ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ

প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান তৈরির একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ড্রোন সংযোজন ও পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিমান বাহিনী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বগুড়া বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে কারখানা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ চারটি অর্থবছরে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। এই প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল, যারা মূলত রাডার, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম এবং খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে—এমন দুই ধরনের ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো সামরিক নজরদারির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ব্যবহার করা হবে।

নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ। তবে ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, চীনা প্রযুক্তির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এবং এসব ড্রোন সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও চীনা প্রযুক্তির তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তবে বাস্তবে এ ধরনের ঝুঁকি বা উদ্বেগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ইতিহাসে এটি নতুন কিছু নয়; এর আগেও নৌবাহিনীর সাবমেরিন, রাডার ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই অনেকে এই ড্রোন প্রকল্পকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন।

সব মিলিয়ে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বড় সুযোগ হলেও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও ভারত-চীন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং ড্রোনের ব্যবহারের ধরন ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার ওপরই নির্ভর করবে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৭:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান তৈরির একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ড্রোন সংযোজন ও পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিমান বাহিনী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বগুড়া বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে কারখানা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ চারটি অর্থবছরে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। এই প্রকল্পে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল, যারা মূলত রাডার, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম এবং খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে—এমন দুই ধরনের ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো সামরিক নজরদারির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ব্যবহার করা হবে।

নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ। তবে ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, চীনা প্রযুক্তির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এবং এসব ড্রোন সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও চীনা প্রযুক্তির তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তবে বাস্তবে এ ধরনের ঝুঁকি বা উদ্বেগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ইতিহাসে এটি নতুন কিছু নয়; এর আগেও নৌবাহিনীর সাবমেরিন, রাডার ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই অনেকে এই ড্রোন প্রকল্পকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন।

সব মিলিয়ে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বড় সুযোগ হলেও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও ভারত-চীন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং ড্রোনের ব্যবহারের ধরন ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার ওপরই নির্ভর করবে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব।