই বিশাল পথচলা ও শিল্পীর প্রতি শ্রোতাদের অঢেল ভালোবাসাই এই আয়োজনের মূল শক্তি ও প্রাণকেন্দ্র। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।