ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে ফের পুরোদমে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকা জালামবেসার দিকে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী অগ্রসর হওয়ায় নতুন করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মধ্যেই সীমান্তজুড়ে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী শহর জালামবেসায় ইথিওপীয় সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কয়েকটি সূত্র। কূটনীতিকরা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত এড়াতে যখন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তখনই সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

কূটনৈতিক ও সংঘাত নজরদারি সংস্থাসমূহের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত সপ্তাহে ইরিত্রীয় বাহিনী বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তশহর জালামবেসায় প্রবেশ করে। তবে বর্তমানে সেখানে ইরিত্রিয়ার সৈন্য কিংবা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান বজায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ছয়টি ভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার নাগাদ ইথিওপীয় বাহিনী প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার এই সীমান্ত শহরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এই তথ্যদাতাদের মধ্যে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা চার ব্যক্তি, একজন কূটনীতিক এবং একজন সংঘাতবিষয়ক গবেষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জালামবেসা ইরিত্রিয়া সীমান্তের ইথিওপীয় অংশে অবস্থিত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একটি শহর।

ইথিওপিয়ার ভেতরে সেনা প্রবেশের যাবতীয় অভিযোগ শুরু থেকেই খণ্ডন করে আসছে ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারা। আসমারার দাবি, ইথিওপীয় রাজধানী আদ্দিস আবাবার সামরিক অনুপ্রবেশের অভিযোগ মূলত ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করার শামিল। এই প্রেক্ষিতে আসমারা ইথিওপিয়াকে প্রতিহত করতে জাতিসংঘের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু জালামবেসা শহরের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে এসেছে কি না, তা নিয়ে সরকারপন্থি মিলিশিয়ার মুখপাত পাত্র স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। এ ছাড়া ইথিওপীয় সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের দফতর থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বে একটি বিদ্রোহী জোট গত মাসে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইথিওপিয়ার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে সরকারি বাহিনী দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখল করলে বিদ্রোহীরা উত্তর দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যেখানে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে ফের এই নতুন লড়াইয়ে পুরো অঞ্চল জুড়ে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর দেশটিতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

আপডেট সময় ১০:৫৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে ফের পুরোদমে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকা জালামবেসার দিকে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী অগ্রসর হওয়ায় নতুন করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মধ্যেই সীমান্তজুড়ে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী শহর জালামবেসায় ইথিওপীয় সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কয়েকটি সূত্র। কূটনীতিকরা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত এড়াতে যখন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তখনই সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

কূটনৈতিক ও সংঘাত নজরদারি সংস্থাসমূহের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত সপ্তাহে ইরিত্রীয় বাহিনী বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তশহর জালামবেসায় প্রবেশ করে। তবে বর্তমানে সেখানে ইরিত্রিয়ার সৈন্য কিংবা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান বজায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ছয়টি ভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার নাগাদ ইথিওপীয় বাহিনী প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার এই সীমান্ত শহরের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এই তথ্যদাতাদের মধ্যে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা চার ব্যক্তি, একজন কূটনীতিক এবং একজন সংঘাতবিষয়ক গবেষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জালামবেসা ইরিত্রিয়া সীমান্তের ইথিওপীয় অংশে অবস্থিত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একটি শহর।

ইথিওপিয়ার ভেতরে সেনা প্রবেশের যাবতীয় অভিযোগ শুরু থেকেই খণ্ডন করে আসছে ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারা। আসমারার দাবি, ইথিওপীয় রাজধানী আদ্দিস আবাবার সামরিক অনুপ্রবেশের অভিযোগ মূলত ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করার শামিল। এই প্রেক্ষিতে আসমারা ইথিওপিয়াকে প্রতিহত করতে জাতিসংঘের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু জালামবেসা শহরের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে এসেছে কি না, তা নিয়ে সরকারপন্থি মিলিশিয়ার মুখপাত পাত্র স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। এ ছাড়া ইথিওপীয় সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের দফতর থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বে একটি বিদ্রোহী জোট গত মাসে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইথিওপিয়ার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে সরকারি বাহিনী দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখল করলে বিদ্রোহীরা উত্তর দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যেখানে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে ফের এই নতুন লড়াইয়ে পুরো অঞ্চল জুড়ে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর দেশটিতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।