ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও ব্যয় সংকোচনে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবলসংকট এখন প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ বর্তমানে শূন্য পড়ে আছে, যা অনুমোদিত পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একদিকে নাগরিকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় পদের ভিড়ে সরকারি ব্যয়ের চাপ—এই উভয় সংকট মোকাবিলায় এখন কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে গেলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায় সরকারি খাত কতটা জনবলসংকটে ভুগছে।

জনপ্রশাসন–সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে শূন্য পদ পূরণের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সরকারের যাত্রার শুরুর প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি পদ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে ২ হাজার ৬১টি পদে ইতিমধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, কেবল সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে পদের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কতগুলো পদ পূরণ করা হলো, সেটিই বড় কথা নয়; এসব নিয়োগ প্রয়োজনীয় ছিল কি না, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলের এক সদস্য অভিযোগ তুলেছেন যে, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে কর্মকর্তাদের বদলি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা জনপ্রশাসনের মেধাভিত্তিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হলে মেধাভিত্তিক প্রশাসনের ধারণাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের চর্চা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা। রাজনৈতিক বিবেচনা যদি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনোভাবে ফিরে আসে, তাহলে সেটা বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

বর্তমানে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে ৩৫০টিরও বেশি দপ্তর, অধিদপ্তর ও করপোরেশন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে আমলা নিয়োগ কিংবা দলীয় নেতাদের পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে এগুলোর ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে। এখন সময় এসেছে কোন দপ্তরে প্রকৃত কত জনবল প্রয়োজন এবং কোন পদগুলো সময়ের বিবর্তনে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার।

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ও কাজের ধরন পরিবর্তনের ফলে সব পুরোনো পদের প্রয়োজনীয়তা একই রকম নেই। তাই মাঠপর্যায়ে সেবাপ্রদানকারী পদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাকিগুলোতে জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে উদ্বৃত্ত পদ বিলোপ, অপ্রয়োজনীয় বিভাগ একীভূত করা এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাতের ব্যয় সংকোচনই এখন রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আপলোডকারীর তথ্য

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও ব্যয় সংকোচনে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা

আপডেট সময় ০৯:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবলসংকট এখন প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ বর্তমানে শূন্য পড়ে আছে, যা অনুমোদিত পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একদিকে নাগরিকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় পদের ভিড়ে সরকারি ব্যয়ের চাপ—এই উভয় সংকট মোকাবিলায় এখন কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে গেলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায় সরকারি খাত কতটা জনবলসংকটে ভুগছে।

জনপ্রশাসন–সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে শূন্য পদ পূরণের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সরকারের যাত্রার শুরুর প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি পদ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে ২ হাজার ৬১টি পদে ইতিমধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, কেবল সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে পদের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কতগুলো পদ পূরণ করা হলো, সেটিই বড় কথা নয়; এসব নিয়োগ প্রয়োজনীয় ছিল কি না, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলের এক সদস্য অভিযোগ তুলেছেন যে, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে কর্মকর্তাদের বদলি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা জনপ্রশাসনের মেধাভিত্তিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হলে মেধাভিত্তিক প্রশাসনের ধারণাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের চর্চা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা। রাজনৈতিক বিবেচনা যদি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনোভাবে ফিরে আসে, তাহলে সেটা বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

বর্তমানে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে ৩৫০টিরও বেশি দপ্তর, অধিদপ্তর ও করপোরেশন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে আমলা নিয়োগ কিংবা দলীয় নেতাদের পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে এগুলোর ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে। এখন সময় এসেছে কোন দপ্তরে প্রকৃত কত জনবল প্রয়োজন এবং কোন পদগুলো সময়ের বিবর্তনে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার।

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ও কাজের ধরন পরিবর্তনের ফলে সব পুরোনো পদের প্রয়োজনীয়তা একই রকম নেই। তাই মাঠপর্যায়ে সেবাপ্রদানকারী পদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাকিগুলোতে জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে উদ্বৃত্ত পদ বিলোপ, অপ্রয়োজনীয় বিভাগ একীভূত করা এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাতের ব্যয় সংকোচনই এখন রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।