ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে নীরব ছিল সৌদি সতর্কতা ব্যবস্থা

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে জনসতর্কতা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে—এমন একটি ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সতর্কবার্তা প্রচার করলে সহিংসতার বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসত, যা সরকারের সেই কৌশলের পরিপন্থী।

নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চারজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো ও সৌদি শিক্ষাবিদ সুলতান আলামের জানান, সৌদি সরকার দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে তারা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আস্থা ধরে রাখতে সচেষ্ট।

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘সিভিল ডিফেন্স’ সাধারণত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের দায়িত্বে থাকে। রয়টার্স এ বিষয়ে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে ই-মেইলে জানতে চাইলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এমন নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অবশেষে গত সোমবার ২৯ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা জারি করে রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোর নাগরিকদের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সচেতন করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় সতর্কবার্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভূমিকা ভিন্ন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো হামলার আগেই মোবাইল ফোনে আগাম সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়ে থাকে। কুয়েত ও বাহরাইনও বারবার সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে। সৌদি আরব গত মে মাস থেকে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কার্যকর করলেও, গত সপ্তাহের হামলার আগে পরিস্থিতির অবনতি হওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর ছিল না।

সিভিল ডিফেন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের হামলার আগে সর্বশেষ সতর্কবার্তাটি দেওয়া হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর, যেখানে নাজরান প্রদেশের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টি বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে সিভিল ডিফেন্স তাদের সতর্কতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে; এমনকি সোমবারও এ ধরনের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিগামী ফ্লাইটে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে নির্দেশ

বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে নীরব ছিল সৌদি সতর্কতা ব্যবস্থা

আপডেট সময় ০১:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে জনসতর্কতা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে—এমন একটি ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সতর্কবার্তা প্রচার করলে সহিংসতার বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসত, যা সরকারের সেই কৌশলের পরিপন্থী।

নিরাপত্তাব্যবস্থার সক্ষমতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চারজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো ও সৌদি শিক্ষাবিদ সুলতান আলামের জানান, সৌদি সরকার দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে তারা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আস্থা ধরে রাখতে সচেষ্ট।

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘সিভিল ডিফেন্স’ সাধারণত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের দায়িত্বে থাকে। রয়টার্স এ বিষয়ে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে ই-মেইলে জানতে চাইলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এমন নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অবশেষে গত সোমবার ২৯ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা জারি করে রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোর নাগরিকদের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সচেতন করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় সতর্কবার্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভূমিকা ভিন্ন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো হামলার আগেই মোবাইল ফোনে আগাম সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়ে থাকে। কুয়েত ও বাহরাইনও বারবার সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে। সৌদি আরব গত মে মাস থেকে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কার্যকর করলেও, গত সপ্তাহের হামলার আগে পরিস্থিতির অবনতি হওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর ছিল না।

সিভিল ডিফেন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের হামলার আগে সর্বশেষ সতর্কবার্তাটি দেওয়া হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর, যেখানে নাজরান প্রদেশের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টি বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে সিভিল ডিফেন্স তাদের সতর্কতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে; এমনকি সোমবারও এ ধরনের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।