চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন যে, তিনি পদত্যাগ করেননি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ সংক্রান্ত যে খবর প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে শিক্ষার্থীরা তাঁকে বের হতে দিয়েছেন—এই তথ্যটিও অসত্য। আজ বুধবার দুপুরে হোয়াটস অ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি এসব কথা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপাচার্য জানান, গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় দপ্তরে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর কথা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না। সেই অসুস্থ অবস্থাতেই তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ এবং বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছি। সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করব, ইনশা আল্লাহ।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকার তাঁকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পালনের জন্যই তিনি এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা বা দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য তাঁর নেই। উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি পুনর্ব্যক্ত করতে চাই, রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছি। কারণ, আপনারা জেনে থাকবেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আসলে আমি কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলাম না।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষাজীবন বা একাডেমিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপাচার্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর আগে গত সোমবার সকালে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শরীফুল আলম। পরবর্তী সময়ে দুপুরে শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অস্থিরতা শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছে, অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি চলবে।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, “তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভবনের ভেতরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে অটল রয়েছি।” আজ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো চুরি হয়েছে কি না এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, যতক্ষণ না অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ শাটডাউন কর্মসূচি বন্ধ হবে না। টানা ২৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের ফলে ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি সামনে রেখে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















