ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

লাকি লিটন: সেঞ্চুরির দিনে কেন বার বার আলোচনায় ৭

আবুধাবি টেস্টে লিটন দাসের সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথটা ছিল অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ম্যাচের সকালের সেশনে তৃতীয় ওভারে কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। সেই সময় লিটন ব্যক্তিগত ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন, যা কি না ‘৭’ সংখ্যাটির ঠিক দ্বিগুণ। ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকের কাছেই ৭ সৌভাগ্যের প্রতীক। লিটনের ওই ‘ডাবল লাকি সেভেনে’ বেঁচে যাওয়া দেখে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল—তবে কি আজ তাঁর সেঞ্চুরি অনিবার্য? শেষ পর্যন্ত সপ্তম ইনিংসে এসে তিনি পূর্ণ করেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরিটি। বিশ্বের প্রায় সব সংস্কৃতির মানুষের বিশ্বাস, ৭ সংখ্যাটি সৌভাগ্যের প্রতীক। আবুধাবি টেস্টের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশ তখন লিড যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নেওয়ার পথে। আর সেই ফিফটির আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ০, ০ এবং ০। ৭—সংখ্যাটি যেহেতু সৌভাগ্যের প্রতীক, সংখ্যাতত্ত্বের ইঙ্গিত তো কিছুটা ছিলই। টেস্টে তাঁর ৬ নম্বর সেঞ্চুরির ইনিংস থেকে হিসাব করলে ৭ নম্বর সেঞ্চুরিটা (১০২) পেলেন আজ সপ্তম ইনিংসে।

ম্যাচে লিটনের টিকে থাকাটা ছিল বিস্ময়কর। ২৬ রানে থাকা অবস্থায় কায়েসের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু বলের প্রচণ্ড গতির কারণে সেটি লুফে নিতে পারেননি বোলার। পরে ৬৭ রানে থাকা অবস্থায় আফগান পেসার ইয়ামিনের বলে লিটনের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটকিপারের গ্লাভসে জমা পড়লেও, রিভিউ না থাকায় বেঁচে যান তিনি। ধারাভাষ্যকারদের মুখে বারবার ‘লাকি লিটন’ বিশেষণটি তখন সার্থক হয়ে উঠছিল। তখনই কী সেঞ্চুরিটা লেখা হয়ে গিয়েছিল লিটনের কপালে। একটু তুক–তাকে বিশ্বাসী তাঁর ভক্তরা ব্যাপারটা কী তখনই আঁচ করতে পেরেছিলেন। লিটন সেখানে সকালেই ‘জীবন’ পাওয়ায় তাঁর কাছে সেঞ্চুরিটা বহুদিক বিচারেই পাওনা ছিল।

৭ সংখ্যাটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও গাণিতিক মহিমা। ১ থেকে ১০ এর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় প্রাইম নাম্বার বা মৌলিক সংখ্যা। গবেষকদের মতে, ১ থেকে ১০ এর মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে সহজে যে সংখ্যাটি মনে রাখতে পারে, তা হলো ৭। সপ্তাহের সাত দিন, রংধনুর সাতটি রং, পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ—প্রকৃতিতে এই সংখ্যার উপস্থিতি অপরিসীম। এমনকি টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের এই ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি উইকেটকিপার হিসেবে তাঁকে ভারতের কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ডের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা অনেকের কাছে কাকতালীয় মনে হলেও তুকতাকে বিশ্বাসীরা ধোনির জার্সি নম্বর ৭-এর সাথে এর সংযোগ খুঁজে পান।

ক্রিকেটে অবশ্য এসব বিশ্বাসের চেয়ে পারফরম্যান্সই বড় সত্য। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে চমৎকার পারফরম্যান্সের পর লিটন টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। সেই খরা কাটিয়ে আবুধাবি টেস্টে তিনি শুধু রানই পাননি, উপহার দিয়েছেন চোখজুড়ানো সব শট। বিশেষ করে ইয়ামিনের বলে তাঁর স্ট্রেট ড্রাইভগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

ফিল্ডিংয়েও লিটন ছিলেন দুর্দান্ত। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকের সময় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নেওয়া ক্যাচ কিংবা আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে করা স্টাম্পিং—সব মিলিয়ে এই টেস্টে তাঁর ক্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬টি। উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডে খালেদ মাহমুদের পাশে বসেছেন তিনি। ২০০৪ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই রেকর্ডটি গড়েছিলেন খালেদ মাহমুদ। আর তাঁর মোট ডিসমিসালের সংখ্যাটি যদি জানতে চান, তবে লুডোর ছক্কার কথা ভাবুন। লুডোর ছক্কায় দুই বিপরীত পাশের অঙ্কগুলোর যোগফল সব সময় ৭ হয়; ঠিক সেভাবেই লুকিয়ে আছে লিটনের ডিসমিসাল সংখ্যাটিও।

লিটনের এই সেঞ্চুরি কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং ক্রিকেটের সংখ্যাতত্ত্ব ও ভাগ্যের খেলা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা তিন ইনিংসে শূন্যের তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে লিটন এখন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং স্তম্ভে পরিণত হয়েছেন। মাঠে ঘামে ভেজা পারফরম্যান্স আর ভাগ্যের সহায়তা—এই দুয়ের মিশেলেই আবুধাবি টেস্টে লিটন দাস নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাকি লিটন: সেঞ্চুরির দিনে কেন বার বার আলোচনায় ৭

আপডেট সময় ০৬:২০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আবুধাবি টেস্টে লিটন দাসের সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথটা ছিল অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ম্যাচের সকালের সেশনে তৃতীয় ওভারে কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। সেই সময় লিটন ব্যক্তিগত ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন, যা কি না ‘৭’ সংখ্যাটির ঠিক দ্বিগুণ। ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকের কাছেই ৭ সৌভাগ্যের প্রতীক। লিটনের ওই ‘ডাবল লাকি সেভেনে’ বেঁচে যাওয়া দেখে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল—তবে কি আজ তাঁর সেঞ্চুরি অনিবার্য? শেষ পর্যন্ত সপ্তম ইনিংসে এসে তিনি পূর্ণ করেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরিটি। বিশ্বের প্রায় সব সংস্কৃতির মানুষের বিশ্বাস, ৭ সংখ্যাটি সৌভাগ্যের প্রতীক। আবুধাবি টেস্টের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশ তখন লিড যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নেওয়ার পথে। আর সেই ফিফটির আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ০, ০ এবং ০। ৭—সংখ্যাটি যেহেতু সৌভাগ্যের প্রতীক, সংখ্যাতত্ত্বের ইঙ্গিত তো কিছুটা ছিলই। টেস্টে তাঁর ৬ নম্বর সেঞ্চুরির ইনিংস থেকে হিসাব করলে ৭ নম্বর সেঞ্চুরিটা (১০২) পেলেন আজ সপ্তম ইনিংসে।

ম্যাচে লিটনের টিকে থাকাটা ছিল বিস্ময়কর। ২৬ রানে থাকা অবস্থায় কায়েসের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু বলের প্রচণ্ড গতির কারণে সেটি লুফে নিতে পারেননি বোলার। পরে ৬৭ রানে থাকা অবস্থায় আফগান পেসার ইয়ামিনের বলে লিটনের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটকিপারের গ্লাভসে জমা পড়লেও, রিভিউ না থাকায় বেঁচে যান তিনি। ধারাভাষ্যকারদের মুখে বারবার ‘লাকি লিটন’ বিশেষণটি তখন সার্থক হয়ে উঠছিল। তখনই কী সেঞ্চুরিটা লেখা হয়ে গিয়েছিল লিটনের কপালে। একটু তুক–তাকে বিশ্বাসী তাঁর ভক্তরা ব্যাপারটা কী তখনই আঁচ করতে পেরেছিলেন। লিটন সেখানে সকালেই ‘জীবন’ পাওয়ায় তাঁর কাছে সেঞ্চুরিটা বহুদিক বিচারেই পাওনা ছিল।

৭ সংখ্যাটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও গাণিতিক মহিমা। ১ থেকে ১০ এর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় প্রাইম নাম্বার বা মৌলিক সংখ্যা। গবেষকদের মতে, ১ থেকে ১০ এর মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে সহজে যে সংখ্যাটি মনে রাখতে পারে, তা হলো ৭। সপ্তাহের সাত দিন, রংধনুর সাতটি রং, পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ—প্রকৃতিতে এই সংখ্যার উপস্থিতি অপরিসীম। এমনকি টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের এই ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি উইকেটকিপার হিসেবে তাঁকে ভারতের কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ডের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা অনেকের কাছে কাকতালীয় মনে হলেও তুকতাকে বিশ্বাসীরা ধোনির জার্সি নম্বর ৭-এর সাথে এর সংযোগ খুঁজে পান।

ক্রিকেটে অবশ্য এসব বিশ্বাসের চেয়ে পারফরম্যান্সই বড় সত্য। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে চমৎকার পারফরম্যান্সের পর লিটন টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। সেই খরা কাটিয়ে আবুধাবি টেস্টে তিনি শুধু রানই পাননি, উপহার দিয়েছেন চোখজুড়ানো সব শট। বিশেষ করে ইয়ামিনের বলে তাঁর স্ট্রেট ড্রাইভগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

ফিল্ডিংয়েও লিটন ছিলেন দুর্দান্ত। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকের সময় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নেওয়া ক্যাচ কিংবা আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে হাশমতউল্লাহ শহীদিকে করা স্টাম্পিং—সব মিলিয়ে এই টেস্টে তাঁর ক্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬টি। উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডে খালেদ মাহমুদের পাশে বসেছেন তিনি। ২০০৪ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই রেকর্ডটি গড়েছিলেন খালেদ মাহমুদ। আর তাঁর মোট ডিসমিসালের সংখ্যাটি যদি জানতে চান, তবে লুডোর ছক্কার কথা ভাবুন। লুডোর ছক্কায় দুই বিপরীত পাশের অঙ্কগুলোর যোগফল সব সময় ৭ হয়; ঠিক সেভাবেই লুকিয়ে আছে লিটনের ডিসমিসাল সংখ্যাটিও।

লিটনের এই সেঞ্চুরি কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং ক্রিকেটের সংখ্যাতত্ত্ব ও ভাগ্যের খেলা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা তিন ইনিংসে শূন্যের তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে লিটন এখন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং স্তম্ভে পরিণত হয়েছেন। মাঠে ঘামে ভেজা পারফরম্যান্স আর ভাগ্যের সহায়তা—এই দুয়ের মিশেলেই আবুধাবি টেস্টে লিটন দাস নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন।