ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে নজরুল স্মরণে বিশেষ আয়োজন

ইরানি কবি হাফিজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কলকাতায় ছায়ানট (কলকাতা)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ নজরুল-স্মরণ অনুষ্ঠান।

প্রতি বছরের ১২ অক্টোবর ইরানে ‘হাফিজ দিবস’ বা ‘হাফিজ মেমোরিয়াল ডে’ উদযাপিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীর বিশ্ববিখ্যাত পারস্য কবি হাফিজের সুফি দর্শন ও সাহিত্যিক অবদানের স্মরণে আয়োজিত এই বিশেষ দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘তরুণ ইরান-কবি কাঁদে নিরজনে’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য ছিল কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতে ইরানীয় প্রভাবের নানা দিক। অবশ্য এতেও তাঁর সেই দর্শন, সেই প্রেম, সেই শারাব, সাকী তেমনিভাবেই জড়িয়ে আছে।

অনুষ্ঠানটি গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়ে টানা দুই ঘণ্টা চলে। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম এবং ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। এ ছাড়াও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ হাসান ইমরান, ওয়াএজুল হক এবং লেখক মনিরুল ইসলাম অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। ছায়ানটের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য বক্তারা আয়োজকদের প্রশংসা করেন। ২ ঘণ্টা ব্যাপী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম, ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।

অনুষ্ঠানের বাচিকশিল্পীরা নজরুল অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ ও ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ থেকে বিভিন্ন রুবাই পাঠ করেন। পাঠে অংশ নেন তিস্তা দে, সোমা রায়, অন্বেষা মুখার্জি, দেবলীনা চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা রায়, পারমিতা চৌধুরী, পিয়ালী ঘোষ, মৌমিতা ঘোষ ও অনিন্দিতা ঘোষ। এরপর সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়। চম্পা মিত্র, বিচিত্রা ঘোষ, নন্দিনী নন্দীসহ নয়জন শিল্পীর কণ্ঠে ‘পরি জাফরানি ঘাগরি’ ও ‘বুলবলি নীরব নার্গিস-বনে’-এর মতো নজরুলের ইরান-অনুপ্রাণিত গানগুলো শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। সোমঋতা মল্লিক নিজেও অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের সুচিন্তিত বক্তব্য অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেতভাবে পরিবেশিত হয় ২টি নজরুলসংগীত, যেখানে নজরুল ইরান প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন অথবা ইরানীয় সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। নাচে ইরানি মেয়ে, শুকনো পাতার নূপুর পায়ে, ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি—অনুষ্ঠানের বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে সোমঋতা চমৎকারভাবে গানগুলো নির্বাচন করেন।

পুত্র বুলবুলের মৃত্যুর শোকের সময়েই নজরুল তাঁর অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ বইটি উৎসর্গ করেছিলেন। এই বইটির মুখবন্ধে কবি লিখেছিলেন, “বাঙলার শাসনকর্ত্তা গিয়াসুদ্দিনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন। আমার আহ্বান উপেক্ষিত হয়নি। যে পথ দিয়ে আমার পুত্রের জানাজা (শব-যান) চলে গেল, সেই পথ দিয়ে আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম ইরানী কবি আমার দ্বারে এলেন। আমার চোখের জলে তাঁর চরণ অভিষিক্ত হল।”

নজরুল মূল ফার্সি ভাষা থেকে হাফিজের রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেছিলেন। হাফিজের রুবাইয়াৎ সম্পর্কে কবির নিজস্ব মূল্যায়ন ছিল বেশ গভীর। তিনি লিখেছেন, “সত্যকার হাফিজকে চিনতে হলে তাঁর গজল-গান—প্রায় পঞ্চশতাধিক পড়তে হয়। তাঁর রুবাইয়াৎ বা চতুষ্পদী কবিতাগুলি পড়ে মনে হয়, এ যেন তাঁর অবসর কাটানোর জন্যই লেখা। তবে এ ক্ষুদ্র বিম্ব হলেও এতে সারা আকাশের গ্রহ তারার প্রতিবিম্ব পড়ে এক রামধনুর কণার মতো রাঙিয়ে তুলেছে।” এ যেন তাঁর অতল সমুদ্রের বুদ্বুদ-কণা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে নজরুল স্মরণে বিশেষ আয়োজন

আপডেট সময় ১১:৫৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রতি বছরের ১২ অক্টোবর ইরানে ‘হাফিজ দিবস’ বা ‘হাফিজ মেমোরিয়াল ডে’ উদযাপিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীর বিশ্ববিখ্যাত পারস্য কবি হাফিজের সুফি দর্শন ও সাহিত্যিক অবদানের স্মরণে আয়োজিত এই বিশেষ দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘তরুণ ইরান-কবি কাঁদে নিরজনে’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য ছিল কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতে ইরানীয় প্রভাবের নানা দিক। অবশ্য এতেও তাঁর সেই দর্শন, সেই প্রেম, সেই শারাব, সাকী তেমনিভাবেই জড়িয়ে আছে।

অনুষ্ঠানটি গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়ে টানা দুই ঘণ্টা চলে। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম এবং ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। এ ছাড়াও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ হাসান ইমরান, ওয়াএজুল হক এবং লেখক মনিরুল ইসলাম অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। ছায়ানটের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য বক্তারা আয়োজকদের প্রশংসা করেন। ২ ঘণ্টা ব্যাপী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম, ছায়ানট (কলকাতা)-এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।

অনুষ্ঠানের বাচিকশিল্পীরা নজরুল অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ ও ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ থেকে বিভিন্ন রুবাই পাঠ করেন। পাঠে অংশ নেন তিস্তা দে, সোমা রায়, অন্বেষা মুখার্জি, দেবলীনা চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা রায়, পারমিতা চৌধুরী, পিয়ালী ঘোষ, মৌমিতা ঘোষ ও অনিন্দিতা ঘোষ। এরপর সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়। চম্পা মিত্র, বিচিত্রা ঘোষ, নন্দিনী নন্দীসহ নয়জন শিল্পীর কণ্ঠে ‘পরি জাফরানি ঘাগরি’ ও ‘বুলবলি নীরব নার্গিস-বনে’-এর মতো নজরুলের ইরান-অনুপ্রাণিত গানগুলো শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। সোমঋতা মল্লিক নিজেও অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের সুচিন্তিত বক্তব্য অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেতভাবে পরিবেশিত হয় ২টি নজরুলসংগীত, যেখানে নজরুল ইরান প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন অথবা ইরানীয় সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। নাচে ইরানি মেয়ে, শুকনো পাতার নূপুর পায়ে, ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি—অনুষ্ঠানের বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে সোমঋতা চমৎকারভাবে গানগুলো নির্বাচন করেন।

পুত্র বুলবুলের মৃত্যুর শোকের সময়েই নজরুল তাঁর অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ বইটি উৎসর্গ করেছিলেন। এই বইটির মুখবন্ধে কবি লিখেছিলেন, “বাঙলার শাসনকর্ত্তা গিয়াসুদ্দিনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন। আমার আহ্বান উপেক্ষিত হয়নি। যে পথ দিয়ে আমার পুত্রের জানাজা (শব-যান) চলে গেল, সেই পথ দিয়ে আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম ইরানী কবি আমার দ্বারে এলেন। আমার চোখের জলে তাঁর চরণ অভিষিক্ত হল।”

নজরুল মূল ফার্সি ভাষা থেকে হাফিজের রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেছিলেন। হাফিজের রুবাইয়াৎ সম্পর্কে কবির নিজস্ব মূল্যায়ন ছিল বেশ গভীর। তিনি লিখেছেন, “সত্যকার হাফিজকে চিনতে হলে তাঁর গজল-গান—প্রায় পঞ্চশতাধিক পড়তে হয়। তাঁর রুবাইয়াৎ বা চতুষ্পদী কবিতাগুলি পড়ে মনে হয়, এ যেন তাঁর অবসর কাটানোর জন্যই লেখা। তবে এ ক্ষুদ্র বিম্ব হলেও এতে সারা আকাশের গ্রহ তারার প্রতিবিম্ব পড়ে এক রামধনুর কণার মতো রাঙিয়ে তুলেছে।” এ যেন তাঁর অতল সমুদ্রের বুদ্বুদ-কণা।