ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

গাজায় মৃত্যুর ঘটনা রুখতে ও বিচার নিশ্চিতের আহ্বান আমির

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাতার তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কাতারের আমীর আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভাই এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের অঞ্চল স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে।”। গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার জনেরও বেশি। হতাহতদের একটি বিশাল অংশ নারী ও শিশু। এছাড়া গাজ উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার শুনানি চলমান রয়েছে, যেখানে আরও কয়েকটি দেশ সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিয়েছে।

এদিকে কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এই যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ৪৯৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন।

তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা গাজায় বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত। ইসরায়েলি বাধার কারণে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও আশ্রয়ের মতো জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবরুদ্ধ এই জনপদে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া গাজ্জায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, আশ্রয় সামগ্রী এবং তৈরি আবাসিক ঘরের পরিমাণও ইসরাইল আটকে দিচ্ছে। তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

গাজায় মৃত্যুর ঘটনা রুখতে ও বিচার নিশ্চিতের আহ্বান আমির

আপডেট সময় ১০:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাতার তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কাতারের আমীর আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভাই এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের অঞ্চল স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে।”। গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার জনেরও বেশি। হতাহতদের একটি বিশাল অংশ নারী ও শিশু। এছাড়া গাজ উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার শুনানি চলমান রয়েছে, যেখানে আরও কয়েকটি দেশ সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিয়েছে।

এদিকে কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এই যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ৪৯৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন।

তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা গাজায় বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত। ইসরায়েলি বাধার কারণে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও আশ্রয়ের মতো জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবরুদ্ধ এই জনপদে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া গাজ্জায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, আশ্রয় সামগ্রী এবং তৈরি আবাসিক ঘরের পরিমাণও ইসরাইল আটকে দিচ্ছে। তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।